তিমির হননের গান: অর্জুনের মহানিষ্ক্রমণ ও একাকী সেই মহাশ্বেত পথ
তিমির হননের গান: অর্জুনের মহানিষ্ক্রমণ ও একাকী সেই মহাশ্বেত পথ। অরণ্য এখন ওদের চেনা হয়ে গেছে। চেনা হয়ে গেছে বনের নিজস্ব ভাষা, তার নৈঃশব্দ্য, আর দিনের নানা প্রহরের ওঠানামা। রাজপ্রাসাদের জটিল কূটনীতি বোঝার জন্য যে তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রয়োজন হতো, পাণ্ডবেরা এখন তা দিয়েই অরণ্যের গতিপ্রকৃতি পাঠ করতে শিখেছে। কোন পথটি নিরাপদ, কোন ঝরনার জল কাচের মতো স্বচ্ছ, আর আচমকা বৃষ্টি নামলে কোন গাছের আড়াল সবচেয়ে বিশ্বস্ত— সব এখন ওদের নখদর্পণে। বারো বছর কম সময় নয়। দীর্ঘ এই প্রবাস জীবন পাণ্ডবদের সহ্যশক্তির পরীক্ষা নিতে নিতে তাদের ভেতরের অহংকারটুকু শুষে নিয়ে সেখানে এক গভীর, ধূসর স্থৈর্য এনে দিয়েছে। ঠিক এই রকমই এক যাযাবর দিনে, বনের প্রাচীন গাছপালার ছায়া ফুঁড়ে আবির্ভূত হলেন এক দীর্ঘদেহী পুরুষ। তিনি আসার আগেই চারপাশের বাতাসে এক অলৌকিক স্তব্ধতা নেমে এলো। এক অমোঘ আধ্যাত্মিক গাম্ভীর্য যেন চাদরের মতো ঢেকে দিল গোটা বনভূমিকে। তিনি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস। পাণ্ডবেরা কোনো দ্বিধা বা আনুষ্ঠানিকতার সময় নষ্ট না করে তৎক্ষণাৎ এগিয়ে গেলেন। এক পরম শ্রদ্ধাবোধে তাদের শরীর ও মন আপনিই নুয়ে পড়ল। ব্যাসদেব তো কেবল একজন জটাজুটধারী তপোবন...