Posts

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৪৫ থেকে ৪৭তম শ্লোকের বিষাদযোগ-

Image
 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৪৫ থেকে ৪৭তম  শ্লোকের বিষাদযোগ- अहो बत महत्पापं कर्तुं व्यवसिता वयम् । यद्राज्यसुखलोभेन हन्तुं स्वजनमुद्यताः ॥ १-४५॥  অহো বত মহত্পাপং কর্তুং ব্যবসিতা বয়ম্ । যদ্রাজ্যসুखলোভেন হংতুং স্বজনমুদ্যতাঃ ॥ ১-৪৫॥  অহো বত মহৎ পাপং কর্তুং ব্যবসিতা বয়ম্। হায়! সিংহাসনের লোভের বশবর্তী হয়ে আমরা আমাদের স্বজনদের হত্যা করার মতো এক মহাপাপ করতে উদ্যত হয়েছি। দুর্যোধন ও তার সঙ্গীরা দুষ্কৃতকারী। লোভের দ্বারা চালিত হওয়ায় তারা ন্যায়পরায়ণতার পথে নেই, আর তাই তারা যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়েছে। আমাদের ন্যায়-অন্যায়, পুণ্য-পাপের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, আমরা অজ্ঞ মানুষদের মতোই আমাদের স্বজনদের হত্যা করার জন্য এই যুদ্ধে লিপ্ত হতে প্রস্তুত হয়েছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক একটি বিষয়। এমনটা করার মাধ্যমে আমরা গুরুজনদের উপদেশ ও শাস্ত্রের বাণীকে উপেক্ষা করে এক মহাপাপ করতে চলেছি। 'অহো' শব্দটি গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে। আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের হত্যা করতে উদ্যত হয়েছি—শুধুমাত্র রাজ্যসুখ ও ক্ষমতার লোভে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আমরা আমাদের আপনজনদের হত্য...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৪০ থেকে ৪৪তম শ্লোকের বিষাদযোগ-

Image
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৪০ থেকে ৪৪তম  শ্লোকের বিষাদযোগ- পরবর্তী পাঁচটি শ্লোকে অর্জুন নিজ বংশ ধ্বংসের ফলে যে পাপ অর্জিত হয়, তার উল্লেখ করছেন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার প্রথম অধ্যায়ের ৪০ ও ৪১ নম্বর শ্লোকে অর্জুন বংশক্ষয়ের দুটি প্রধান বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেছেন: কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ। ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নমধর্মোহভিভবত্যুত।। ৪০ ।। অধর্মাভিভবাৎকৃষ্ণ প্রদ্যুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ। স্ত্ৰীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ।। ৪১ ।। ১. কুলধর্ম বিলোপ: পরিবার ধ্বংস হলে সনাতন প্রথা ও রীতিনীতি লুপ্ত হয়, ফলে সমগ্র পরিবারে অধর্মের বিস্তার ঘটে এবং মানুষ তার ধার্মিকতা হারায়। ২. সামাজিক অবক্ষয় ও বর্ণসংকর: অভিজ্ঞদের অভাবে সঠিক শিক্ষার ঘাটতি দেখা দেয়, যা মোহাচ্ছন্নতার জন্ম দেয়। এর ফলে নারী ও সমাজ পথভ্রষ্ট হয়ে বিশৃঙ্খল সামাজিক মিশ্রণ বা 'বর্ণসংকর'-এর সৃষ্টি হয়। শ্লোক ৪২ সঙ্করো নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ। পতন্তি পিতরো হ্যেষাং লুপ্তপিণ্ডোদকক্রিয়াঃ॥ বর্ণসংকর কুলঘাতী ও পুরো বংশকে নরকে নিয়ে যায়। পিণ্ড ও জলতর্পণ বন্ধ হলে পূর্বপুরুষদেরও পতন ঘটে। বর্ণসংকর সন্তানদের মধ্যে ধ...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৩৭ থেকে ৩৯তম শ্লোকের বিষাদযোগ

Image
 শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৩৭ থেকে ৩৯তম  শ্লোকের বিষাদযোগ तस्मान्नार्हा वयं हन्तुं धार्तराष्ट्रान्स्वबान्धवान् । स्वजनं हि कथं हत्वा सुखिनः स्याम माधव ॥ ३७ ॥ তস্মান্নার্হা বয়ং হন্তুং ধার্তরাষ্ট্রান্সবান্ধবান্ । স্বজনং হি কথং হত্বা সুখিনঃ স্যাম মাধব ॥ ৩৭ ॥ यद्यप्येते न पश्यन्ति लोभोपहतचेतसः । कुलक्षयकृतं दोषं मित्रद्रोहे च पातकम् ॥ ३८ ॥ যদ্যপ্যেতে ন পশ্যন্তি লোভোপহতচেতসঃ । কুলক্ষয়কৃতং দোষং মিত্রদ্রোহে চ পাতকম্ ॥ ৩৮ ॥ कथं न ज्ञेयमस्माभिः पापादस्मान्निवर्तितुम् । कुलक्षयकृतं दोषं प्रपश्यद्भिर्जनार्दन ॥ ३९ ॥ কথং ন জ্ঞেয়মস্মাভিঃ পাপাদস্মান্নিবর্তিতুম্ । কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্যদ্ভির্জনার্দন ॥ ৩৯ ॥ অতএব, ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রগণ—যারা আমাদেরই আত্মীয়—তাদের হত্যা করা আমাদের উচিত নয়। হে মাধব, নিজেদের স্বজনদের হত্যা করে আমরা কীভাবে সুখী হতে পারি? ৩৭ ।। শ্লোকটিতে ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের (যারা আমাদের আত্মীয়) হত্যা না করার যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত জোরালো। ১/২৮ শ্লোক থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যেসব যুক্তি ও পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে, তা আমাদের বোঝানোর জন্য যথেষ্ট যে—যুদ্ধ নামক এই ধ্বং...

দেবী চন্ডিকা -মাইথোলজিক্যাল ফিকশন

Image
 দেবী চন্ডিকা -মাইথোলজিক্যাল ফিকশন চণ্ডী (দুর্গা সপ্তশতী)   মহিষাসুরমর্দিনী- মহিষাসুরমর্দিনী হলো দেবী দুর্গার একটি বিশেষ রূপ ও নাম, যার অর্থ যিনি মহিষাসুর বধ করেছেন। ​পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, দেবতারা যখন মহিষাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন, তখন সব দেবতার শক্তির মিলিত রূপ থেকে দেবী দুর্গার সৃষ্টি হয়। তিনি অসুরদের রাজাকে বধ করে স্বর্গে শান্তি ও ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ​বাঙালি সংস্কৃতিতে এটি একটি বিখ্যাত বেতার অনুষ্ঠানও বটে। প্রতি বছর মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় চণ্ডীপাঠ ও পঙ্কজ কুমার মল্লিকের সুরের এই অনুষ্ঠান শোনার মাধ্যমেই শারদোৎসবের সূচনা হয়। রাজা সুরথ ছিলেন সত্যযুগের এক সূর্যবংশীয় প্রজাহিতৈষী ও পরম ধর্মপরায়ণ সার্বভৌম শাসক, যাঁর বাহুবলে অখন্ড সাম্রাজ্য শান্তি ও ন্যায়ে ভরপুর ছিল। প্রতিবেশী ‘কোলা’ বা ‘কোলাবিধ্বংসী’ শত্রুদের আক্রমণে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তিনি রাজধানীতে ফেরেন। কিন্তু নিজের অমাত্য ও মন্ত্রীরা বিশ্বাসঘাতকতা করে রাজকোষ ও সেনাবাহিনী দখল করে   নেয়।  সুরথ একাকী ঘোড়ায় চেপে শিকার  করতে যাবার বাহানায় গভীর জঙ্গলে  বেড়িয়ে পড়ে। রাজা ...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৩৬তম শ্লোকের বিষাদযোগ

Image
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৩৬তম  শ্লোকের বিষাদযোগ- ধৃতরাষ্ট্রের পুত্র ও তাদের সৈন্যদের হত্যা করে আমরা সুখ পাব না। ক্রোধ বা লোভের বশে স্বজনদের মারলে তাদের স্মৃতি ও মৃত্যুশোক আমাদের পীড়া দেবে। ইহলোকে আনন্দ মিলবে না, আর পরলোকেও পাপের বোঝা আমাদের যন্ত্রণা দেবে। আততায়ী ছয় প্রকার: যে অগ্নিসংযোগ করে, বিষ দেয়, হত্যা করে, ধন হরণ করে, রাজ্য দখল করে এবং নারী অপহরণ করে। দুর্যোধন ও তার সঙ্গীরা এই সবই করেছিল। তারা পাণ্ডবদের শয়নগৃহে অগ্নিসংযোগ করেছিল, ভীমকে বিষ দিয়ে জলে ফেলেছিল, পাণ্ডবদের প্রাণনাশের চেষ্টা করেছিল এবং দ্যুতক্রীড়ায় ছলনা করে তাঁদের ধন-রাজ্য কেড়ে নিয়েছিল। রাজসভায় দুর্যোধন দ্রৌপদীকে দাসী বলে অপমান করেছিল, আর তার প্ররোচনায় জয়দ্রথ দ্রৌপদীকে অপহরণ করেছিল। শাস্ত্র বলে, আততায়ীকে হত্যা করলে পাপ হয় না (মনুসংহিতা ৮/৩৫১), আবার অহিংসাকেও মহৎ গুণ বলা হয়েছে। তাই ক্রোধ ও লোভের বশে আমরা স্বজনদের কেন হত্যা করব? দুর্যোধন প্রমুখ আততায়ী হিসেবে বধ্য হলেও তারা আমাদের আপনজন, আর আপনজনকে হত্যা করা মহাপাপ। তাদের হত্যা না করে বরং সম্পর্ক ছিন্ন করাই শ্রেয়, যেমন পুত্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছেড়ে...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৩৪ ও ৩৫তম তম শ্লোকের বিষাদযোগ-

Image
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৩৪ ও ৩৫তম তম শ্লোকের বিষাদযোগ- গীতার প্রথম অধ্যায়ে অর্জুনের সংকট যুদ্ধভীতি নয়, বিবেক ও ধর্মবোধের প্রকাশ। রণক্ষেত্রে গুরুজন, পিতামহ, শিক্ষক, ভাই ও পুত্রদের প্রতিপক্ষে দেখে তিনি বিষাদে ভেঙে পড়েন। তিনি কৃষ্ণকে বলেন, স্বজনের রক্তে রাঙানো রাজ্য তিনি চান না; ত্রিভুবনের আধিপত্যের বিনিময়েও আত্মীয়দের হত্যা করবেন না। ষোড়শ অধ্যায়ে কাম, ক্রোধ ও লোভকে নরকের তিন দ্বার বলা হয়েছে। অর্জুন বোঝেন, স্বজনের প্রতি বিদ্বেষ ও স্বার্থচিন্তা এই ক্রোধ-লোভেরই রূপ। বিপক্ষ লোভের বশে আক্রমণ করলেও তিনি তা করতে চান না। 'অপি' শব্দের দুটি অর্থ: শত্রুর ক্ষতি না করেও নিহত হলে তিনি প্রতিরোধ করবেন না, আর যুদ্ধে জগতের শাসন পেলেও ধর্ম বিসর্জন দিয়ে সেই আনন্দ নেবেন না। 'মধুসূদন' সম্বোধনেও ইঙ্গিত আছে: কৃষ্ণ অসুরের সংহারক, কিন্তু সামনে আছেন দ্রোণ ও ভীষ্মের মতো পূজনীয়রা, যাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলা অসম্ভব। গুরুজন শ্রদ্ধার পাত্র, ছোটরা স্নেহের। তাঁরা পথভ্রষ্ট হলেও ক্ষমা ও স্নেহ করাই ধার্মিকের কর্তব্য। অর্জুনের অনুশোচনা শেখায়, ক্ষণস্থায়ী জয়ের চেয়ে আত্মিক নীতি ও সম্পর্কের প...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ২৮ থেকে ৩০তম তম শ্লোক বিষাদযোগ

Image
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ২৮ থেকে ৩০তম তম শ্লোক  বিষাদযোগ अर्जुन उवाच । दृष्ट्वेमं स्वजनं कृष्ण युयुत्सुं समुपस्थितम् ॥ २८॥ सीदन्ति मम गात्राणि मुखं च परिशुष्यति। অর্জুন উবাচ । দৃষ্ট্বেমং স্বজনং কৃষ্ণ যুযুত্সুং সমুপস্থিতম্ ॥ ২৮॥ সীদংতি মম গাত্রাণি মুখং চ পরিশুষ্যতি। वेपथुश्च शरीरे मे रोमहर्षश्च जायते । गाण्डीवं स्रंसते हस्तात्त्वक्चैव परिदह्यते ॥ २९॥ বেপথুশ্চ শরীরে মে রোমহর্ষশ্চ জায়তে । গাডীবং স্রংসতে হস্তাত্ত্বক্ চৈব পরিদহ্যতে ॥ ২৯॥ न च शक्नोम्यवस्थातुं भ्रमतीव च मे मनः । निमित्तानि च पश्यामि विपरीतानि केशव ॥ ३०॥!  ন চ শক্নোম্যবস্থাতুং ভ্রমতীব চ মে মনঃ । নিমিত্তানি চ পশ্যামি বিপরীতানি কেশব ॥ ৩০॥ অর্জুন বললেন— হে কৃষ্ণ, যুদ্ধাভিলাষী স্বজনদের এভাবে সমবেত দেখে আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শিথিল হয়ে আসছে এবং মুখ শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে। আমার শরীর কাঁপছে এবং গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠছে। আমার হাত থেকে ‘গান্ডীব’ ধনু খসে পড়ছে এবং ত্বক যেন জ্বলে যাচ্ছে। আমি স্থির থাকতে পারছি না এবং আমার মন যেন ঘুরপাক খাচ্ছে। ২৮-৩০ অর্জুন ‘কৃষ্ণ’ নামটি অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাই গীতায় অন্য যেকোনো নামের চেয়ে এই নামে...