অন্ধরাজার সম্মতি ও এক মহাবিনাশের স্ফটিক তোরণ
অন্ধরাজার সম্মতি ও এক মহাবিনাশের স্ফটিক তোরণ ইন্দ্রপ্রস্থের সেই চোখ ধাঁধানো রাজসূয় যজ্ঞ শেষ করে দুর্যোধন আর শকুনি যখন হস্তিনাপুরে ফিরে এলেন, তখন নিজেদের চেনা নগরীটাকে বড্ড ম্লান, বড্ড ধূসর বলে মনে হলো। ইন্দ্রপ্রস্থের সেই মায়াবী ঐশ্বর্য আর প্রাসাদের অতিপ্রাকৃত মহিমা তাঁদের পিছু ছাড়েনি; এক অদৃশ্য, ভারী ছায়ার মতো তা যেন গ্রাস করে রেখেছিল তাঁদের অবচেতনাকে। শকুনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করলেন না। তিনি সোজা গিয়ে দাঁড়ালেন অন্ধরাজ ধৃতরাষ্ট্রের সম্মুখে। চোখে তাঁর এক ধুরন্ধর রাজনীতিকের কৃত্রিম উদ্বেগ, যিনি খুব ভালো করেই জানেন শিকারকে কোথায় আঘাত করতে হয়। বিনীত স্বরে শকুনি বললেন, "মহারাজ, আপনার জ্যেষ্ঠপুত্র দুর্যোধন দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছেন, ভেতরে ভেতরে একেবারে শুকিয়ে যাচ্ছেন। আপনি তো চোখে দেখতে পান না, কিন্তু পিতৃহৃদয় দিয়ে কি অনুভবও করতে পারছেন না? এক গভীর বিষাদ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে যুবরাজকে। প্রাসাদের কেউ কি আপনাকে এই দুঃসংবাদ দেয়নি?" ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধ স্নেহের পরিধি ছিল তাঁর প্রজ্ঞার চেয়েও অনেক বড়। জ্যেষ্ঠপুত্রের এই অবস্থার কথা শোনামাত্রই তিনি ব্যাকুল হয়ে দুর্যোধনকে ডেকে পাঠালেন। অত্যন্ত মৃ...