৫৪তম বনপর্ব-অপমানের ছাই থেকে রাজসূয়ের দর্প: কর্ণের দিগ্বিজয় ও বৈষ্ণব যজ্ঞের আখ্যান
৫৪তম বনপর্ব-অপমানের ছাই থেকে রাজসূয়ের দর্প: কর্ণের দিগ্বিজয় ও বৈষ্ণব যজ্ঞের আখ্যান দ্বৈতবনের সেই চরম অপমানের গ্লানি তখনও কুরুরাজের কপালে স্বেদবিন্দুর মতো জমে আছে। গন্ধর্বদের হাতে বন্দী হয়ে শেষে কি না চিরশত্রু পাণ্ডবদের দয়ায় মুক্তি পেতে হলো! হস্তিনাপুরে যখন দুর্যোধন ফিরলেন, তাঁর মেরুদণ্ড সোজা ছিল না, চোখের কোণে ছিল তীব্র দাহ। এই চরম লজ্জার মুহূর্তে বৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্ম তাঁকে ডেকে পাঠালেন। কুরুপ্রবীণের বিশাল কক্ষে সেদিন আলো ছিল কম, কিন্তু তাঁর কণ্ঠে মিশে ছিল এক মহাসমুদ্রের মতো ক্ষোভ আর করুণা। ভীষ্ম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "বৎস দুর্যোধন, তোমরা যখন দ্বৈতবনে যাওয়ার জন্য উন্মত্ত হয়ে উঠেছিলে, আমি তখনই বারণ করেছিলাম। আমার মন সায় দেয়নি। কিন্তু তুমি তখন অন্ধ, আমার কথায় কর্ণপাত করোনি। তার ফল কী হলো? শত্রুর হাতে খড়কুটোর মতো বন্দী হতে হলো তোমাকে, আর সেই পরম ধার্মিক পাণ্ডবরাই দয়া করে তোমাকে মুক্ত করল! কুলের পক্ষে এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে? সেদিন তো তোমার মহাপরাক্রমশালী সৈন্যদল, এমনকি তোমার ওই পরম সখা সূতপুত্র কর্ণও রণক্ষেত্র ছেড়ে কাপুরুষের মতো পালিয়ে গিয়েছিল। মহাত্মা পাণ্ডবদের প্রকৃত...