Posts

কুরুসভার অন্ধকার: দ্রৌপদীর লাঞ্ছনা

Image
 l কুরুসভার অন্ধকার: দ্রৌপদীর লাঞ্ছনা পাশার দান শেষবারের মতো পড়ল, আর যুধিষ্ঠির হারলেন তাঁর শেষ সম্বলটুকুও। সাম্রাজ্য গেছে। ভাইরা গেছে। এমনকি নিজের স্বাধীনতাটুকুও তিনি খুইয়েছেন ওই কাঠের ছকের ওপর একটা নগণ্য ঘুঁটির মতো। কিন্তু সর্বনাশের এখানেই শেষ নয়; এক চরম ও আত্মঘাতী উন্মাদনায় তিনি বাজি রাখলেন তাঁর শেষ আশ্রয়কে—দ্রুপদ-নন্দিনী দ্রৌপদী। সমগ্র ভারতবর্ষের সবচেয়ে মহিমান্বিত নারী, পাঁচ পাণ্ডবের গৌরব, তিনিও এখন কুরুপক্ষের জয়ের খেরোখাতায় একটা মামুলি বন্ধকী বস্তু। এবং তিনিও হাতছাড়া হয়ে গেলেন। দুর্যোধন এক মুহূর্তও নষ্ট করতে চাইলেন না। কুরুসভার সবচেয়ে প্রাজ্ঞ পুরুষ বিদুরের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললেন, "যাও বিদুর, যাজ্ঞসেনীকে এখানে নিয়ে এসো। সে এখন আমাদের দাসী। আমাদের দাসীদের সঙ্গে থেকে সে এখন রাজপ্রাসাদের মেঝে ঝাঁট দেবে।" বিদুর স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ দুর্যোধনের দিকে চেয়ে রইলেন। যখন কথা বললেন, তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল মৃদু, কিন্তু তাতে মিশে ছিল এক অমোঘ ভবিষ্যৎদ্রষ্টার সাবধানবাণী: "দুর্যোধন, তুমি ঘুমন্ত সিংহের গায়ে হাত দিচ্ছ। তোমার মাথার ওপর কালনাগিনীর ফণা দুলছে, আর তুমি তাক...

দ্যুতি ও দ্যুত: পাণ্ডবদের সর্বস্বান্ত হওয়ার আখ্যান

Image
  দ্যুতি ও দ্যুত: পাণ্ডবদের সর্বস্বান্ত হওয়ার আখ্যান তোরণ স্ফটিকের সেই মহাসভা যখন মণি-মাণিক্যের আলোয় এবং বিচিত্র কারুকার্যে সেজেগুজে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হলো, তখন কৌরবদের অন্ধরাজা ধৃতরাষ্ট্র তাঁর পরমহীতৈষী বৈমাত্রেয় ভ্রাতা বিদুরকে ডেকে পাঠালেন। ধৃতরাষ্ট্রের কণ্ঠে তখন এক অদ্ভুত, চপল উত্তেজনা। তিনি বললেন, "বিদুর, তুমি অবিলম্বে ইন্দ্রপ্রস্থে যাও। যুধিষ্ঠির এবং তাঁর অনুজদের সপরিবারে এখানে আসার আমন্ত্রণ জানাও। তাদের বলো, হস্তিনাপুরে আমি এক পরম রমণীয়, সর্বসুখদায়ক সভা নির্মাণ করেছি। তারা আসুক, কিছুদিন আমাদের আতিথ্য গ্রহণ করুক, আর দুই পক্ষে মিলে একটু পাশা খেলার আমোদ প্রমোদ করা যাক।" Ne ws বিদুর তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর বুকের ভেতরটা এক অশুভ আশঙ্কায় মুচড়ে উঠল। যখন তিনি কথা বললেন, তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত ধীর, গম্ভীর এবং সংযত—যেমনটা তিনি গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে বরাবর বলে থাকেন। "মহারাজ," বিদুর বললেন, "এই পাশা খেলার আয়োজনের মধ্যে আমি কুরুবংশের বিন্দুমাত্র কল্যাণ দেখতে পাচ্ছি না। দুই ভাইয়ের দলের এই দ্যুতক্রীড়া আসলে এক পরম তিক্ততার ব...

অন্ধরাজার সম্মতি ও এক মহাবিনাশের স্ফটিক তোরণ

Image
  অন্ধরাজার সম্মতি ও এক মহাবিনাশের স্ফটিক তোরণ ইন্দ্রপ্রস্থের সেই চোখ ধাঁধানো রাজসূয় যজ্ঞ শেষ করে দুর্যোধন আর শকুনি যখন হস্তিনাপুরে ফিরে এলেন, তখন নিজেদের চেনা নগরীটাকে বড্ড ম্লান, বড্ড ধূসর বলে মনে হলো। ইন্দ্রপ্রস্থের সেই মায়াবী ঐশ্বর্য আর প্রাসাদের অতিপ্রাকৃত মহিমা তাঁদের পিছু ছাড়েনি; এক অদৃশ্য, ভারী ছায়ার মতো তা যেন গ্রাস করে রেখেছিল তাঁদের অবচেতনাকে। শকুনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করলেন না। তিনি সোজা গিয়ে দাঁড়ালেন অন্ধরাজ ধৃতরাষ্ট্রের সম্মুখে। চোখে তাঁর এক ধুরন্ধর রাজনীতিকের কৃত্রিম উদ্বেগ, যিনি খুব ভালো করেই জানেন শিকারকে কোথায় আঘাত করতে হয়। বিনীত স্বরে শকুনি বললেন, "মহারাজ, আপনার জ্যেষ্ঠপুত্র দুর্যোধন দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছেন, ভেতরে ভেতরে একেবারে শুকিয়ে যাচ্ছেন। আপনি তো চোখে দেখতে পান না, কিন্তু পিতৃহৃদয় দিয়ে কি অনুভবও করতে পারছেন না? এক গভীর বিষাদ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে যুবরাজকে। প্রাসাদের কেউ কি আপনাকে এই দুঃসংবাদ দেয়নি?" ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধ স্নেহের পরিধি ছিল তাঁর প্রজ্ঞার চেয়েও অনেক বড়। জ্যেষ্ঠপুত্রের এই অবস্থার কথা শোনামাত্রই তিনি ব্যাকুল হয়ে দুর্যোধনকে ডেকে পাঠালেন। অত্যন্ত মৃ...

রাজসূয় যজ্ঞের অবসান: এক অনিবার্য ধ্বংসের পূর্বাভাস

Image
  রাজসূয় যজ্ঞের অবসান: এক অনিবার্য ধ্বংসের পূর্বাভাস মহিমান্বিত রাজসূয় যজ্ঞের সমাপ্তি ঘটল। পবিত্র যজ্ঞাগ্নি শান্ত হয়েছে, আমন্ত্রিত ব্রাহ্মণ ও ঋষিকুল দক্ষিণায় সন্তুষ্ট হয়ে বিদায় নিয়েছেন। এতকাল ধরে যে ইন্দ্রপ্রস্থ নগরী পৃথিবীর প্রান্ত থেকে আসা অগণিত রাজা, মহারাজা আর চতুরঙ্গ সেনাবাহিনীর কোলাহলে মথিত হয়ে উঠেছিল, তা ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে। ঠিক যেন বর্ষা শেষে দুকূল প্লাবিত করা নদী আবার তার চেনা খাতের শান্ত জলরেখায় ফিরে যাচ্ছে। বিদায়ের এই অন্তিম প্রহরে যুধিষ্ঠিরের সম্মুখে এসে দাঁড়ালেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস। কৃচ্ছ্রসাধনে শুষ্কমুখ শিষ্যদের পরিবৃত করে যখন বেদব্যাস এলেন, পাণ্ডবশ্রেষ্ঠ যুধিষ্ঠির পরম শ্রদ্ধায় তাঁর আসন গ্রহণ করলেন। ব্যাসদেবের সেই চোখে যুগান্তরের সাক্ষী থাকার ক্লান্তি ও প্রজ্ঞা। তিনি শান্ত কিন্তু গম্ভীর স্বরে বললেন, "রাজন, তুমি এক অসম্ভব কাজ সম্পন্ন করেছ। পৃথিবীতে তোমার এই রাজসূয় যজ্ঞ ধর্মের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। কুরুবংশের কীর্তি আজ তোমার কারণে হিমালয়ের চেয়েও উচ্চ। কিন্তু এবার আমাদের বিদায়ের লগ্ন সমাগত।" যুধিষ্ঠির করজোড়ে প্রণাম করে বিনীত মুখে বললেন, "আপনাদের ...

ইন্দ্রপ্রস্থের বিদায়বেলা রাজসূয় যজ্ঞ শেষ হয়েছে।

Image
  ইন্দ্রপ্রস্থের বিদায়বেলা রাজসূয় যজ্ঞ শেষ হয়েছে। যজ্ঞশেষে অবভৃথ স্নান সেরে যুধিষ্ঠির যখন উঠে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর অবয়বে এক অলৌকিক প্রশান্তি। রাজসিক আড়ম্বর নয়, বরং এক গভীর শুদ্ধতা তাঁকে ঘিরে রেখেছে। এই মুহূর্ত থেকে তিনি কেবল পাণ্ডবজ্যেষ্ঠ নন, তিনি আর্যাবর্তের অধীশ্বর, ধর্মরাজ। ভারতবর্ষের প্রান্ত থেকে প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রাজন্যবর্গ একে একে বিদায় নিতে এলেন। গত কদিন তাঁরা ইন্দ্রপ্রস্থের যে আতিথেয়তা পেয়েছেন, যে মায়া আর সম্মানে জারিত হয়েছেন, তা আগে কখনো ঘটেনি। তাঁদের রথ প্রস্তুত, অশ্বেরা অধীর, অনুচরেরা যাত্রার অপেক্ষায়। যুধিষ্ঠিরের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা একস্বরে বললেন, “হে ধর্মরাজ, আপনার এই মহাযজ্ঞে উপস্থিত থাকতে পেরে আমরা ধন্য। অজমীঢ় বংশের গৌরব আপনি অমলিন করলেন। আপনার ভ্রাতাদের সেবা আর বিনয় আমাদের মুগ্ধ করেছে। আতিথেয়তায় তিলমাত্র ত্রুটি খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। এবার আমাদের নিজ নিজ রাজ্যে ফেরার অনুমতি দিন।” যুধিষ্ঠির শান্ত চোখে তাঁদের কথা শুনলেন। প্রতিটি শব্দের ওজন অনুভব করলেন তিনি। তারপর ভীম, অর্জুন, নকুল আর সহদেবকে ডেকে বললেন, “ভাইসব, অতিথিদের যোগ্য সম্মানে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে এসো। ইন্দ...

শিশুপাল বধ,রাজসূয় যজ্ঞে কৃষ্ণের অর্ঘ্য ও চেদিরাজের অহংকারের করুণ পরিণতি

Image
  শিশুপাল বধ,রাজসূয় যজ্ঞে কৃষ্ণের অর্ঘ্য ও চেদিরাজের অহংকারের করুণ পরিণতি রাজা যুধিষ্ঠিরের মহান রাজসূয় যজ্ঞ তখন তার গৌরবময় সমাপ্তির দিকে এগিয়ে চলেছে। অনেক দিন ধরে অবিরাম চলেছে পবিত্র আচার-অনুষ্ঠান। ভারতবর্ষের প্রতিটি প্রান্ত থেকে এসেছেন মহর্ষিরা, পরাক্রমশালী রাজারা, বিদ্বান ব্রাহ্মণেরা, বীর যোদ্ধারা এবং অভিজাত অতিথিরা। ইন্দ্রপ্রস্থের বিশাল সভাগৃহে যেন এক অপূর্ব সমাবেশ বসেছে। যজ্ঞের আগুন জ্বলছে উজ্জ্বল হয়ে। বেদমন্ত্রের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। চন্দন, ধূপ ও পবিত্র হব্যের সুবাসে ভরে উঠেছে বাতাস। সর্বত্র আনন্দ, সম্মান আর ঐশ্বর্যের ছোঁয়া। যারা একদিন পাণ্ডবদের বিরোধিতা করেছিলেন, সেই রাজারাও আজ শান্তভাবে পাশাপাশি বসেছেন। ব্রাহ্মণেরা উপযুক্ত দক্ষিণা ও আতিথ্যে তুষ্ট। ইন্দ্রপ্রস্থের প্রজারা এই অভূতপূর্ব অনুষ্ঠান দেখে আনন্দে উৎফুল্ল। সকলেই স্বীকার করছেন, পৃথিবীতে এমন গৌরবময় রাজসূয় যজ্ঞ আর কখনো হয়নি। অবশেষে যখন শেষ আচার সম্পন্ন হল, তখন বৃদ্ধেরা ও পুরোহিতেরা রাজসভায় সমবেত হলেন। সেই সময় কুরুকুলের প্রবীণতম পিতামহ ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে সম্বোধন করে বললেন, “বৎস, তোমার রাজসূয় যজ্ঞ সুসম্পন্ন হয়েছে। অন...

রাজসূয় যজ্ঞ: যেদিন ইন্দ্রপ্রস্থ হয়ে উঠেছিল স্বর্গের অমরাবতী

Image
রাজসূয় যজ্ঞ: যেদিন ইন্দ্রপ্রস্থ হয়ে উঠেছিল স্বর্গের অমরাবতী রাজসূয় যজ্ঞ দ্বিগ্বিজয় করতে বেরোলেন  পাণ্ডবরা। ভীম গেছেন পূর্বে, অর্জুন উত্তরে, নকুল পশ্চিমে, সহদেব দক্ষিণে — পৃথিবীর চার প্রান্ত থেকে পরাজিত রাজারা মাথা নত করেছেন যুধিষ্ঠিরের সামনে। ভারতবর্ষের বুকে এমন দিন আগে আসেনি। দূরদূরান্তের রাজারা যাঁরা কখনও কারও অধীনতা স্বীকার করেননি, তাঁরাও ইন্দ্রপ্রস্থের মহারাজের প্রতি আনুগত্য জানিয়েছেন। শান্তি নেমে এসেছে সমগ্র ভূখণ্ডে — গভীর, স্থির, নিশ্চিন্ত শান্তি। এই সময়ে ইন্দ্রপ্রস্থকে দেখলে মনে হত যেন স্বর্গের অমরাবতী মাটিতে নেমে এসেছে। যুধিষ্ঠিরের রাজত্বে কেউ কাউকে ঠকাত না। পথে পথে চোরডাকাতের ভয় ছিল না। দুর্বলকে কেউ পীড়ন করত না। বর্ষা আসত ঠিক সময়ে, ফসল উঠত মাঠে মাঠে, নদীরা বয়ে যেত নিজের গতিতে। বণিকরা দূরদেশে যাতায়াত করতেন নিশ্চিন্তে। প্রজারা কর দিতেন ভয়ে নয়, ভালোবাসায় — যেভাবে সন্তান বাবার হাতে কিছু তুলে দেয়। এই সুখের দিনগুলোতেই একদিন খবর এল — দ্বারকা থেকে কৃষ্ণ আসছেন। ব্যস, আর পায় কে। সারা শহর যেন জেগে উঠল এক মুহূর্তে। রাস্তায় সুগন্ধি জল ছিটানো হল, ফুল দিয়ে সাজানো হল প...

রাজসূয়ের আহ্বানে চার দিক জয়— পাণ্ডবদের দিগ্বিজয়ের মহাকাব্য

Image
রাজসূয়ের আহ্বানে চার দিক জয়— পাণ্ডবদের দিগ্বিজয়ের মহাকাব্য ময়দানব নির্মিত অপূর্ব সভায় তখন প্রতিদিন রাজা-মহারাজা, ঋষি-মুনি, দূরদেশের দূতদের আসা-যাওয়া। ইন্দ্রপ্রস্থ যেন ধীরে ধীরে পৃথিবীর মধ্যমণি হয়ে উঠছে। রাজা যুধিষ্ঠিরের শাসনে প্রজারা সুখী, পথেঘাটে চুরি নেই, কৃষকের গোলা ভরা ধান, ব্যবসায়ীদের নৌকা সোনা-রুপো বোঝাই করে নদীপথে চলেছে। কিন্তু রাজসূয় যজ্ঞের আগে একটি বড় কর্তব্য বাকি ছিল। পৃথিবীর রাজারা যদি যুধিষ্ঠিরকে সম্রাট বলে স্বীকার না করেন, তবে সেই যজ্ঞ পূর্ণ মর্যাদা পাবে না। একদিন সকালে সভা শেষ হলে অর্জুন ধীরে ধীরে যুধিষ্ঠিরের কাছে এসে দাঁড়াল। তার চোখে সেই অদম্য দীপ্তি, যা যুদ্ধের আগুন জ্বালায়। অর্জুন বলল, — “ভ্রাতা, যদি আপনি অনুমতি দেন, তবে আমরা দিগ্বিজয়ে বেরিয়ে পড়ি। পৃথিবীর রাজাদের জয় করে, তাঁদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করে আমরা ফিরে আসব। তখন সমগ্র ভূখণ্ড আপনাকে সম্রাট বলে মেনে নেবে।” যুধিষ্ঠির কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। তিনি ভাইদের মুখের দিকে তাকালেন। ভীমের চোখে উচ্ছ্বাস, নকুল-সহদেব স্থির, আর অর্জুন যেন প্রস্তুত বজ্রের মতো। তারপর যুধিষ্ঠির মৃদু হেসে বললেন, — “আমি জানি, তোমরা চার...