Posts

সত্যবতী ও ব্যাসদেব

Image
  Watch More সত্যবতী ও ব্যাসদেব বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পর হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদে যে শূন্যতা নেমে এসেছিল, তা কেবল একটি সিংহাসনের শূন্যতা ছিল না। ছিল বংশের শূন্যতা, রক্তের শূন্যতা। অম্বিকা আর অম্বালিকা — দুই তরুণী রানি — বিধবার সাদা বস্ত্রে ঢেকে গেছেন। তাঁদের কোলে কোনো সন্তান নেই। কুরুবংশের প্রদীপ নিভে আসছে। সত্যবতী তখন বৃদ্ধা। কিন্তু তাঁর মন বৃদ্ধ হয়নি। রাজমাতার মনে একটাই চিন্তা — এই বংশ টিকিয়ে রাখতে হবে। সেই মুহূর্তে তিনি মনে করলেন তাঁর সেই প্রথম পুত্রের কথা। অনেক অনেক আগের কথা। তখন সত্যবতী রানি নন, কোনো প্রাসাদও তাঁর জীবনে নেই। তিনি কেবল একটি নৌকার মাঝি। যমুনার বুকে প্রতিদিন যাত্রী পারাপার করেন। তাঁর শরীর থেকে মাছের গন্ধ আসে, তাই লোকে তাঁকে বলে মৎস্যগন্ধা। একদিন এক ঋষি এলেন নৌকায়। নাম পরাশর। সত্যবতী দাঁড় বাইছেন। পরাশর তাকিয়ে আছেন। শুধু তাকিয়ে নন — তাঁর ভেতরে জ্বলে উঠছে এক অদ্ভুত অনুভূতি। এই মেয়ে সাধারণ নয়। ঋষির দৃষ্টি অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পায়। তিনি দেখলেন — এই নারীর গর্ভে জন্ম নেবে এক মহাপুরুষ, যিনি যুগযুগান্ত ধরে মানুষের পথ দেখাবেন। পরাশর বললেন তাঁর মনের কথা। ...

কুন্তিভোজের রাজ্য, কুন্তীর কথা এবং পাণ্ডুর দিগ্বিজয়

Image
কুন্তিভোজের রাজ্য, কুন্তীর কথা এবং পাণ্ডুর দিগ্বিজয় কিছু কিছু গল্প আছে যেগুলো শুনতে শুনতে মনে হয় — এটা শুধু একটা পরিবারের গল্প নয়, এটা আসলে একটা গোটা যুগের গল্প। কুন্তিভোজের রাজ্যের কথা সেই রকম। চম্বল নদীর তীরে, মালব অঞ্চলের উর্বর মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই ছোট্ট রাজ্যটা হয়তো মানচিত্রে বড় জায়গা নেয় না। কিন্তু মহাভারতের ইতিহাসে এই রাজ্যের অবদান অপরিসীম। কারণ এখানেই একটি মেয়ে বড় হয়েছিলেন, Watch More যাঁর পাঁচ পুত্র একদিন পুরো ভারতবর্ষ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। **এক** কুন্তিভোজ ছিলেন যদুবংশীয় শূরসেনের ভাই। শূরসেন — যাঁর নাতি ছিলেন স্বয়ং কৃষ্ণ।কুন্তিভোজের রাজ্য ছিল, সেনা ছিল, ঐশ্বর্য ছিল। শুধু ছিল না একটাই জিনিস — সন্তান। দীর্ঘদিন কেটে গেছে, কিন্তু রাজপ্রাসাদের অন্দরমহলে শিশুর কান্না শোনা যায়নি।এদিকে শূরসেনের প্রথম সন্তান জন্মাল — একটি মেয়ে। নাম রাখা হলো পৃথা। শূরসেন একসময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভাইকে — প্রথম সন্তান তাঁকে দেবেন। প্রতিশ্রুতির কথা মনে রইল। পৃথাকে কোলে তুলে দিলেন কুন্তিভোজের হাতে।কুন্তিভোজ মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। সেদিন থেকে পৃথা আর পৃথা রইল না। সে হয়ে গেল কু...

কুরুবংশের নবজন্ম ও গান্ধারীর মহত্যাগ

Image
  Wat Watch More ch কুরুবংশের নবজন্ম ও গান্ধারীর মহা ত্যাগ সে এক অদ্ভুত সময়। কুরুরাজ্যে তখন কেবলই বসন্তের সমীরণ। হস্তিনাপুরের প্রতিটি অলিতে-গলিতে যেন উৎসবের রোশনাই। মহারাজ বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তাকে পূর্ণ করতেই যেন মর্ত্যে এলেন ধৃতরাষ্ট্র, পাণ্ডু আর বিদুর। প্রজারা সুখে আছে, ঘরে ঘরে ধনের অভাব নেই, এমনকি রাজধানীর রাজপথে কোনো চোর-ছ্যাঁচোড়ের উপদ্রবও নেই। এক কথায়, কুরুরাজ্য তখন এক পুষ্পিত উদ্যান। ভীষ্মের কড়া শাসনে আর স্নেহের ছায়ায় বেড়ে উঠছে তিন ভাই। তিনজনেরই তিন রূপ। ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ হলেও তাঁর শরীরে যেন সহস্র হস্তীর বল। লৌহদণ্ড অবলীলায় দুমড়ে দিতে পারেন তিনি। পাণ্ডু আবার ধনুর্ধর হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তীরের ফলায় তিনি আকাশ ছুঁতে চান। আর বিদুর? তাঁর মধ্যে বাস করেন সাক্ষাৎ ধর্ম। শান্ত, ধীর আর অসীম প্রজ্ঞার অধিকারী সেই মানুষটি। কিন্তু নিয়তির লিখন বড় অদ্ভুত। বিদুর পরম জ্ঞানী হলেও তিনি দাসীপুত্র, তাই সিংহাসনের উত্তরাধিকার তাঁর নেই। বড় ভাই ধৃতরাষ্ট্রের প্রাপ্য ছিল রাজমুকুট, কিন্তু তাঁর চোখের অন্ধকার সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল। শাস্ত্র আর আচারের দোহাই দিয়ে কনিষ...

মহাভারতের আদিপর্বের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কাহিনী হলো মহাত্মা বিদুরের জন্মবৃত্তান্ত।

Image
Watch More মহাভারতের আদিপর্বের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কাহিনী হলো মহাত্মা বিদুরের জন্মবৃত্তান্ত। অত্যন্ত ধর্মনিষ্ঠ এবং জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও কেন বিদুরকে একজন শূদ্রাণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল, তার নেপথ্যে রয়েছে মহর্ষি মাণ্ডব্যের এক অভিশাপ। সেই কাহিনীটি নিচে বর্ণনা করা হলো: অণিমাণ্ডব্যের উপাখ্যান ও বিদুরের জন্মকথা মহর্ষি মাণ্ডব্যের কঠোর তপস্যা প্রাচীনকালে মাণ্ডব্য নামে এক প্রখ্যাত ব্রাহ্মণ ঋষি ছিলেন। তিনি ছিলেন অসীম ধৈর্যের অধিকারী, পরম বিদ্বান এবং সত্যনিষ্ঠ। নিজের কুটিরের সামনে একটি বৃক্ষতলে ঊর্ধ্ববাহু হয়ে তিনি কঠোর মৌনব্রত পালন করছিলেন। দীর্ঘকাল ধ্যানে মগ্ন থাকার কারণে তিনি বাহ্যিক জগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিস্মৃত ছিলেন। চৌর্যপ্রবাদ ও রাজার দণ্ড একদিন একদল দস্যু রাজকোষ লুণ্ঠন করে পালাবার সময় মাণ্ডব্যের আশ্রমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। রক্ষীবাহিনীর তাড়া খেয়ে দস্যুরা ভীত হয়ে ঋষির কুটিরে লুণ্ঠিত দ্রব্যসহ লুকিয়ে পড়ে। রাজা সৈন্যরা আশ্রমে এসে মৌনব্রতী ঋষিকে দস্যুদের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু ব্রতভঙ্গের ভয়ে ঋষি কোনো উত্তর দিলেন না। সৈন্যরা তল্লাশি চালিয়ে কুটির থেকে চারজন দস্য...

ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা এবং কুরুবংশের উত্তরাধিকার

Image
Watch More ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা এবং কুরুবংশের উত্তরাধিকার মহারাজ শান্তনুর সাথে সত্যবতীর বিবাহ সম্পন্ন করার জন্য দেবব্রত (ভীষ্ম) কঠোর প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কেবল রাজ্যই ত্যাগ করেননি, আজীবন ব্রহ্মচর্যের শপথও নিয়েছিলেন। ভীষ্মের এই ত্যাগ দেখে প্রসন্ন হয়ে পিতা শান্তনু তাঁকে স্বেচ্ছামৃত্যুর বর প্রদান করেন। শান্তনু-পরবর্তী যুগ এবং বিপর্যয় শান্তনু ও সত্যবতীর সংসারে দুই পুত্র জন্মগ্রহণ করেন— চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য। শান্তনুর মৃত্যুর পর জ্যেষ্ঠ পুত্র চিত্রাঙ্গদ সিংহাসনে বসেন, কিন্তু বিদর্ভরাজের সাথে যুদ্ধে তিনি অকালে প্রাণ হারান। সেই সময় বিচিত্রবীর্য নাবালক হওয়ায় সত্যবতীর অনুরোধে ভীষ্ম তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য শাসন করতে থাকেন। কাশীরাজের কন্যাদের হরণ বিচিত্রবীর্য প্রাপ্তবয়স্ক হলে ভীষ্ম জানতে পারেন যে কাশীরাজ তাঁর তিন কন্যা— অম্বা, অম্বিকা ও অম্বালিকার জন্য স্বয়ম্বর সভার আয়োজন করেছেন। ভ্রাতার বিয়ের উদ্দেশ্যে ভীষ্ম একাকী সেই সভায় উপস্থিত হন এবং উপস্থিত সকল রাজন্যবর্গকে যুদ্ধে পরাস্ত করে তিন কন্যাকে বলপূর্বক অপহরণ করে হস্তিনাপুরে নিয়ে আসেন। রাজপ্রাসাদে ফেরার পর জ্যেষ্ঠা কন্যা অম্বা...

দেবব্রতর মহান ত্যাগ ও ভীষ্মের জন্ম

Image
Watch More দেবব্রতর মহান ত্যাগ ও ভীষ্মের জন্ম দেবব্রতকে ফিরে পাওয়ার পর মহারাজ শান্তনু তাঁকে হস্তিনাপুরের যুবরাজ হিসেবে ঘোষণা করেন। দেবব্রত ছিলেন অসামান্য বীর এবং প্রজাবৎসল, তাই তাঁকে উত্তরাধিকারী হিসেবে পেয়ে শান্তনু অত্যন্ত সুখী ছিলেন। সত্যবতীর সাথে শান্তনুর সাক্ষাৎ   একদিন মহারাজ শান্তনু যমুনার তীরে বনে শিকার করতে গিয়ে এক অপূর্ব সুগন্ধ অনুভব করেন। সেই সুগন্ধ অনুসরণ করে তিনি এক পরমাসুন্দরী কন্যাকে দেখতে পান। এই কন্যার নাম ছিল সত্যবতী। যদিও তিনি এক জেলের কন্যা হিসেবে বড় হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর জন্ম ছিল অলৌকিক। এক বিশাল মাছের পেট থেকে তাঁকে পাওয়া গিয়েছিল এবং দাসরাজ নামের এক ধীবর তাঁকে নিজের মেয়ের মতো লালন-পালন করেন। শান্তনু সত্যবতীর প্রেমে পড়েন এবং দাসের কাছে গিয়ে সত্যবতীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সত্যবতীর পিতা দাসরাজ একটি কঠিন শর্ত আরোপ করেন। তিনি বলেন:  "মহারাজ, আমি আমার কন্যাকে আপনার হাতে তুলে দিতে পারি, যদি আপনি কথা দেন যে— সত্যবতীর গর্ভজাত সন্তানই হবে হস্তিনাপুরের পরবর্তী রাজা।" শান্তনুর দ্বিধা ও দেবব্রতর সংকল্প শান্তনু দেবব্রতকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। নিজের প্রিয় পুত্...

অষ্টবসু ও শাপমুক্তির কাহিনি

Image
  Watch More অষ্টবসু ও শাপমুক্তির কাহিনি সেই সুদূর অতীতের কথা। মহর্ষি বশিষ্ঠের আশ্রমে ছিল এক অলৌকিক গাভী — নাম তার নন্দিনী। যে কোনো ইচ্ছা পূরণ করতে পারত সে। একদিন স্বর্গের আট ভাই, যাদের বলা হয় অষ্টবসু, তাঁদের স্ত্রীদের নিয়ে সেই বনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ভাইদের মধ্যে দ্যু তাঁর স্ত্রীর পীড়াপিড়িতে আর বাকি ভাইদের মদদে সেই নন্দিনী ও তার বাছুরটিকে চুরি করে নিলেন। ধ্যানের মধ্যে বশিষ্ঠ সব বুঝতে পারলেন। রাগে তাঁর মন জ্বলে উঠল। তিনি অভিশাপ দিলেন — অষ্টবসুকে মানুষ হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নিতে হবে। বসুরা পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইলে মুনি কিছুটা নরম হলেন। বললেন, সাতজন জন্মের পরপরই মুক্তি পাবে, স্বর্গে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু যে চুরি করেছে, সেই দ্যুকে দীর্ঘকাল মাটির পৃথিবীতে কাটাতে হবে — তবে সে হবে মহান, অতুলনীয় বীর। এরপর অষ্টবসুরা গেলেন দেবী গঙ্গার কাছে। অনুরোধ করলেন, মর্ত্যে তিনি যেন তাঁদের মা হন। গঙ্গা রাজি হলেন। এদিকে হস্তিনাপুরের রাজা প্রতীপের ছেলে শান্তনু একদিন গঙ্গার তীরে শিকারে বেরিয়ে এক অপরূপ নারীকে দেখলেন। তিনিই দেবী গঙ্গা। শান্তনু বিয়ের প্রস্তাব দিলে গঙ্গা একটাই শর্ত রাখলেন — "আমি ...