৩২তম বন পর্ব, গন্ধমাদনে দুই ভায়ের মিলন: ভীম যেদিন হনুমানের লেজ নাড়াতে পারেননি
৩২তম বন পর্ব, গন্ধমাদনে দুই ভায়ের মিলন: ভীম যেদিন হনুমানের লেজ নাড়াতে পারেননি
নর-নারায়ণের সেই আশ্রমে অর্জুনের প্রতীক্ষায় ছয়টি রাত কেটে গেল পাণ্ডবদের। বনবাসের দিনগুলো এমনই—অপেক্ষা যেন এক নিরন্তর তপস্যা, প্রতিটি প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর।
সেদিন হঠাৎই ঈশানকোণ থেকে বাতাসে ভেসে এলো একটি সহস্রদল পদ্ম। দিব্য তার আভা, সূর্যের মতো উজ্জ্বল, আর তার গন্ধ এমন যে মনে হয় স্বর্গের কোনো উদ্যান থেকেই যেন খসে পড়েছে। ফুলটি এসে পড়ল মাটিতে, আর ঠিক তখনই দ্রৌপদীর চোখ আটকে গেল তার ওপর। কৌতূহলী পায়ে এগিয়ে গিয়ে তিনি ফুলটি তুলে নিলেন, তারপর প্রসন্ন মুখে ভীমের দিকে তাকিয়ে বললেন—"আর্যপুত্র, এই কমলটি আমি ধর্মরাজকে উপহার দেব। আপনার যদি আমার প্রতি একটুও স্নেহ থাকে, তাহলে এমন আরও কিছু ফুল এনে দিন। আমি কাম্যকবনের আশ্রমে এগুলো নিয়ে যেতে চাই।"
এই বলে দ্রৌপদী ফুলটি নিয়ে চলে গেলেন যুধিষ্ঠিরের কাছে। আর ভীম—মহাবলী ভীমসেন, যাঁর হৃদয়ে দ্রৌপদীর সামান্যতম ইচ্ছাও পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বাজে—তিনি সেই মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিলেন, যেদিক থেকে ফুলটি এসেছিল, সেদিকেই যাত্রা করবেন। সোনার কারুকাজ করা ধনুক-বাণ কাঁধে নিয়ে তিনি চলতে শুরু করলেন মত্ত হাতির মতো, দুর্বার গতিতে। পথ চলতে চলতে তাঁর গর্জন এমন ভয়ংকর শোনাচ্ছিল, যেন আকাশে মেঘে মেঘে সংঘর্ষ হচ্ছে। সেই শব্দে বাঘেরা গুহা ছেড়ে পালাল, বনের পশুরা দিগ্বিদিক ছুটল, পাখিরা আতঙ্কে উড়ে গেল আকাশে।
কিছুদূর যাওয়ার পর গন্ধমাদন পর্বতের চূড়ায় তিনি দেখতে পেলেন এক বিশাল কদলীবন—কয়েক যোজন জুড়ে বিস্তৃত। ভীম নৃসিংহের মতো গর্জন করে এক লাফে সেই বনে প্রবেশ করলেন।
সেই কদলীবনেই বাস করতেন মহাবীর হনুমান। ভীমের আগমনের খবর তাঁর কাছে আগেই পৌঁছেছিল। তিনি ভাবলেন, এই পথ দিয়ে ভীমের স্বর্গে যাওয়া ঠিক হবে না—পথে কেউ হয়তো তাঁকে অপমান করবে, শাপ দেবে। ভাইকে রক্ষা করার এই ভাবনা থেকেই তিনি কদলীবনের পথ জুড়ে শুয়ে রইলেন। তন্দ্রার মধ্যে হাই তুলতে তুলতে তিনি লেজ আছড়ে ফেললেন মাটিতে, আর সেই শব্দের প্রতিধ্বনি এত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল যে পর্বতও কেঁপে উঠল। ভীম সেই আওয়াজে রোমাঞ্চিত হলেন, এবং তার উৎস খুঁজতে খুঁজতে বনের গভীরে ঢুকে পড়লেন।
ঘুরতে ঘুরতে তিনি দেখলেন—এক বিশাল শিলাখণ্ডের ওপর শুয়ে আছেন বানররাজ হনুমান। লাল জিভ, লাল ঠোঁট, কানও রক্তবর্ণ, খোলা মুখে ধারালো দাঁতের সারি, চোয়াল কঠিন। তেজে দীপ্ত মুখখানা যেন পূর্ণিমার চাঁদ। শরীরের আভা জ্বলন্ত আগুনের মতো, হলুদ চোখ দুটো এদিক-ওদিক চেয়ে দেখছেন। বিশাল দেহ দিয়ে তিনি যেন হিমালয়ের মতোই স্বর্গের পথ আটকে বসে আছেন।
একা শুয়ে থাকা এই বিশাল বানরকে দেখে ভীম নির্ভয়ে এগিয়ে গিয়ে সিংহনাদ ছাড়লেন। সেই গর্জনে বনের সমস্ত প্রাণী কেঁপে উঠল ভয়ে। হনুমান আলতো চোখ মেলে ভীমকে দেখে মৃদু হেসে বললেন—"আরে, আমি তো অসুস্থ, এখানে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। আমাকে জাগালে কেন? তুমি তো বুদ্ধিমান, প্রাণীর প্রতি দয়া থাকা উচিত তোমার। কেন এমন নিষ্ঠুর আচরণে প্রবৃত্ত হচ্ছ? মনে হচ্ছে বিদ্বানদের সেবা তুমি কখনো করোনি। বলো তো, তুমি কে, এই বনে কেন এসেছ? এখানে তো মানুষের বাস নেই, তুমি কোথায় যাবে? এই পাহাড়ে ওঠাই তো অসম্ভব, কেউ পারে না এখানে আরোহণ করতে। এসো, বসে ফলমূল খেয়ে বিশ্রাম নাও, আর যদি আমার কথা মনে ধরে তো এখান থেকেই ফিরে যাও। বৃথা কেন প্রাণসংশয় ডেকে আনছ?"
ভীম বললেন—"বানররাজ, আপনি কে? কেনই বা এই বানররূপ ধারণ করেছেন? আমি চন্দ্রবংশজাত কুরুবংশের সন্তান, মাতা কুন্তীর গর্ভে জন্ম, পিতা মহারাজ পাণ্ডু। লোকে আমাকে পবনপুত্রও বলে—আমার নাম ভীমসেন।"
হনুমান বললেন—"আমি বানর, আর তুমি যে পথে যেতে চাও, আমি তা হতে দেব না। ভালো হয় যদি এখান থেকেই ফিরে যাও, নয়তো প্রাণ যাবে।"
ভীম বললেন—"আমি বাঁচি বা মরি, তাতে আপনার কী এসে যায়? একটু সরে গিয়ে আমাকে পথ দিন।"
হনুমান বললেন—"আমি রোগে জর্জরিত, যেতেই যদি হয়, আমাকে ডিঙিয়ে যাও।"
এই কথায় ভীম বললেন—"জ্ঞানগম্য নির্গুণ পরমাত্মা সব প্রাণীর দেহে ব্যাপ্ত হয়ে আছেন। তাই আপনাকে ডিঙিয়ে আমি সেই পরমাত্মাকে অপমান করতে পারব না। শাস্ত্রজ্ঞান না থাকলে আমি হয়তো আপনাকে কেন, এই পর্বতটাকেই ডিঙিয়ে যেতে পারতাম, যেমন শ্রীহনুমান একদিন সমুদ্র লঙ্ঘন করেছিলেন।"
হনুমান কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন—"এই হনুমান আবার কে, যে সমুদ্র পার হয়েছিল? তার কথা কিছু জানলে বলো তো।"
ভীম বললেন—"সেই বানরশ্রেষ্ঠ আমার ভ্রাতা। বল, বুদ্ধি, উৎসাহে ভরপুর, গুণবান, রামায়ণে যাঁর কীর্তি অমর। সীতাদেবীকে খুঁজতে তিনি এক লক্ষ যোজন বিস্তৃত সমুদ্র পার হয়েছিলেন। আমিও বল-পরাক্রমে তাঁরই সমকক্ষ। তাই বলছি, সরে যান, পথ দিন। না দিলে যমপুরীতে পাঠিয়ে দেব।"
হনুমান তখন বললেন—"রাগ কোরো না, ভাই। বয়স হয়ে গেছে, ওঠার শক্তি নেই। তুমি বরং আমার লেজটা একটু সরিয়ে দাও।"
ভীম অবজ্ঞাভরে হেসে বাঁ হাতে লেজ তুলতে গেলেন—কিন্তু নড়ল না এক চুলও। দুই হাতে চেষ্টা করলেন, তাতেও ব্যর্থ। লজ্জায় মাথা নত হয়ে এলো তাঁর। হাত জোড় করে প্রণাম জানিয়ে বললেন—"বানররাজ, আমার ওপর প্রসন্ন হোন। যে কটু কথা বলেছি, তার জন্য ক্ষমা করুন। আপনি কে, দয়া করে বলুন—সিদ্ধ, দেবতা, গন্ধর্ব, নাকি গুহ্যক? যদি গোপনীয় না হয়, আমি শিষ্যের মতোই জানতে চাই।"
তখন হনুমান নিজের পরিচয় দিলেন—বায়ুপুত্র তিনি, কেশরীর ঘরে জন্ম, সুগ্রীবের সখা। কীভাবে বালী সুগ্রীবকে রাজ্যচ্যুত করেছিলেন, (কিষ্কিন্ধ্যার রাজপ্রাসাদে রক্তের টান ও প্রতিশোধের রাজনীতি: বালী-সুগ্রীবের আদিম দ্বন্দ্ব জানতে এখানে ক্লিক করুন) কীভাবে শ্রীরাম বনবাসে এসে সুগ্রীবের সঙ্গে মিত্রতা করেছিলেন, কীভাবে রাবণ সীতাকে হরণ করেছিল, আর কীভাবে তিনি স্বয়ং সমুদ্র লঙ্ঘন করে লঙ্কায় পৌঁছে সীতার সন্ধান পেয়েছিলেন—পুরো কাহিনি একে একে শোনালেন। বললেন কীভাবে লঙ্কা পুড়িয়ে ফিরে এসেছিলেন, কীভাবে রামচন্দ্র সেতু বেঁধে লঙ্কায় গিয়ে রাবণ বধ করেছিলেন, আর বিভীষণকে রাজ্যাভিষিক্ত করেছিলেন। ( রামের ধনুর্বাণ, সুগ্রীবের সেনা: সীতা উদ্ধারের নেপথ্যে এক ঐতিহাসিক চুক্তি জানতে এখানে ক্লিক করুন) সবশেষে বললেন—"রামের কাছে আমি বর চেয়েছিলাম, যতদিন এই পৃথিবীতে তাঁর কাহিনি প্রচলিত থাকবে, ততদিন আমি জীবিত থাকব। তিনি তথাস্তু বলেছিলেন। সীতাদেবীর কৃপায় এখানে আমি ইচ্ছেমতো দিব্যবস্তু ভোগ করি। রাম এগারো হাজার বছর রাজত্ব করে নিজধামে ফিরে গেছেন। এই স্থান দেবতাদের—মানুষের জন্য দুর্গম। তাই তোমাকে বাধা দিয়েছিলাম, পাছে কেউ তোমাকে অপমান করে। তুমি যে সরোবরের খোঁজে এসেছ, তা এই কাছেই।"
এই কথা শুনে ভীমের মন আনন্দে ভরে উঠল। ভাইকে প্রণাম করে মিষ্টি স্বরে বললেন—"আজ আমার চেয়ে সৌভাগ্যবান আর কেউ নেই, কারণ আজ আমি আমার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার দর্শন পেলাম। একটি ইচ্ছা আছে আমার—সমুদ্র লঙ্ঘনের সময় আপনি যে অনুপম রূপ ধারণ করেছিলেন, তা দেখতে চাই। তাতে আমার আনন্দও হবে, বিশ্বাসও দৃঢ় হবে।"
হনুমান হেসে বললেন—"ভাই, তুমি বা অন্য কেউই সেই রূপ আজ দেখতে পারবে না। সে সময়ের পরিবেশ আর নেই। সত্যযুগ এক রকম ছিল, ত্রেতা-দ্বাপর আলাদা। কাল সবকিছু ক্ষয় করে দেয়—আমার সেই রূপও আর নেই। পৃথিবী, নদী, বৃক্ষ, পর্বত, দেবতা, ঋষি—সবই কালের অনুগামী। যুগ বদলের সাথে দেহ-বল-প্রভাবও কমে-বাড়ে। তাই সেই রূপ দেখার আগ্রহ ছেড়ে দাও।"
কিন্তু ভীম নাছোড়। যুগধর্মের কথা জিজ্ঞেস করলেন—কৃত, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি, প্রতি যুগে ধর্মের রূপ কেমন। হনুমান তখন বিস্তারিত বললেন। কৃতযুগে ধর্ম ছিল সম্পূর্ণ, চার পায়ে দাঁড়িয়ে—তখন রোগ ছিল না, দুঃখ ছিল না, অহংকার-হিংসা-ঈর্ষার নামগন্ধও ছিল না। সব বর্ণের মানুষ এক পরমাত্মার আশ্রয়ে নিষ্কাম কর্ম করে পরম গতি লাভ করত। ত্রেতায় ধর্মের এক পা ক্ষয় হলো, মানুষ যজ্ঞে মন দিল। দ্বাপরে দুই পা ক্ষয়, বেদ চার ভাগে বিভক্ত হলো, মানুষের মধ্যে রাজসিক ভাব প্রবেশ করল, ব্যাধি ও কামনা বাড়ল। আর কলিতে ধর্ম টিকে থাকবে মাত্র এক পায়ে—ভয়, ব্যাধি, ক্রোধ, ক্ষুধা বেড়ে যাবে বহুগুণ।
"তাই বলছি," হনুমান বললেন, "সেই পূর্বরূপ দেখার বাসনা ত্যাগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।"
তবু ভীম নাছোড়বান্দা রইলেন—"আপনার সেই রূপ না দেখে আমি যেতে পারব না। আপনার কৃপা থাকলে দেখান।"
শেষে হনুমান হেসে নিজের দেহ প্রসারিত করলেন। ধীরে ধীরে তাঁর শরীর এমন বিশাল হয়ে উঠল যে গোটা কদলীবন ঢাকা পড়ে গেল তাঁর ছায়ায়। সূর্যের মতো তেজে, সোনার পাহাড়ের মতো দীপ্তিতে সেই রূপ দেখে ভীম চোখ বন্ধ করে ফেললেন বিস্ময়ে। হাত জোড় করে কাঁপা গলায় বললেন—"হে সমর্থ হনুমান, আপনার এই মহাবিস্তার দেখেছি, এবার সংকুচিত করুন। আপনি যেন উদীয়মান সূর্য, মৈনাক পর্বতের মতো অপরিমেয়। আমি তাকাতেও পারছি না। আশ্চর্য লাগছে—আপনি থাকতে রামচন্দ্রকে কেন রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হলো? আপনিই তো একা সব যোদ্ধাসহ লঙ্কা ধ্বংস করতে পারতেন।"
হনুমান গম্ভীর, মধুর স্বরে উত্তর দিলেন—"ভাই, তুমি ঠিকই বলেছ। সেই নীচ রাক্ষস আমার সামনে দাঁড়াতেই পারত না। কিন্তু রাবণকে যদি আমি বধ করতাম, তবে রামের এই কীর্তি হতো না—তাই আমি করিনি। রামচন্দ্রই তাঁকে বধ করে সীতাকে নিয়ে অযোধ্যায় ফিরলেন, তাঁর যশ ছড়িয়ে পড়ল জগৎ জুড়ে।"
তারপর হনুমান পথের দিকনির্দেশ দিলেন—সামনের পথ সৌগন্ধিক বনে যাবে, সেখানে কুবেরের বাগান, যক্ষ-রাক্ষসে সুরক্ষিত। সাবধান করলেন—"তাড়াহুড়ো করে ফুল তুলতে যেয়ো না, দেবতাদের মান্য কোরো। বেশি সাহস দেখিয়ো না, নিজধর্ম পালন কোরো।"
এরপর এল সেই বিখ্যাত উপদেশ—রাজধর্মের কথা। ক্ষত্রিয়ের কর্তব্য প্রজাপালন, ব্রাহ্মণের যজ্ঞ-অধ্যয়ন-দান, বৈশ্যের পশুপালন ও বাণিজ্য, শূদ্রের ত্রিবর্ণের সেবা। রাজা কেমন করে বৃদ্ধ ও বিদ্বানদের পরামর্শ নেবেন, সাম-দান-দণ্ড-ভেদ কীভাবে প্রয়োগ করবেন, গুপ্তচর দিয়ে শত্রু-মিত্রের খবর কীভাবে রাখবেন—এসব বিস্তারিত বুঝিয়ে হনুমান বললেন—"ধর্মজ্ঞান না থাকলে, বড়দের সেবা না করলে, স্বয়ং বৃহস্পতির মতো পণ্ডিত হয়েও ধর্ম-অর্থের প্রকৃত তত্ত্ব বোঝা যায় না। কখনো অধর্মই ধর্ম হয়ে ওঠে, কখনো ধর্মই অধর্ম—তাই দুইয়ের প্রভেদ বোঝার জ্ঞান থাকা চাই।"
এত কথা বলার পর হনুমান নিজের বিশাল দেহ আবার সংকুচিত করে দুই হাতে ভীমকে জড়িয়ে ধরলেন বুকে। সেই আলিঙ্গনে ভীমের সমস্ত ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে গেল, মনে হলো যেন তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই এই জগতে। হনুমান তখন চোখে জল নিয়ে গদগদ কণ্ঠে বললেন—"ভাই, এবার যাও। বিপদে পড়লে আমাকে স্মরণ কোরো। আমি যে এখানে থাকি, তা কাউকে বোলো না। তোমার স্পর্শে আমার রামচন্দ্রের কথা মনে পড়ে গেল। চাও তো বর—হস্তিনাপুরে গিয়ে দুর্যোধনদের বধ করে দিই, অথবা এখনই দুর্যোধনকে বেঁধে তোমার সামনে নিয়ে আসি।"
ভীম প্রসন্ন হয়ে বললেন—"বানররাজ, আপনার মঙ্গল হোক। আপনার কৃপাদৃষ্টিই যথেষ্ট। এখন পাণ্ডবরা সনাথ হলো, আপনার প্রতাপেই আমরা সব শত্রু পরাস্ত করব।"
হনুমান শেষে বললেন—"ভাই ও সুহৃদ হিসেবে তোমার প্রিয় কাজ আমি করবই। যখন তুমি যুদ্ধে শত্রুসেনার মধ্যে ঢুকে সিংহনাদ করবে, তখন আমি আমার শক্তি দিয়ে তোমার সেই গর্জন আরও তীব্র করে দেব, আর অর্জুনের ধ্বজায় বসে এমন গর্জন করব যে শত্রুরা আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে যাবে।"
এই বলে হনুমান ভীমকে পথ দেখিয়ে দিলেন, তারপর ধীরে ধীরে অন্তর্হিত হয়ে গেলেন সেই কদলীবনের গভীরে।
বি: দ্র: আমি সংক্ষিপ্ত মহাভারতের আদি পর্ব ৭১তম ভাগে এবং সভা পর্ব ১৬তম ভাগে সম্পন্ন করেছি। এখন চলছে সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বনপর্বের ৩২তম ভাগের আলোচনা এবং এটি এগিয়ে চলবে।
বনপর্বের ৩১তম ভাগের সংক্ষিপ্ত আলোচনা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত ভাগ এই ব্লগে পেতে নিচের লিংকগুলিতে ক্লিক করুন ।
সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি-সূচি পত্রের প্রথম পাতা (Index of Brief Mahabharata first page)
সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি-সূচি পত্রের দ্বিতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata second page)
সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি- তৃতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)
আপনার যদি কোনো জিজ্ঞাসা, প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, তবে নিচের comment boxএ লিখুন :

Comments
Post a Comment