অমরাবতীর অলিন্দে পাঁচ বছর: অর্জুনের স্বর্গবাসের দিনলিপি
অমরাবতীর অলিন্দে পাঁচ বছর: অর্জুনের স্বর্গবাসের দিনলিপি মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন তার ভেতরের সমস্ত ভার—কর্তব্যের দায়, বনবাসের গ্লানি, পাশাখেলায় সর্বস্ব খোয়ানোর অপমান আর ভরা রাজসভায় অপমানিত দ্রৌপদীর সেই করুণ মুখ—সবকিছু মিলেমিশে এমন এক অখণ্ড পাথর হয়ে ওঠে যে, নিজের অস্তিত্ব আর সেই বোঝার তফাত করা যায় না। কাম্যক বনের ভাইদের ছেড়ে এসে যখন অর্জুন হিমালয়ের নিস্তব্ধ চূড়ায় একা দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন তাঁর পিঠেও ছিল এই অন্তহীন বোঝা। কিন্তু আজ যেন ভেতরের হাওয়াটা একটু বদলেছে। তাঁর চারপাশে ছড়িয়ে আছে এমন সব অস্ত্র, যা মর্ত্যের কোনো রাজা কোনোদিন চোখেও দেখেনি—দেবতাদের উপহার, এক অলৌকিক ঐশ্বর্যের স্মারক। অর্জুনের বুকের ভেতর এখন এক গভীর, অচঞ্চল শান্তি। কাম্যক বন থেকে যে মানুষটা বেরিয়েছিল, এই মানুষটা আর সে নয়। তিনি এখন অপেক্ষা করছেন। একটা রথের অপেক্ষা। মাতলির আগমন ও স্বর্গের আহ্বান অপেক্ষা দীর্ঘ হলো না। হঠাৎই হিমালয়ের শৃঙ্গগুলোর ওপর আকাশের আলো এমনভাবে বদলে গেল, যার সাথে সূর্যের কোনো সম্পর্ক নেই। এ এক অন্যরকম আলো—ঘন, স্থির, যার নিজস্ব একটা ওম আছে। তারপর কানে এলো সেই শব্দ। এক গভীর, গুরুগম্ভীর প্রতিধ্বনি...