Posts

১ম ভাগ বিরাটপর্ব-পান্ডবদের অজ্ঞাতবাসের প্রাক্কালে

Image
১ম ভাগ বিরাটপর্ব-পান্ডবদের অজ্ঞাতবাসের প্রাক্কালে- ও শ্রীগণেশার নমঃ। নারায়ণং নমষ্কৃত্য নবঞ্চৈব নরোত্তমম্। দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ।। নারায়ণং নমষ্কৃত্য নবঞ্চৈব নরোত্তমম্। দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ।। বেদব্যাসকে শ্রদ্ধাভরে প্রণাম জানিয়ে পরম কল্যাণপ্রদ 'জয়' নামক শাস্ত্র পাঠ করা উচিত। শব্দানুসারে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে পরপর চারজন পরম পূজনীয় সত্তাকে বন্দনা করা হয়েছে। প্রথমত, 'নারায়ণং (নার (Nāra): 'নর' শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ—জল, সমস্ত জীব বা মহাবিশ্বের কারণস্বরূপ পরম শক্তি+অয়ন (Ayana): আশ্রয়স্থল, বাসস্থান বা চলার পথ।)নমষ্কৃত্য'—(নমস্ (Namas): প্রনাম +কৃ (Kṛ) অর্থাৎ সৃষ্টির মূল আধার ও পরমেশ্বর শ্রীনারায়ণকে বন্দনা। দ্বিতীয়ত, 'নরঞ্চৈব ( নর + চ + এব) নরোত্তমম্'( নর বা মানুষ+উত্তমম বা শ্রেষ্ঠ)অর্থাৎ পুরুষোত্তম 'নর' বা নর-নারায়ণের নর রূপকে স্মরণ। তৃতীয়ত, 'দেবীং সরস্বতীং'—অর্থাৎ বাক্য ও বুদ্ধির অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীকে বিনম্র প্রণাম। এবং চতুর্থত, 'ব্যাসং'—অর্থাৎ মহাকাব্য ও শাস্ত্রের সংকলক সাক্ষাৎ জ্ঞানগুরু ম...

সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি- চতুর্থ পাতা

Image
সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি- চতুর্থ  পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয়  পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত  মহাভারতের বিষয়সূচি-প্রথম পাতা (Index of Brief Mahabharata)  ১ম ভাগ বিরাটপর্ব-পান্ডবদের অজ্ঞাতবাসের প্রাক্কালে-

সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি

Image
সংক্ষিপ্ত   মহাভারতের বিষয়সূচি-প্রথম পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয়  পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি- চতুর্থ  পাতা (Index of Brief Mahabharata) 

৬৫তম বনপর্ব-তৃষ্ণার সরোবর ও ধর্মরাজের পরীক্ষা

Image
৬৫তম বনপর্ব-তৃষ্ণার সরোবর ও ধর্মরাজের পরীক্ষা কাম্যক বনের সেই বিভীষিকাময় রাতটার কথা আজও মনে পড়লে গায়ে কাঁটা দেয়। জয়দ্রথের হাত থেকে দ্রৌপদীকে উদ্ধার তো করা গেল, কিন্তু মনের ভেতর যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল, তা মেটার নয়। অপমানের সেই তীব্র জ্বালা বুকে নিয়ে রাজা যুধিষ্ঠির আর এক মুহূর্তও সেখানে থাকতে পারলেন না। ভাইদের ডেকে বললেন, "চলো, আমরা আবার দ্বৈতবনেই ফিরে যাই।" দ্বৈতবন তখন এক অন্য রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ জুড়িয়ে যাওয়া গাঢ় সবুজ বৃক্ষরাজি, ডালে ডালে সুমিষ্ট ফল, আর বাতাসজুড়ে এক অলৌকিক প্রশান্তি। পাণ্ডবরা স্থির করলেন, রাজকীয় ঐশ্বর্যের মোহ ছেড়ে এবার কেবল ফল-মূল খেয়ে, মিতাহারী হয়ে এখানেই দিন কাটাবেন। দ্রৌপদীকে ঘিরে পাঁচ ভাই নিঃশব্দে গড়ে তুললেন এক আশ্রয়ের বলয়। কিন্তু নিয়তির খেলা যে তখনও ঢের বাকি!  হরিণ ও অরণিকাষ্ঠের রহস্য একদিন সকালবেলা। বনের এক কোণে তপস্যায় বসেছিলেন এক ব্রাহ্মণ। অগ্নিকার্যের জন্য গাছের ডালে সাবধানে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন তাঁর অরণি ও মন্থনকাষ্ঠ—যা দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। এমন সময় কোত্থেকে এক হৃষ্টপুষ্ট বিশালাকার হরিণ এলো সেখানে। গা চুলকানোর সুড়সু...

৬৪তম বনপর্ব- দানবীরের মহামানবীয় কর্ণের জেদ

Image
৬৪তম বনপর্ব- দানবীরের মহামানবীয় কর্ণের জেদ দ্বাদশ বছরের দীর্ঘ বনবাসের প্রহর শেষ হয়ে তখন ত্রয়োদশ বর্ষের সূচনা ঘটছে। পাণ্ডবদের ভবিষ্যৎ বিজয়ের পথ সুগম করতে দেবরাজ ইন্দ্র মনে মনে এক অমোঘ চক্রান্ত রচনা করলেন—যেমন করেই হোক, কর্ণের দেহ থেকে তাঁর জন্মসূত্রে প্রাপ্ত অভেদ্য কবচ ও কুণ্ডল হরণ করতে হবে। কিন্তু মহাবিশ্বের পিতা কি সন্তানের এই আসন্ন বিপদের কথা জেনেও নীরব থাকতে পারেন? দেবরাজ ইন্দ্রের এই গোপন অভিপ্রায়ের কথা জানতে পেরে সূর্যদেবের বুক পিতা স্নেহে আকুল হয়ে উঠল। তিনি স্থির করলেন, পুত্রকে এই সর্বনাশা দানব্রত থেকে রক্ষা করতেই হবে। রাতের নিস্তব্ধতা তখন বিশ্বচরাচরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। সত্যবাদী ও ব্রাহ্মণসেবক বীর কর্ণ নিশ্চিন্ত মনে এক সুন্দর শয্যায় সুষুপ্তিতে নিমগ্ন। এমন সময় স্বপ্নের এক অলৌকিক কুয়াশা ফুঁড়ে কর্ণের শয্যাপাশে এসে দাঁড়ালেন এক তেজস্বী বেদবিদ ব্রাহ্মণ। তাঁর চোখে-মুখে করুণা আর আশঙ্কার আলো-ছায়া। সেই ব্রাহ্মণবেশী সূর্যদেব পরম মমতায় ঘুমন্ত কর্ণের উদ্দেশ্যে বললেন—"হে সত্যবাদী শ্রেষ্ঠ মহাবাহু কর্ণ! পিতা যেমন পুত্রের হিতচিন্তায় আকুল হয়, আমিও তেমনই এক পরম সত্য তোমাকে জানাতে এসেছি। শোনো...

৬৩তম বনপর্ব-সাবিত্রীর ভালোবাসার জয়গাথা: এক মহাকাব্যিক উপাখ্যান-

Image
৬৩তম বনপর্ব-  সাবিত্রীর  ভালোবাসার জয়গাথা: এক মহাকাব্যিক  উপাখ্যান- যুধিষ্ঠিরের অন্তরে বিষাদের ঘন মেঘ। রাজ্য হারিয়েছেন, বনবাসের কষ্ট সহ্য করছেন, কিন্তু সব ছাপিয়ে তাঁর বুকের ভেতর বিঁধছে দ্রৌপদীর দুঃখ। মুনি মার্কণ্ডেয়কে তিনি প্রশ্ন করলেন, "হে ঋষি, রাজত্ব হারানোর যন্ত্রণা তো আছেই, কিন্তু দ্রৌপদীর এই অপমান, এই কষ্ট আমার বুক ঝাঁঝরা করে দেয়। দ্রৌপদীর মতো এমন নিঃস্বার্থ, পতিব্রতা নারী কি এই পৃথিবীতে আর কেউ কখনো জন্মেছেন? আপনি কি এমন কারও কথা জানেন?" ঋষি মার্কণ্ডেয় এক মুহূর্ত থামলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন, "শোনো রাজন, তবে তোমাকে এক মহীয়সী নারীর কথা বলি। মদ্রদেশের রাজকন্যা সাবিত্রী—যে নামে আজও কুলকামিনীরা সৌভাগ্যের আলো খোঁজে।" ১. রাজকন্যার আত্মসংকোচ ও নিয়তির আহ্বান মদ্রদেশের রাজা অশ্বপতি ছিলেন অতিশয় ধর্মপরায়ণ, দাতা ও প্রজাবৎসল। কিন্তু একটিমাত্র খামতি তাঁর জীবনে অন্ধকার করে রেখেছিল—তিনি ছিলেন সন্তানহীন। অবশেষে দেবী সাবিত্রীর আরাধনা করে, তাঁরই কৃপায় তিনি লাভ করলেন পদ্মপলাশলোচনা এক কন্যাকে। দেবীর নামানুসারেই নাম রাখা হলো ‘সাবিত্রী’। কন্যা ক্রমশ বড় হয়ে উঠলেন। যেন সাক্...

৬২তম বনপর্ব -অধর্মের পতন ও অযোধ্যার সূর্যোদয়

Image
৬২তম বনপর্ব -অধর্মের পতন ও অযোধ্যার সূর্যোদয় বনবাসের ক্লান্তিকর দিনগুলো তখন দ্রৌপদী আর ভাইদের নিয়ে গুটিয়ে আনছেন যুধিষ্ঠির। মনের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, অনিশ্চয়তা আর গ্লানি। ঠিক তখনই ঋষি মার্কণ্ডেয় এলেন—যেমনটা তিনি সব সময় আসেন, যেন এক জীবন্ত মহাকাব্যের ইতিহাস বহন করে। যুধিষ্ঠিরের বিষণ্ণ চোখের দিকে তাকিয়ে মার্কণ্ডেয় শোনাতে শুরু করলেন এক মহা-উপাখ্যান, মহাভারতের পাতায় রামায়ণের সেই রামোপাখ্যান। রাবণ তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্রধারী বীরপুত্র ইন্দ্রজিতের দিকে তাকিয়ে বললেন, “পুত্র, তুমি স্বয়ং স্বর্গের ইন্দ্রকে পরাস্ত করেছ। আজ যুদ্ধক্ষেত্রে যাও, ওই রাম-লক্ষ্মণ আর সুগ্রীবকে শেষ করে এসো।” বি: দ্র: রাবন পুত্র মেঘনাথের ইন্দ্রজিৎ হয়ে ওঠার কাহিনি জানতে এখানে ক্লিক করুন। পিতৃ-আজ্ঞা শিরে ধার্য করে ইন্দ্রজিৎ কবচ পরে, রথে চেপে ধাবিত হলেন রণক্ষেত্রে। হুঙ্কার দিয়ে ডেকে উঠলেন লক্ষ্মণকে। লক্ষ্মণও কালবিলম্ব না করে ধনু হাতে সামনে এলেন। হরিণ যেমন সিংহের গর্জনে শিউরে ওঠে, লক্ষ্মণের ধনুষ্টঙ্কারে রাক্ষসসেনারা তেমনই কম্পমান। দুজনেই দিব্যাস্ত্রের ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত, দুজনেই মরিয়া। যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যেই বা...