Posts

পর্ব- নল-দময়ন্তী: পঞ্চম পর্ব-বিরহ, অন্বেষণ ও পুনরুদ্ধার

Image
  পর্ব- নল-দময়ন্তী: পঞ্চম পর্ব-বিরহ, অন্বেষণ ও পুনরুদ্ধার এক জননীর আর্তি বিদর্ভে পৌঁছানোর পর দময়ন্তী যখন তাঁর পিতা-মাতা এবং সন্তানদের ফিরে পেলেন, তখন কিছুদিনের জন্য সেই রাজপ্রাসাদে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। কিন্তু যে আনন্দের নিচে একটা গভীর ক্ষত লুকিয়ে থাকে, তার আয়ু বেশিদিন হয় না। দময়ন্তীর বুকের ভেতরের সেই পুরনো শোক আবার জেগে উঠতে সময় নিল না। একদিন তিনি তাঁর মায়ের কাছে গিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বললেন, "মা, তুমি যদি আমাকে আর বেঁচে থাকতে দেখতে চাও, তবে আমার স্বামী নলের খোঁজ করো এবং তাঁকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। তিনি কোথায় আছেন, কিংবা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা না জেনে আমি আর এভাবে বেঁচে থাকতে পারছি না। এই যন্ত্রণা আমার সহ্যসীমার বাইরে চলে গেছে।" কন্যার এই মর্মন্তুদ কথা শুনে রানীমাতা গভীর শোকে আচ্ছন্ন হলেন। তিনি তখনই ছুটে গেলেন রাজা ভীমকের কাছে। গিয়ে বললেন, "মহারাজ, দময়ন্তী তার স্বামীর চিন্তায় দিন দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। সে রাজা নলের সন্ধানের জন্য আকুল প্রার্থনা জানিয়েছে। আমার ভয় হয়, আমরা যদি এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিই, তবে মেয়েটাকে আর বাঁচাতে পারব না।" রাজা ভীমক এক মুহূর্তও দ...

মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি

Image
  মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি (Index of Brief Mahabharata) মহাভারতের আদি পর্বের  সংক্ষিপ্ত অংশ বিশেষ পুরু বংশের বর্ণনা -মহাভারতের আদিপর্বে বর্ণিত চন্দ্রবংশের অন্যতম গৌরবময় শাখা হলো পুরু রাজবংশ বা পৌরব রাজবংশ ।  উর্বশী- ঊরুসম্ভবা: স্বর্গের দর্পচূর্ণ ও এক চিরন্তন রূপকথা কালীয়দমন: কালিন্দীর বুকে এক মায়াবী নর্তক দেবতাদের অজেয় শত্রু: নিবাতকবচদের বিরুদ্ধে অর্জুনের মহাযুদ্ধ কামনার স্বর্গ ও মাতৃত্বের পুণ্য: উর্বশী-অর্জুনের সেই অনির্বাণ উপাখ্যান রাজা দুষ্যন্ত ও শকুন্তলার.গন্ধর্ব প্রথায়  বিবাহ শকুন্তলার পুত্র ভরতের জন্ম এবং রাজা দুষ্যন্ত কর্তৃক তাকে নিজের পুত্র হিসেবে গ্রহণ। দেবতা আর অসুরের লড়াই আর কচ ও দেবযানীর প্রেম।দেবতা আর অসুরের লড়াই তখন তুঙ্গে দেবযানী ও শর্মিষ্ঠা: দম্ভ এবং প্রতিশোধের উপাখ্যান।সব বড় অনর্থের মূলে থাকে খুব তুচ্ছ কোনো ঘটনা। যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠা: এক রাজার দুই নারী ও এক পুত্রের ত্যাগ। শুক্ৰাচার্যের আশ্রমের চারদিকের বনটা বড় ঘন, বড় রহস্যময়।  যযাতির হাজার বছর: অন্তহীন তৃষ্ণা ও শেষ মুহূর্তের স্তব্ধতা,যা চেয়েছিলেন, তাই পেলেন মহাভারতের সেই আদিপর্বের কথা...

নল-দময়ন্তী কথা: (চতুর্থ পর্ব ) দেব-আশীর্বাদ ও সর্বনাশের বীজ

Image
  নল-দময়ন্তী কথা: (চতুর্থ পর্ব ) দেব-আশীর্বাদ ও সর্বনাশের বীজ যুধিষ্ঠির মহর্ষি বৃহদশ্বের কাছ থেকে এমন এক রাজার গল্প শুনতে চেয়েছিলেন, যিনি রাজা যুধিষ্ঠিরের মতোই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যপীড়িত ছিলেন। তাই বৃহদশ্ব গল্পটি শুরু করেছিলেন। এটি নল ও দময়ন্তীর পর্বটির চতুর্থ পর্ব। তৃতীয় পর্বটি আগেই প্রকাশিত  হয়েছে। তৃতীয়  পর্বটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন  ১. নাগরাজ কর্কোটক ও নলের রূপান্তর নিশীথরাতে নিদ্রিতা স্ত্রীকে বনের মধ্যে ফেলে রেখে নল যখন একা হেঁটে চললেন, তখনই এক তীব্র অনুশোচনা আর গভীর বিষাদ এসে গ্রাস করল তাঁকে। কলির মায়াজাল তখনও তাঁর মস্তিস্ককে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তাই তিনি পিছন ফিরে তাকানোর পথটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন। লক্ষ্যহীন, উদ্ভ্রান্তের মতো গভীর অরণ্যের অন্ধকার ভেদ করে চললেন নিষধরাজ। নিজের এই চরম পতন আর লজ্জার গ্লানিতে তাঁর চেতনা তখন প্রায় লুপ্ত। এমনই এক রাতে, বনের এক শূন্য প্রান্তরে হঠাৎই তাঁর চোখে পড়ল এক লেলিহান অগ্নিকুণ্ড। সেই দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের মধ্য থেকে এক রহস্যময় কণ্ঠস্বর তাঁকে নাম ধরে ডেকে উঠল। বিস্মিত নল আগুনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখলেন, শিখার মাঝখানে আটকা পড়ে আছে ...

নল- দময়ন্তীর উপাখ্যান — অরণ্যযামিনী ও মহাপ্রস্থান-৩য় ভাগ

Image
নল- দময়ন্তীর উপাখ্যান ৩য় ভাগ— অরণ্যযামিনী ও মহাপ্রস্থান যুধিষ্ঠির মহর্ষি বৃহদশ্বের কাছ থেকে এমন এক রাজার গল্প শুনতে চেয়েছিলেন, যিনি রাজা যুধিষ্ঠিরের মতোই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যপীড়িত ছিলেন। তাই বৃহদশ্ব গল্পটি শুরু করেছিলেন। এটি যুধিষ্ঠির মহর্ষি বৃহদশ্বের কাছ থেকে এমন এক রাজার গল্প শুনতে চেয়েছিলেন, যিনি রাজা যুধিষ্ঠিরের মতোই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যপীড়িত ছিলেন। তাই বৃহদশ্ব গল্পটি শুরু করেছিলেন। এটি নল ও দময়ন্তীর পর্বটির ৩য় ভাগ। ২য় পর্বটি আগেই প্রকাশিত  হয়েছে। ২য় পর্বটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন  নল-দময়ন্তী কথা: (২য় ভাগ) দেব-আশীর্বাদ ও সর্বনাশের বীজ নল- দময়ন্তীর উপাখ্যান — অরণ্যযামিনী ও মহাপ্রস্থান- এক দগ্ধ চিত্তের আখ্যান বৃহদশ্ব কহিলেন, "ধর্মরাজ, সেই আদিগন্ত বিস্তৃত অরণ্যের নিস্তব্ধতা ভেদ করে নল ও দময়ন্তী হেঁটে চলছিলেন। দিনের পর দিন অন্নহীন, জলহীন অবস্থায় ক্লান্তি ও অবসাদ তাদের শরীরকে জীর্ণ করে দিচ্ছিল। কিন্তু নলের ক্ষতটা ছিল আরও গভীর, তা তাঁর অন্তরে। কলি তখন তাঁর চেতনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে। সেই অন্ধকার প্রভাব নলের মস্তকে এক ভয়ংকর কুটিল চিন্তার জন্ম দিল। তিনি ভাবলেন, এই যে দময়ন...

নল-দময়ন্তী কথা: (২য় ভাগ) দেব-আশীর্বাদ ও সর্বনাশের বীজ

Image
যুধিষ্ঠির মহর্ষি বৃহদশ্বের কাছ থেকে এমন এক রাজার গল্প শুনতে চেয়েছিলেন, যিনি রাজা যুধিষ্ঠিরের মতোই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যপীড়িত ছিলেন। তাই বৃহদশ্ব গল্পটি শুরু করেছিলেন। এটি নল ও দময়ন্তীর পর্বটির ২য় ভাগ। প্রথম পর্বটি আগেই প্রকাশিত  হয়েছে। প্রথম পর্বটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন   বৃহদশ্ব মুচকি হাসলেন। তাঁর চোখের কোণে এক অদ্ভুত বিষাদের আলো। যুধিষ্ঠিরের দিকে তাকিয়ে তিনি আবার বলতে শুরু করলেন, "শোনো ধর্মরাজ, দময়ন্তী যখন সেই স্বয়ংবর সভায় সমস্ত দেবতাদের উপেক্ষা করে নলের গলায় বরমাল্য তুলে দিলেন, তখন কিন্তু চার দেবতা—ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ আর যম—সামান্যতম ক্ষুব্ধ বা অপমানিত বোধ করলেন না। মানুষের মনের এই অমোঘ টান, এই চতুর অথচ গভীর প্রেম দেখে বরং তাঁরা মনে মনে মুগ্ধই হয়েছিলেন। তাঁরা তাঁদের মায়া-রূপ ত্যাগ করে নিজেদের আসল স্বরূপে প্রকট হলেন। তাঁদের স্বর্গীয় আভায় মর্ত্যের সেই রাজসভা যেন এক নিমেষে পবিত্র হয়ে উঠল। দেবতারা হাসিমুখে দম্পতিকে আশীর্বাদ করলেন। শুধু আশীর্বাদই নয়, চার দেবতা নলকে চারটি অলৌকিক বর দিলেন। দেবরাজ ইন্দ্র বললেন, 'নল, তুমি যখনই মনে মনে আমাকে স্মরণ করবে, আমি উপস্থিত হব। আর কোনোদিন ত...

দেবতাদের হারিয়ে মর্ত্যের প্রেম: নল-দময়ন্তীর অমর উপাখ্যান-১ম ভাগ

Image
দেবতাদের হারিয়ে মর্ত্যের প্রেম: নল-দময়ন্তীর অমর উপাখ্যান-১ম ভাগ। যুধিষ্ঠির মহর্ষি বৃহদশ্বের কাছ থেকে এমন এক রাজার গল্প শুনতে চেয়েছিলেন, যিনি রাজা যুধিষ্ঠিরের মতোই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যপীড়িত ছিলেন। তাই বৃহদশ্ব গল্পটি শুরু করেছিলেন।  ১. অনন্য এক রাজা ও এক না-দেখা রাজকুমারী বৃহদশ্ব একটু থামলেন। তারপর যুধিষ্ঠিরের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন, "অনেকদিন আগের কথা, ধর্মরাজ। নিষধ দেশে এক রাজা ছিলেন, নাম তাঁর নল। বীরসেনের ছেলে নল ছিলেন সর্বগুণসম্পন্ন। এমন রূপ, এমন পুরুষালি চেহারা খুব একটা দেখা যায় না। ঘোড়া ছোটানো আর তাদের বশ করার বিদ্যায় তাঁর জুড়ি ছিল না, বেদেও ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য। আর যুদ্ধে? যুদ্ধে তিনি ছিলেন একাই এক সিংহের মতো পরাক্রমশালী। তবে হ্যাঁ, একটা দুর্বলতা ছিল তাঁর। পাশা খেলার প্রতি তাঁর এক অমোঘ টান ছিল। যৌবনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে একাকিত্ব বোধ করছিলেন নল, মনে মনে একজন যোগ্য জীবনসঙ্গিনী খুঁজছিলেন। তরুণ রাজার মনে এমন ইচ্ছে জাগা তো কোনো অন্যায় বা লজ্জার কথা নয়। ঠিক সেই সময়েই বিদর্ভ রাজ্যে রাজত্ব করতেন রাজা ভীমক। হে ধর্মরাজ, ইনি কিন্তু তোমাদের সেই চেনা ভীম নন, ইনি অন্য একজন মান...

অন্ধকারের রাজপ্রাসাদে এক ফালি বিষাদের আলো

Image
  অন্ধকারের রাজপ্রাসাদে এক ফালি বিষাদের আলো ইন্দ্রলোকের মেঘের রাজ্যে তখন অর্জুন। মর্ত্যের কোনো মানুষের হাত যা ছুঁতে পারেনি, সেইসব অলৌকিক দৈবাস্ত্রের গোপন বিদ্যা তিনি আয়ত্ত করছেন একাগ্র মনে। কিন্তু ক্ষমতার সেই অলৌকিক খবর তো শুধু স্বর্গের দেবতারা জানবেন না, তা একসময় চুইয়ে নামল মর্ত্যের মাটিতেও। হস্তিনাপুরের অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রের কানে যখন এই সংবাদ পৌঁছাল, তখন তাঁর বুকের ভেতরটা একটা অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠেছিল। ঠিক সেই সময়েই হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদে পা রাখলেন মহর্ষি ব্যাসদেব। তিনি ধৃতরাষ্ট্রের সামনে এসে বসলেন। ব্যাসদেবের কণ্ঠস্বর ছিল শান্ত কিন্তু অমোঘ। তিনি কোনো লুকোছাপা না করে স্পষ্ট ভাষায় অন্ধ রাজাকে জানিয়ে দিলেন—মেঘের ওপারের সেই উচ্চতর জগতে অর্জুন কী কী অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। কোন কোন দিব্যাস্ত্র এখন তাঁর হাতের মুঠোয়, এবং ভবিষ্যতে কোন ভয়ানক উদ্দেশ্যে তিনি সেগুলো ব্যবহার করবেন, তার একটা নিখুঁত ছবি এঁকে দিলেন ব্যাসদেব। যা বলার তা বলা হয়ে গেলে, মহর্ষি আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না, নগরের ধুলো উড়িয়ে বিদায় নিলেন। ব্যাসদেব চলে যাওয়ার পর ধৃতরাষ্ট্র দীর্ঘক্ষণ একাকী বসে রইলেন। চারপাশের জমাট অন্ধ...