চতুর্থভাগ উদ্যোগপর্ব -ধর্মের নামে যুদ্ধের দামামা: সঞ্জয়কে কৃষ্ণের শেষ হুঁশিয়ারি


চতুর্থভাগ উদ্যোগপর্ব -ধর্মের নামে যুদ্ধের দামামা: সঞ্জয়কে কৃষ্ণের শেষ হুঁশিয়ারি

কৃষ্ণ তখন গম্ভীর মুখে সঞ্জয়ের দিকে তাকালেন। বললেন, "সঞ্জয়, আমি যেমন পাণ্ডবদের ধ্বংস থেকে বাঁচাতে চাই, তাঁদের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিতে চাই, ঠিক তেমনই ধৃতরাষ্ট্রেরও শান্তি আর সমৃদ্ধি কামনা করি। আমার একটাই চাওয়া—দুই পক্ষই যেন শান্ত থাকে। যুধিষ্ঠির নিজে শান্তিপ্রিয়, একথা আমি জানি আর সবার সামনে স্বীকারও করছি। কিন্তু সঞ্জয়, শান্তি হওয়াটা সহজ মনে হচ্ছে না। ধৃতরাষ্ট্র যখন নিজের ছেলেদের সঙ্গে মিলে লোভের বশে পাণ্ডবদের রাজ্য দখল করতে চাইছেন, তখন বিবাদ তো বাড়বেই।

বি:দ্র:এখানে এগিয়ে যাওয়ার আগে সঞ্জয় সম্পর্কে সংক্ষেপে আমাদের যা জানা দরকার তা তুলে ধরা হলো যা জানতে এখানে ক্লিক করুন 

তুমি জানো, আমার দ্বারা বা যুধিষ্ঠিরের দ্বারা ধর্মলোপ হতে পারে না। তাহলে যে মানুষ সবসময় নিষ্ঠার সাথে ধর্ম পালন করে, তার ধর্মলোপের ভয় তুমি কেন পাচ্ছ? যুধিষ্ঠির তো শুরু থেকেই শাস্ত্রমতে কুটুম্বদের সঙ্গে চলেছেন। নিজের রাজ্যের অংশ ফিরে পাওয়ার চেষ্টাকে তুমি ধর্মলোপ বলছ কীভাবে? সংসারে থেকেও তো এই বিধান আছে—শুধু ব্রাহ্মণরাই সব ত্যাগ করে বনবাসের কথা ভাবেন। কেউ গৃহস্থ থেকে কর্মের মাধ্যমে সিদ্ধি পান, কেউ কর্ম ত্যাগ করে জ্ঞানের পথে সিদ্ধি খোঁজেন—কিন্তু না খেলে তো ক্ষুধা মেটে না। তাই জ্ঞানী ব্রহ্মবেত্তার জন্যও গৃহস্থের কাছে ভিক্ষা নেওয়ার নিয়ম আছে। যাঁরা শুধু কর্মত্যাগ আর সন্ন্যাসকেই সবচেয়ে বড় বলে মনে করেন, তাঁরা আসলে দুর্বল, তাঁদের কথার কোনো ওজন নেই।

সঞ্জয়, তুমি তো সব ধর্মের কথা জানো—ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, সবার ধর্মই তোমার অজানা নয়। এত জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তুমি কৌরবদের হয়ে এমন হঠকারী কথা বলছ কেন? যুধিষ্ঠির নিয়মিত শাস্ত্রপাঠ করেন, অশ্বমেধ আর রাজসূয় যজ্ঞও করেছেন। তাঁর কাছে ধনুক, কবচ, হাতি, ঘোড়া, রথ—সবই আছে। পাণ্ডবরা নিজেদের ধর্ম মেনেই কাজ করেন, আর ক্ষত্রিয়ের যুদ্ধে যদি দৈববশত মৃত্যুও হয়, সেই মৃত্যুকেও উত্তম বলে মানা হয়। তুমি যদি মনে করো সব ছেড়ে শান্ত থাকাই ধর্মপালন, তাহলে বলো—যুদ্ধ করাটা রাজার ধর্ম, নাকি পিঠ দেখিয়ে পালানোটা? এই প্রশ্নের উত্তর আমি তোমার কাছে জানতে চাই।

বি:দ্র:যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞ সমাপনের কাহিনি জানতে এখানে ক্লিক করুন 

ধর্মমতে পাণ্ডবদের যে রাজ্যাংশ প্রাপ্য, ধৃতরাষ্ট্র তা নিজের অধিকারে রাখতে চাইছেন, তাঁর ছেলেরাও তাঁকে উসকে দিচ্ছে। কেউ সনাতন রাজধর্মের কথা ভাবছেই না! লুটেরা যেভাবে ধন কেড়ে নেয়, আর ডাকাত যেভাবে জোর করে ছিনিয়ে নেয়—দুজনেই নিন্দনীয়। সঞ্জয়, তুমিই বলো, দুর্যোধনের সঙ্গে এদের তফাত কোথায়? দুর্যোধন ক্রোধের বশে ছলনা করে রাজ্য দখল করেছে, লোভকে ধর্ম ভেবে সেটাই ধরে রাখতে চাইছে। অথচ পাণ্ডবদের রাজ্য তো ছিল একরকম গচ্ছিত রাখা জিনিস—কৌরবরা সেটা নিজেদের বলে দাবি করে কীভাবে?

দুর্যোধন যাদের যুদ্ধের জন্য জড়ো করেছেন, সেই মূর্খ রাজারা অহংকারবশত মৃত্যুর ফাঁদে পা দিচ্ছেন। সঞ্জয়, একবার মনে করো সেই সভার কথা, যেখানে কৌরবরা যে পাপ করেছিল। রজস্বলা অবস্থায় দ্রৌপদীকে টেনে আনা হয়েছিল, আর ভীষ্মের মতো মানুষরাও সেদিন চুপ করে বসে ছিলেন। সেদিন যদি কেউ দুঃশাসনকে থামাত, তাহলে সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রিয় কাজ হতো, ধৃতরাষ্ট্রের ছেলেদেরও মঙ্গল হতো। সভায় এত রাজা ছিলেন, কিন্তু ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। শুধু বিদুর নিজের ধর্ম মেনে দুর্যোধনকে বারণ করেছিলেন।

বি:দ্র:রজস্বলা অবস্থায় দ্রৌপদীকে টেনে আনার কাহিনি ঝালিয়ে নিতে এখানে ক্লিক করুন ,

সঞ্জয়, ধর্ম না জেনেই তুমি যুধিষ্ঠিরকে ধর্মের উপদেশ দিতে এসেছ? দ্রৌপদী সেদিন সেই সভায় যা করেছিলেন, তা তাঁর স্বামীদের বাঁচিয়েছিল, যদিও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল অসংখ্য অপমান। নিজের শ্বশুরদের সামনে দাঁড়িয়েও কর্ণ তাঁকে বলেছিল—তোর আর কোনো উপায় নেই, দাসী হয়ে যা, তোর স্বামী তো তোকে পাশা খেলায় হারিয়েছে। বনে যাওয়ার সময় দুঃশাসন বলেছিল—এই নপুংসকরা শেষ হয়ে গেল, চিরকালের জন্য নরকে পড়ে থাকবে। পাশা খেলার সময় আরও কত অপমানজনক কথা বলা হয়েছিল, তা তোমার অজানা নয়। তবু সেই ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর জন্য আমি নিজে হস্তিনাপুরে যেতে চাই। পাণ্ডবদের স্বার্থ নষ্ট না করে যদি সন্ধি সম্ভব হয়, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পুণ্যের কাজ, আর কৌরবরাও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচবে। কৌরবরা যেন লতা, পাণ্ডবরা গাছের শাখা—শাখার সাহায্য ছাড়া লতা বাড়তে পারে না। পাণ্ডবরা সেবাও করতে প্রস্তুত, যুদ্ধও করতে প্রস্তুত। এখন ধৃতরাষ্ট্র যা ভালো মনে করেন, করুন। তুমি এই কথাগুলো তাঁকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বোলো।"

সঞ্জয় বিনীতভাবে বললেন, "পাণ্ডুনন্দন, আপনার মঙ্গল হোক। আমি এবার বিদায় নিতে চাই। আবেগের বশে কিছু কথা হয়তো বলেছি, তাতে কি আপনি কষ্ট পাননি তো?"

যুধিষ্ঠির হাসিমুখে বললেন, "সঞ্জয়, তুমি যেতে পারো, তোমার মঙ্গল হোক। তুমি আমাকে কষ্ট দেওয়ার কথা ভাবতেই পারো না। আমরা সবাই জানি তোমার মন শুদ্ধ, তুমি কারো পক্ষ নিয়ে কথা বলো না। তুমি বিশ্বস্ত, তোমার কথা সবসময় কল্যাণের জন্য, আর এই কারণেই তুমি আমার প্রিয়। কড়া কথা শুনলেও তোমার রাগ হয় না। তুমি বিদুরের মতোই আমার প্রিয় দূত, অর্জুনেরও প্রিয় বন্ধু।

বি:দ্র: বিদুরের জন্ম কাহিনি জানতে এখানে ক্লিক করুন 

হস্তিনাপুরে গিয়ে তুমি আমার হয়ে সব ব্রাহ্মণ, সন্ন্যাসী, বনবাসী তপস্বী আর বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের প্রণাম জানিও। আচার্য দ্রোণকে প্রণাম দিও, অশ্বত্থামার কুশল জিজ্ঞেস কোরো, কৃপাচার্যের বাড়ি গিয়ে তাঁর পা ছুঁয়ে আমার প্রণাম জানিও। আর যাঁর মধ্যে শৌর্য, তপস্যা, বুদ্ধি—সবকিছু আছে, সেই ভীষ্মের চরণে আমার প্রণাম পৌঁছে দিও। ধৃতরাষ্ট্রকে প্রণাম করে আমার কুশল জানিও, দুর্যোধন-দুঃশাসন-কর্ণদেরও কুশল সংবাদ দিও। দুর্যোধন যুদ্ধের জন্য যেসব রাজাদের জড়ো করেছেন, তাদের মধ্যে যারা সৎ, ভালো মানুষ, তাদের কুশলও জেনো।

আর সঞ্জয়, বিদুরকে বোলো—তিনি আমাদের প্রিয়, গুরু, পিতা, বন্ধু, মন্ত্রী সবকিছু, তাঁর কুশল জেনো। কুরুকুলের সব বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে প্রণাম জানিও, আর আমার ভাইদের স্ত্রীদের জিজ্ঞেস কোরো—তারা কি শ্বশুরবাড়িতে ভালোভাবে সংসার সামলাচ্ছে, স্বামীদের প্রসন্ন রাখছে তো?

দুর্যোধনকে বোলো—আমি কিছু ব্রাহ্মণের জন্য বৃত্তি ঠিক করে রেখেছিলাম, কিন্তু তার লোকেরা তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে না বলে শুনছি, এটা যেন আগের মতোই ঠিক হয়। বাকি সব অতিথি-দূতদেরও কুশল জেনো আর আমাদের কুশল জানিও। দুর্যোধন যত যোদ্ধাই জড়ো করুক, ধর্মই চিরস্থায়ী—শত্রুনাশের জন্য আমার একমাত্র অস্ত্র হলো ধর্ম। দুর্যোধনকে এটাও জানিও—কৌরবরা যে নিষ্কণ্টক রাজ্যভোগ করবে, সেটা হতে দেব না। হয় ইন্দ্রপ্রস্থ আমাদের ফিরিয়ে দাও, নাহলে যুদ্ধ করো।

সঞ্জয়, ভালো-মন্দ, ছোট-বড়, দুর্বল-সবল—সবাই তো নিয়তির অধীন। আমার সৈন্যবল সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞেস করলে সঠিক অবস্থাটাই জানিও। রাজা ধৃতরাষ্ট্রকে গিয়ে প্রণাম করে বোলো—আপনার শক্তিতেই পাণ্ডবরা এতদিন সুখে ছিল, ছোটবেলায় আপনার কৃপাতেই রাজ্য পেয়েছিল। একবার রাজ্য দিয়ে এখন তা নষ্ট হতে দেখেও যেন আপনি চুপ করে না থাকেন। বোলো—এই রাজ্য একজনের জন্য যথেষ্ট নয়, আমরা সবাই মিলে থাকলে কখনো শত্রুর কাছে হার মানতে হবে না।

পিতামহ ভীষ্মকে আমার নাম করে প্রণাম জানিয়ে বোলো—এই শান্তনু বংশের মর্যাদা একবার নেমে গিয়েছিল, আপনিই আবার তা তুলে ধরেছেন। এখন আপনার বুদ্ধিতেই এমন কোনো উপায় বের করুন, যাতে আপনার নাতিরা পরস্পর সৌহার্দ্যে থাকতে পারে। মন্ত্রী বিদুরকেও বোলো—আপনি সবসময় আমার মঙ্গল চান, তাই যুদ্ধ যেন না হয়, এই পরামর্শই দিন।

বি:দ্র: শান্তনু ও ভীষ্মর কাহিনি এখানে ঝালিয়ে নিন।

আর দুর্যোধনকে বারবার অনুনয় করে বোলো—তুমি কৌরব বংশের ধ্বংসের কারণ হয়ো না। এত শক্তিশালী হয়েও পাণ্ডবদের যে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, সে কথা সব কৌরবই জানে। তোমার অনুমতিতেই দুঃশাসন দ্রৌপদীর চুল ধরে অপমান করেছিল—সেই অপরাধের হিসেবও আমরা রাখিনি। কিন্তু এবার আমরা আমাদের প্রাপ্য অংশটুকু চাই। অন্যের ধনের লোভ কোরো না, তাহলেই শান্তি আসবে। আমরা শান্তি চাই, তুমি শুধু রাজ্যের এক ভাগ দিয়ে দাও। দুর্যোধন, অবিস্থল, বৃকস্থল, মাকশী, বারণাবত—এই পাঁচটা গ্রাম দিয়ে দাও, আমরা পাঁচ ভাই এই পাঁচটা গ্রামেই সন্তুষ্ট থাকব, শুধু যুদ্ধটা থামুক।

সঞ্জয়, আমি শান্তি রাখতেও সক্ষম, আবার যুদ্ধ করতেও সক্ষম। ধর্মশাস্ত্র আর অর্থশাস্ত্র দুটোই আমার জানা। প্রয়োজনে আমি নরমও হতে পারি, আবার কঠোরও হতে পারি।"

যুধিষ্ঠিরের অনুমতি নিয়ে সঞ্জয় বিদায় নিলেন। হস্তিনাপুরে পৌঁছে সোজা গেলেন রাজপ্রাসাদে। দ্বারপালকে বললেন, "প্রহরী, রাজাকে গিয়ে বলো আমি এসেছি, খুব জরুরি কথা আছে।"

দ্বারপাল গিয়ে জানাল, "মহারাজ, সঞ্জয় এসেছেন পাণ্ডবদের কাছ থেকে, আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান।"

ধৃতরাষ্ট্র বললেন, "তাকে ভেতরে নিয়ে এসো, দেখা করতে আবার এত দেরি কীসের!"

সঞ্জয় ভেতরে গিয়ে হাতজোড় করে বললেন, "রাজন, প্রণাম। পাণ্ডবদের সঙ্গে দেখা করে এসেছি। যুধিষ্ঠির আপনাকে প্রণাম জানিয়ে আপনার কুশল জিজ্ঞেস করেছেন, আপনার পুত্র-নাতি-মিত্র সবাইকে নিয়ে আপনি আনন্দে আছেন কিনা জানতে চেয়েছেন।"

ধৃতরাষ্ট্র জিজ্ঞেস করলেন, "সঞ্জয়, ধর্মরাজ তার মন্ত্রী-পুত্র-ভাইদের নিয়ে কুশলে আছে তো?"

সঞ্জয় বললেন, "রাজন, যুধিষ্ঠির কুশলেই আছেন। কিন্তু তিনি এখন তাঁর ন্যায্য অংশ চান। তাঁরা ধর্ম আর নীতি দুটোই বোঝেন, বিদ্বান আর শীলবান। কিন্তু আপনি একটু নিজের কাজের দিকে তাকান। ধর্মপরায়ণ মানুষদের থেকে আপনার আচরণ একেবারে উল্টো, এতে এই জগতে আপনার নিন্দা হচ্ছে, আর পরকালেও এই পাপ আপনাকে ছাড়বে না। আপনি নিজের ছেলেদের বশে গিয়ে পাণ্ডবদের বাদ দিয়ে গোটা রাজ্য নিজের করে নিতে চাইছেন।

রাজন, এই কাজ আপনার মতো মানুষের উপযুক্ত নয়। যারা নীচু বংশে জন্মেছে, নিষ্ঠুর, দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা পুষে রাখে, অস্ত্রবিদ্যায় দক্ষ নয়—তাদের ওপরেই বিপদ নেমে আসে। যারা ভালো বংশে জন্মেছে, বলবান, বিদ্বান, সংযমী—তারাই ঠিকমতো সম্পদ পায়।

আপনার মন্ত্রীরা নিয়মিত বসে পাণ্ডবদের রাজ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন—এটাই কৌরবদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নিজেদের পাপে যদি কৌরবরা অসময়ে শেষ হয়ে যান, তাহলে সমস্ত দোষ আপনার ওপরই বর্তাবে, আর যুধিষ্ঠির তখন এদের ধ্বংস করতে চাইবেন। তখন জগৎ আপনাকেই নিন্দা করবে।

রাজন, এই দুনিয়ায় সুখ-দুঃখ, নিন্দা-প্রশংসা সবই মানুষ পায়। কিন্তু নিন্দা হয় তারই, যে অন্যায় করে, প্রশংসা হয় তারই, যার আচরণ ভালো। আমি ভরতবংশে বিরোধ বাড়ানোর জন্য আপনারই নিন্দা করছি। এই বিরোধ প্রজাদের সর্বনাশ ডেকে আনবে। এই জগতে এমনভাবে ছেলের অধীন হয়ে থাকতে আমি একমাত্র আপনাকেই দেখেছি। আপনি এমন সব মানুষ জড়ো করেছেন, যারা বিশ্বাসের যোগ্য নয়, বরং যারা বিশ্বস্ত তাদেরই শাস্তি দিচ্ছে। এই দুর্বলতার জন্যই আপনি নিজের রাজ্য রক্ষা করতে পারবেন না।

এখন রথে চড়ে আসতে আমি বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, অনুমতি দিলে একটু বিশ্রাম নিই। সকালে সভায় সবাই মিলে যুধিষ্ঠিরের কথা শুনব।"

ধৃতরাষ্ট্র মাথা নেড়ে বললেন, "সূতপুত্র, তুমি যাও, ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নাও। সকালে সভায় সবাই তোমার মুখে যুধিষ্ঠিরের বার্তা শুনবে।"

সেই রাতে হস্তিনাপুরের প্রাসাদে একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছিল। শান্তির প্রস্তাব আর যুদ্ধের হুমকি—দুটোই যেন একসাথে ভেসে বেড়াচ্ছিল বাতাসে, আর কেউ জানত না, পরদিন সকালের সভায় কোন দিকে হেলে পড়বে ভরতবংশের ভাগ্য।

বি:দ্র:এর পরের ভাগে থকছে ধৃতরাষ্ট্রকে বিদুরের নীতির উপদেশ (বিদুর নীতি) যাহলো মহাভারতের উদ্যোগ পর্বের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিখ্যাত অধ্যায়।

বি: দ্র: আমি সংক্ষিপ্ত মহাভারতের আদি পর্ব ৭১তম  ভাগে, সভা পর্ব ১৬তম ভাগে, বনপর্ব ৬৫তম ভাগে এবং বিরাট পর্ব ১১ভাগে সম্পন্ন করেছি। এখন চলছে  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের উদ্যোগপর্বের  চতুর্থভাগের আলোচনা। এখন  উদ্যোগপর্ব চলবে।  

উদ্যোগপর্বের তৃতীয়ভাগের  সংক্ষিপ্ত আলোচনা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত ভাগ এই ব্লগে পেতে নিচের লিংকে  ক্লিক  করুন ।

সংক্ষিপ্ত  মহাভারতের বিষয়সূচি (Indexes of Brief Mahabharata ) 

আপনার যদি কোনো জিজ্ঞাসা, প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, তবে নিচের comment boxএ লিখুন :


Comments

Popular posts from this blog

মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি-প্রথম পাতা

মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা

সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)