প্রথম ভাগ মহাভারতের ভীষ্মপর্ব-শরশয্যায় মহাকাল: কুরুলীলার রক্তসন্ধ্যা
প্রথম ভাগ মহাভারতের ভীষ্মপর্ব-শরশয্যায় মহাকাল: কুরুলীলার রক্তসন্ধ্যা মহাভারতের যুদ্ধ শুধুই অস্ত্রবিক্ষোভের কাহিনি নয়, তা এক চিরন্তন মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডি। কুরুক্ষেত্রের প্রান্তর যখন রণদুন্দুভির আশঙ্কায় থমথম করছে, তখন একদিকে পাণ্ডব শিবিরের বিপুল আয়োজন, অন্যদিকে কৌরব পক্ষের ব্যূহ রচনা—সব মিলিয়ে সমগ্র আর্যাবর্ত যেন এক রক্তক্ষয়ী ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছিল। যুধিষ্ঠির সমন্তপঞ্চক তীর্থের প্রান্তরে বিশাল সৈন্য সমাবেশ ঘটালেন। সেই বিপুল সৈন্যের পদভারে ধরাতল কেঁপে উঠল; কুরুক্ষেত্র ব্যতীত সমগ্র পৃথিবী যেন এক নিমেষে জনশূন্য, শুধু বৃদ্ধ, শিশু ও নারীরাই স্বগৃহে রয়ে গেল। পৃথিবীর সর্বপ্রান্ত থেকে আসা বীরদের জন্য খাদ্যের সুব্যবস্থা করে, পোশাক ও সংকেত নির্দিষ্ট করে যুধিষ্ঠির যুদ্ধের শৃঙ্খলা রক্ষা করলেন। যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তে ধর্ম ও মানবিকতার মর্যাদা রক্ষার্থে উভয় পক্ষ এক ঐতিহাসিক নিয়মাবলীতে আবদ্ধ হয়েছিল। স্থির হলো—দিনের শেষে যুদ্ধ থামলে সকলে আবার পূর্বের ন্যায় মিত্রভাবে মিলিত হবে; বাকযুদ্ধ কেবল বাকযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকবে; রথী লড়বেন রথীর সঙ্গে, পদাতিক পদাতিকের সঙ্গে; আর শরণাগত, অস্ত্রহীন, ভীত কিংবা ...