চরম মুহূর্ত: বিদুরের হস্তিনাপুর ত্যাগ
চতুর্থ ভাগ: বন পর্ব চরম মুহূর্ত: বিদুরের হস্তিনাপুর ত্যাগ কাম্যক বনের গহন অন্ধকারে তখন শান্ত হয়ে আসছে দিন। পাণ্ডবরা নির্বাসনের এক রুক্ষ, অপরিচিত জীবনের সাথে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। মাথার ওপর মহীরুহদের ডালপালা জড়িয়ে তৈরি হয়েছে এক নিচ্ছিদ্র ছাদ; রাজপ্রাসাদের সেই ঐশ্বর্য, কোলাহল, রাজকীয় সমারোহ এখন কেবলই ধূসর স্মৃতি। বর্তমান বলতে এখন শুধু গাছের মূল, বাকলের তৈরি বসন আর সূর্যদেবের দেওয়া সেই অলৌকিক তাম্রপাত্র। হারিয়ে যাওয়া সবকিছু ছাড়াই কীভাবে বেঁচে থাকা যায়, তারই এক কঠিন, মন্থর পাঠ নিচ্ছিলেন তাঁরা। পাণ্ডবরা যখন বনের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন, হস্তিনাপুরের অন্দরমহলে তখন অন্য এক ঝড় ঘনীভূত হচ্ছিল। ধৃতরাষ্ট্র ভালো ছিলেন না। যেদিন পাণ্ডবরা তাঁর নগরী ছেড়ে চলে গেল, সেদিন থেকেই এক অদ্ভুত অস্থিরতা গ্রাস করেছে অন্ধ রাজাকে। নির্জন কক্ষে একা বসে তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন সেই অভিশপ্ত দিনগুলোর স্মৃতিতে—সেই পাশা খেলা, প্রকাশ্য রাজসভা, দ্রৌপদীর আলুলায়িত কেশ, ভীমের ভয়ানক প্রতিজ্ঞা আর পাঁচ রাজপুত্রের বল্কল পরে হেঁটে যাওয়ার সময় গোটা নগরীর সেই বুকফাটা কান্না। তিনি নিজে এই সবকিছুর অনুমতি দিয়েছিলেন। ...