কাম্যকবনের অশ্রুজল ও তীর্থরাজের মহিমা
কাম্যকবনের অশ্রুজল ও তীর্থরাজের মহিমা সেই বিষণ্ণ মেঘের মতো থমথমে দুপুর। কাম্যক বনের পত্রপল্লব চিরে যেটুকু আলো আসছিল, তাতে পাণ্ডবদের মুখের গভীর রেখাবলি ঢাকা পড়ে না। মাথার ওপর থেকে নেমে গেছে এক অখণ্ড সাম্রাজ্য, চোখের সামনে জতুগৃহের মতো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে রাজসুয় যজ্ঞের সেই গৌরবদীপ্ত দিনগুলি। যুধিষ্ঠির, ভীম, আর যমজ ভ্রাতারা বসে আছেন এক প্রাচীন বৃক্ষমূলে; তাঁদের মাঝখানে দ্রৌপদী—যার চোখের কোণে এখনো লেগে আছে কুরুসভার সেই চরম অপমানের তপ্ত অশ্রু। রাজ্যহীন, দর্পহীন, কেবল এক বুক ক্ষোভ আর ধর্মসংকট নিয়ে তাঁরা যখন দিন গুনছেন, ঠিক তখনই সেই আরণ্যক স্তব্ধতা ভেঙে সেখানে আবির্ভূত হলেন দেবর্ষি নারদ। তাঁর হাতে মহতী বীণা, চোখে ত্রিকালের সত্য। যুধিষ্ঠির অবহেলা করেননি। এই ঘোর দুর্দিনেও ক্ষীয়মাণ রাজকীয় মর্যাদার শেষটুকু দিয়ে তিনি দেবর্ষিকে স্বাগত জানালেন। অর্ঘ্যপ্রদান আর কুশলবিনিময়ের পর, যুধিষ্ঠিরের মনের গহনে বহুদিনের জমে থাকা এক সংশয় ও জিজ্ঞাসা এবার ভাষারূপ পেল। তিনি বিনীত কণ্ঠে শুধালেন, "হে দেবর্ষি, মহাজনের মুখে শুনেছি, মানুষ যদি সংসারের সব মায়া ফেলে পুণ্যতীর্থের পবিত্র জলে স্নান করে, তবে নাকি মহাযজ্ঞের...