দ্বিতীয় দ্যূতক্রীড়া: দ্বাদশ বর্ষের বনবাস
দ্বিতীয় দ্যূতক্রীড়া: দ্বাদশ বর্ষের বনবাস ইন্দ্রপ্রস্থের পথ ধরে রথ মাত্র কিছুটা পথ এগিয়েছিল, কিন্তু নিয়তি ততক্ষণে তার পাশা উল্টে দিয়েছে। হস্তিনাপুরের রাজসভায় দূর্যোধন নিজের চোখে দেখেছিলেন, পিতা ধৃতরাষ্ট্র পাণ্ডবদের সমস্ত কিছু ফিরিয়ে দিলেন—রাজ্য, অস্ত্র, স্বাধীনতা, আর আত্মসম্মান। তিনি দেখেছিলেন, যুধিষ্ঠির কেমন পরম শ্রদ্ধায় ধৃতরাষ্ট্রের চরণে প্রণত হলেন। ভীমের সেই চওড়া পিঠখানি যখন সভার সিংহদুয়ার পেরিয়ে মিলিয়ে গেল, দূর্যোধনের বুকের ভেতরটা তখন ঈর্ষা আর তিক্ততায় কালো হয়ে উঠেছিল। দুঃশাসনই প্রথম ছুটে এল তাঁর কাছে। কৌরবদের সেই মেজভাইটি তখনও কাঁপছিল অপমানে। প্রকাশ্য রাজসভায় দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে গিয়ে সে ব্যর্থ হয়েছে—একটার পর একটা শাড়ি টেনে টেনে তার দু-হাত অসাড় হয়ে গিয়েছিল, অথচ দ্রৌপদীর বসনের স্তূপ কেবলই বাড়ছিল। ধুঁকতে ধুঁকতে সে যখন দূর্যোধনের সামনে এসে দাঁড়াল, তার চোখে ছিল এক আসন্ন বিপদের আতঙ্ক। তারা কী ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে, সেটা সে এতক্ষণে বুঝতে পেরেছে। "দাদা," দুঃশাসন হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "একবার ঠান্ডা মাথায় ভেবে দ্যাখো আমরা কী করলাম। শিকার আমাদের হাতের মুঠোয় ছিল। রা...