কাম্যক বনে দ্রৌপদীর বিলাপ ও কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা
কাম্যক বনে দ্রৌপদীর বিলাপ ও কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা কাম্যক বনের আদিম ছায়াচ্ছন্ন গাছপালার নিচে একটা থমথমে নীরবতা জমে ছিল। শুধু পাতার ফাঁক দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাসের দীর্ঘশ্বাস আর দূরের কোনো অচেনা পাখির ডাক সেই নিস্তব্ধতাকে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। এই নির্বাসনের ধূসর দিনগুলিতে, যেখানে পাণ্ডবদের ঘরবাড়ি বলতে এখন শুধুই এই অরণ্য, সেখানেই দ্রৌপদী একদিন খুঁজে নিলেন কৃষ্ণকে। কৃষ্ণ তখন অর্জুনের সঙ্গে গভীর কোনো আলাপে মগ্ন। দ্রৌপদী যখন ধীর পায়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে এলেন, তখন বনের আলো-ছায়ার পটভূমিতে তাঁকে বড় করুণ, বড় উদাস দেখাল। এই সেই নারী, যিনি একদিন রানীর সিংহাসনে বসতেন, যাঁর অঙ্গে শোভা পেত রেশম আর সুবর্ণ অলঙ্কার—আজ তিনি এক নির্বাসিতার মলিন, রুক্ষ বসনে বনের ধূলিধূসরিত পথ দিয়ে হেঁটে আসছেন। তাঁর চোখ দুটি, যা চিরকাল এক অহংকারী ও তেজস্বী আত্মায় জ্বলজ্বল করত, আজ অশ্রুরক্তিম আর ক্লান্তিতে ভারী। কৃষ্ণের সামনে এসে তিনি দাঁড়ালেন, কিন্তু প্রথম কয়েক মুহূর্ত তাঁর ঠোঁট দুটি শুধু কাঁপল, কোনো শব্দ ফুটল না। তারপর, বুকের ভেতর জমে থাকা পাথরটা যেন গলে শব্দের আকারে বেরিয়ে এল। "মধুসূদন," দ্রৌপদী শুরু করলেন, তাঁর ক...