কাম্যক বনের শূন্যতা ও পুণ্যতীর্থের আহ্বান
কাম্যক বনের শূন্যতা ও পুণ্যতীর্থের আহ্বান নারদের বিদায়ের পর কাম্যক বনের সেই আলো-ছায়া ঘেরা প্রান্তরে এক অদ্ভুত স্তব্ধতা নেমে এল। দেবর্ষির প্রতিটি কথা যেন তখনো বনের বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। যুধিষ্ঠির গভীর চিন্তামগ্ন। তাঁর চোখের সামনে ভাসছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, অথচ অন্তরে এক সুগভীর বিশ্বাসের ফল্গুধারা। তিনি সহসা উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর ধীর, সংযত পদক্ষেপে ভাইদের পেরিয়ে এগিয়ে গেলেন কুলপুরোহিত মহর্ষি ধৌম্যের দিকে। অত্যন্ত বিনীত অথচ অন্তরের এক তীব্র আকুলতা নিয়ে যুধিষ্ঠির বললেন— "প্রভু, অনুজ অর্জুনকে আমি দেবরাজ ইন্দ্রের অমরাবতীতে পাঠিয়েছি। সে সেখানে গেছে দিব্যাস্ত্রের নিগূঢ় সন্ধান আর সাধনা করতে। আমার অন্তরাত্মা বলে, অর্জুন আর কৃষ্ণ—এঁরা সাধারণ মর্ত্যের মানুষ নন, এঁরা স্বয়ং নর আর নারায়ণ। এই ধরণীর ধূলিমাটিতে তাঁরা অবতীর্ণ হয়েছেন দেবত্বের মহিমা নিয়ে। মহর্ষি বেদব্যাসও এই সত্য মানেন, আর আজ দেবর্ষি নারদও নিজের মুখে তাঁদের দেবতা বলে উল্লেখ করলেন। ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য—এই ষড়ৈশ্বর্য তো তাঁদের অবয়বেই মূর্ত। যখনই কৌরবদের কথা ভাবি, পিতামহ ভীষ্ম আর আচার্য দ্রোণের মহীরুহসম অবয়ব আমার ...