কাম্যকে মহাসমাবেশ — কৃষ্ণ, যুধিষ্ঠির এবং অর্জুনের কথোপকথন
কাম্যকে মহাসমাবেশ — কৃষ্ণ, যুধিষ্ঠির এবং অর্জুনের কথোপকথন সংবাদের অভিঘাত পতন যখন ঘটে, তখন তার প্রতিধ্বনি চারপাশের বাতাসকে চাবুক মেরে সজাগ করে তোলে। রাজন্যবর্গের উত্থান-পতনের ইতিহাস বড় নির্মম। কুরুসভার সেই কলঙ্কিত দ্যুতক্রীড়া, সর্বস্ব হরণের পাশবিক উল্লাস, আর ভরা রাজসভায় দ্রৌপদীর কেশাকর্ষণ করে টেনে আনার সেই আদিম, নৃশংস দৃশ্য— কোনো কিছুই গোপন থাকেনি। বাতাসের পিঠে চড়ে সেই অপমানের কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছিল আর্যাবর্তের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি রাজকক্ষে। কিন্তু যখন শোনা গেল, পঞ্চপাণ্ডব এখন কাম্যক বনের অখ্যাত বৃক্ষচ্ছায়ায় মৃগচর্ম পরিধান করে, জটাবদ্ধ চুলে দিন কাটাচ্ছেন— তখন ভারতর্ষের মানুষের শোক নিমেষেই পরিণত হলো এক তীব্র, জ্বলন্ত অগ্নিগর্ভ ক্রোধে। যাদবদের বিখ্যাত বংশগুলো— বৃষ্ণি, অন্ধক আর ভোজ— তাদের বীরেরা আর স্থির থাকতে পারলেন না। দলে দলে যুবরাজ আর প্রধানেরা নিজেদের চতুরঙ্গ সেনা ও অনুচরদের নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন কাম্যকের উদ্দেশ্যে। পাঞ্চাল থেকে এলেন ধৃষ্টদ্যুম্ন, দ্রৌপদীর সহোদর। যিনি যজ্ঞাগ্নি থেকে জন্ম নিয়েছিলেন কেবল এক মহৎ প্রতিশোধের ব্রত বুকে নিয়ে, আজ তিনি এসে দাঁড়িয়েছেন এক অভাবনীয়, আরও তীব্র...