Posts

দ্বিতীয়ভাগ উদ্যোগপর্ব ছলনার মিষ্টি ফাঁদ: শল্যকে যেভাবে হারালেন যুধিষ্ঠির

Image
দ্বিতীয়ভাগ উদ্যোগপর্ব ছলনার মিষ্টি ফাঁদ: শল্যকে যেভাবে হারালেন যুধিষ্ঠির দূত মারফত পাণ্ডবদের আহ্বান পেয়ে রাজা শল্য দেরি করলেন না। বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে, নিজের মহারথী ছেলেকে সঙ্গে করে তিনি রওনা হলেন পাণ্ডবদের সাহায্যে। তাঁর সৈন্যের এমনই আয়তন যে শিবির পড়ত দুই ক্রোশ জুড়ে—এক অক্ষৌহিণী সেনার অধিপতি তিনি, হাজার হাজার ক্ষত্রিয় সেনাপতি তাঁর অধীনে। এত বড় বাহিনী নিয়ে তাড়াহুড়ো করার তো প্রশ্নই নেই, তাই তিনি বিশ্রাম নিতে নিতে, ধীরে-সুস্থে এগোতে লাগলেন। খবরটা দুর্যোধনের কানেও পৌঁছাল—শল্য আসছেন, তবে পাণ্ডবদের পক্ষে। এ খবরে দুর্যোধন মোটেই হতাশ হলেন না, বরং উল্টো একটা বুদ্ধি খেলে গেল মাথায়। তিনি নিজে গিয়ে দাঁড়ালেন শল্যের অভ্যর্থনার আয়োজনে। পথের ধারে ধারে তৈরি হলো রত্নখচিত, চোখধাঁধানো সব সভাভবন, ভেতরে হাজারো বিনোদনের ব্যবস্থা। শল্য যেখানেই থামলেন, সেখানেই যেন স্বর্গের আপ্যায়ন—মন্ত্রীরা তাঁকে সম্মান জানাল দেবতার মতো করে। একের পর এক জায়গায় এমন আয়োজন দেখে শল্য তো মুগ্ধ। খুশি হয়ে একদিন এক সেবককে জিজ্ঞেস করে বসলেন—"বলো তো, যুধিষ্ঠিরের কোন শিল্পীরা এমন চমৎকার সভাগৃহ বানিয়েছে? তাদের আ...

প্রথমভাগ উদ্যোগপর্ব -বিরাটসভায় এক অস্থির সন্ধ্যা: যুদ্ধের আগে শেষ কথার গল্প:

Image
প্রথমভাগ উদ্যোগপর্ব -বিরাটসভায় এক অস্থির সন্ধ্যা: যুদ্ধের আগে শেষ কথার গল্প: নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরোত্তমম্। দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ।। এটি মহাভারতের বিখ্যাত মঙ্গলাচরণ শ্লোক। শব্দে-শব্দে অর্থ নিচে দেওয়া হলো — **পদ-বিশ্লেষণ ও অর্থ:** - **নারায়ণম্** — নারায়ণ (ভগবান বিষ্ণু)-কে - **নমস্কৃত্য** — নমস্কার করে / প্রণাম জানিয়ে - **নরম্** — নর (ঋষি নর, নারায়ণের সহচর)-কে - **চ এব** — এবং, তথা (জোর দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত) - **নরোত্তমম্** — নরশ্রেষ্ঠ, মানবশ্রেষ্ঠ (এখানে নর ঋষির প্রতি বিশেষণ, অথবা কারও কারও মতে অর্জুনকেও বোঝানো হয়) - **দেবীম্** — দেবী(কে) - **সরস্বতীম্** — সরস্বতী (বিদ্যা ও বাক্‌-দেবী)-কে - **ব্যাসম্** — মহর্ষি বেদব্যাস (মহাভারতের রচয়িতা)-কে - **ততঃ** — তারপর - **জয়ম্** — "জয়" (মহাভারতের আদি নাম "জয়") - **উদীরয়েৎ** — উচ্চারণ করা উচিত / পাঠ করা উচিত **সামগ্রিক অর্থ:** নারায়ণকে প্রণাম করে, নর ও নরোত্তম-কে (ঋষি নর ও তাঁর সহচরকে), দেবী সরস্বতী ও মহর্ষি ব্যাসকে স্মরণ করে, তারপর "জয়" (অর্থাৎ মহাভারত) গ্রন্থ পাঠ আরম্ভ করা উচিত।...

সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি- চতুর্থ পাতা

Image
সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি- চতুর্থ  পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয়  পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত  মহাভারতের বিষয়সূচি-প্রথম পাতা (Index of Brief Mahabharata)  ১ম ভাগ বিরাটপর্ব-পান্ডবদের অজ্ঞাতবাসের প্রাক্কালে- ২য় ভাগ বিরাটপর্ব ছদ্মবেশে মহামানব: মৎস্যদেশের কুয়াশায় পঞ্চপাণ্ডব  ৩য়ভাগ  বিরাটপর্ব -মৎস্যদেশে বল্লবের (ভীমের) মল্লযুদ্ধ ও পাণ্ডবদের গুপ্তকাহিনি চতুর্থ ভাগ -বিরাট পর্ব-কীচকের দ্রৌপদীর প্রতি আসক্তি এবং দ্রৌপদীকে অপমান চতুর্থভাগ বিরাটপর্বের  (বর্ধিত অংশ) মৃত্যু যখন সৈরন্ধ্রীর ছদ্মবেশে দাঁড়িয়ে ছিল — কীচক-বধের কাহিনি পঞ্চমভাগ বিরাটপর্ব -বাতাসে মৃত্যুর গন্ধ ও কৌরব সভায় নিঃশব্দ ষড়যন্ত্র- ষষ্ঠভাগ-বিরাটপর্ব গোধূলির আলোয় রক্তের দাগ: সুশর্মার দম্ভ চূর্ণ সপ্তমভাগ বিরাটপর্ব -বিরাট রাজার রাজপুত্র উত্তর আর বৃহন্নলা অর্জুন: এক আত্মআবিষ্কারের গল্প অষ্টমভাগ-বিরাটপর্ব- গাণ্ডীবের টঙ্কার আর সেই প্রথম কু...

সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি

Image
সংক্ষিপ্ত   মহাভারতের বিষয়সূচি-প্রথম পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয়  পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি- চতুর্থ  পাতা (Index of Brief Mahabharata) 

১১তম বিরাট পর্ব- বিরাটসভায় পাণ্ডবদের মহাপরিচয় ও উত্তরা–অভিমন্যুর শুভবিবাহ

Image
১১তম বিরাট পর্ব- বিরাটসভায় পাণ্ডবদের মহাপরিচয় ও উত্তরা–অভিমন্যুর শুভবিবাহ ত্রয়োদশ বর্ষের দীর্ঘ অজ্ঞাতবাস শেষ হয়েছে। যেন বহুদিনের মেঘ সরে গিয়ে আবার সূর্যের মুখ দেখা দিয়েছে। সেদিন ভোরে স্নান সেরে পাঁচ পাণ্ডব শ্বেতবস্ত্র পরলেন, অলংকারে সজ্জিত হলেন। আর কোনো ছদ্মবেশ নয়—আজ তাঁরা নিজেদের প্রকৃত পরিচয়ে ফিরে এসেছেন। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে সামনে রেখে তাঁরা ধীর পায়ে প্রবেশ করলেন মৎস্যরাজ বিরাটের সভাভবনে এবং রাজার আসনেই গিয়ে বসলেন। কিছুক্ষণ পর রাজা বিরাট সভায় এলেন। চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে তিনি বিস্মিত, তারপর ক্রুদ্ধ। যে কঙ্ককে তিনি পাশা খেলার সঙ্গী হিসেবে রেখেছিলেন, সে আজ রাজসিংহাসনে! ঠোঁটে হালকা বিদ্রূপের হাসি এনে তিনি বললেন, —কঙ্ক, তোমাকে তো আমি পাশা খেলার জন্য রেখেছিলাম। আজ এত রাজসিক সাজে সিংহাসনে বসে আছ কেন? রাজা তখনও জানতেন না, তাঁর সামনে বসে আছেন হস্তিনাপুরের প্রকৃত অধিকারী। রাজা বিরাটের কথা শেষ হতে না হতেই অর্জুন মৃদু হেসে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল না কোনো অহংকার, ছিল সত্যের দীপ্তি। —মহারাজ, আপনার এই সিংহাসন তো দূরের কথা, ইন্দ্রের অর্ধেক সিংহাসনেও বসার যোগ্যতা রয়েছে এই মহা...

দশম ভাগ বিরাট পর্ব- পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সমাপ্তি

Image
 দশম ভাগ বিরাট পর্ব- পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সমাপ্তি যুদ্ধ থেমে গেলে একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে রণক্ষেত্রে— যেন এতক্ষণ যে ঝড় বয়ে গেল, তার রেশ কাটতে আরেকটু সময় লাগে সবারই। কৌরবরা তখন পালিয়ে গেছেন, আর সেই এলোমেলো ভিড়ের মধ্যে থেকে যারা এদিক-ওদিক লুকিয়ে ছিল, সেই সব সাধারণ সৈনিক, তারা একে একে ভয়ে ভয়ে বেরিয়ে এল অর্জুনের সামনে। ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত, পিপাসার্ত, পরের দেশে এসে যুদ্ধ করার সেই অসহায়তা তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট। তারা মাথা নত করে বলল— কুন্তীনন্দন, আমরা আপনার আদেশ মেনে চলব। অর্জুন তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন— তোমাদের মঙ্গল হোক। ভয় পেয়ো না, নিজেদের দেশে ফিরে যাও। যারা বিপদে পড়ে, আমি তাদের মারি না। বিশ্বাস রাখো। এই কথায় কী যে স্বস্তি নেমে এল তাদের মধ্যে! তারা আয়ু, কীর্তি, যশ কামনা করে আশীর্বাদ জানাল অর্জুনকে, তারপর ফিরে গেল যে যার পথে। তারপর অর্জুন উত্তরকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন— পুত্র, তুমি এখন জেনে গেছ, তোমার বাবার কাছেই আমরা এতদিন লুকিয়ে ছিলাম। কিন্তু নগরে ঢুকে এই কথা প্রকাশ কোরো না, তাহলে তোমার বাবা ভয়েই হয়তো প্রাণ হারাবেন। উত্তর তখনও পুরোপুরি ...

নবমভাগ বিরাটপর্ব বিজয়ী অর্জুন এবং এক বিষণ্ণ অপরাহ্ন

Image
  নবমভাগ বিরাটপর্ব বিজয়ী অর্জুন এবং এক বিষণ্ণ অপরাহ্ন অর্জুনের একক বিজয় এরপর অশ্বত্থামা এসে আক্রমণ করলেন অর্জুনকে। মেঘ যেমন অঝোরে জল ঢালে, তেমনি তাঁর ধনুক থেকে বাণ ঝরতে লাগল। বাণের বেগ ছিল ঝড়ের মতো, তবু অর্জুন সেগুলো ঠেকিয়ে দিয়ে অশ্বত্থামার ঘোড়াগুলোকে আহত করলেন। অশ্বত্থামাও কম যান না, একটুখানি সুযোগ পেয়েই বাণ দিয়ে অর্জুনের ধনুকের ছিলা কেটে দিলেন। এই কাজ দেখে দেবতারা পর্যন্ত প্রশংসা করলেন, ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, কৃপাচার্য সবাই তারিফ করলেন অশ্বত্থামার। তারপর আবার তিনি অর্জুনকে লক্ষ্য করে বাণ ছুঁড়লেন, আর দুজনের মধ্যে জমে উঠল রোমাঞ্চকর লড়াই। দুজনেই মহাবীর, দুজনেই একে অপরের ওপর ক্রমাগত বাণ ছুঁড়ে চললেন। অর্জুনের কাছে ছিল দিব্য তূণীর— তাতে বাণ কখনো ফুরাত না, তাই তিনি লড়ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল হয়ে। কিন্তু অশ্বত্থামার বাণ ফুরিয়ে এল একসময়, তাই লড়াইয়ে অর্জুন এগিয়ে গেলেন। বি:দ্র: অশ্বথামার জন্ম কাহিনি ঝালিয়ে নিতে এখানে ক্লিক করুন  ঠিক তখনই কর্ণ তাঁর ধনুকে টঙ্কার দিলেন। সেই শব্দ শুনে অর্জুন ফিরে তাকালেন, আর কর্ণকে দেখামাত্র তাঁর চোখে জ্বলে উঠল পুরনো রাগ। অশ্বত্থামাকে ছেড়ে ত...