অরণ্যে আসা সেই রাজা দুষ্মন্ত পুরুবংশের নৃপতি তখন ধর্মের কাল। পৃথিবীতে ন্যায় আর নীতি তখন কোনো পুঁথির অক্ষর নয়, মানুষের নিশ্বাসের মতো স্বাভাবিক। সেই সময়ে কুরুজাঙ্গলে রাজত্ব করতেন পুরুবংশের শ্রেষ্ঠ সন্তান দুষ্মন্ত। তাঁর সাম্রাজ্য ছিল দিগন্তবিস্তৃত—সমুদ্রের নোনা জল ছুঁয়ে থাকা তটরেখা থেকে শুরু করে ম্লেচ্ছদের অধিকৃত দুর্গম প্রান্তর—সবই ছিল তাঁর একক ছত্রছায়ায়। দুষ্মন্ত কেবল পেশিবহুল এক যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রজাপালনের এক ঋজু প্রতীক। তাঁর শাসনে প্রকৃতিও যেন অনুগত দাসের মতো আচরণ করত। সময়মতো বৃষ্টি নামত, পলি পড়া উর্বর জমিতে শস্যের ভারে নুয়ে পড়ত খেত। তাঁর রাজ্যে অভাব ছিল না, ছিল না চুরির ভয় কিংবা ক্ষুধার জ্বালা। ব্রাহ্মণরা নির্ভয়ে যজন-যাজন করতেন, আর সাধারণ মানুষ পরম শান্তিতে যাপন করত তাদের দিনরাত্রি। ব্যক্তি হিসেবে দুষ্মন্ত ছিলেন এক বিস্ময়। ধনুর্বিদ্যায় তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু গদাযুদ্ধে তাঁর পারদর্শিতা ছিল ত্রিভুবনের আলোচনার বিষয়। ঘোড়া কিংবা হাতি—যেকোনো পশুর পিঠে বসলে মনে হতো না তিনি কোনো অবাধ্য প্রাণীকে শাসন করছেন, বরং মনে হতো তিনি তাদের মনের ভাষা বুঝতে পারছেন। রণাঙ্গনে তিনি ব...