Posts

Showing posts from July, 2026

চতুর্থভাগ উদ্যোগপর্ব -ধর্মের নামে যুদ্ধের দামামা: সঞ্জয়কে কৃষ্ণের শেষ হুঁশিয়ারি

Image
চতুর্থভাগ উদ্যোগপর্ব -ধর্মের নামে যুদ্ধের দামামা: সঞ্জয়কে কৃষ্ণের শেষ হুঁশিয়ারি কৃষ্ণ তখন গম্ভীর মুখে সঞ্জয়ের দিকে তাকালেন। বললেন, "সঞ্জয়, আমি যেমন পাণ্ডবদের ধ্বংস থেকে বাঁচাতে চাই, তাঁদের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দিতে চাই, ঠিক তেমনই ধৃতরাষ্ট্রেরও শান্তি আর সমৃদ্ধি কামনা করি। আমার একটাই চাওয়া—দুই পক্ষই যেন শান্ত থাকে। যুধিষ্ঠির নিজে শান্তিপ্রিয়, একথা আমি জানি আর সবার সামনে স্বীকারও করছি। কিন্তু সঞ্জয়, শান্তি হওয়াটা সহজ মনে হচ্ছে না। ধৃতরাষ্ট্র যখন নিজের ছেলেদের সঙ্গে মিলে লোভের বশে পাণ্ডবদের রাজ্য দখল করতে চাইছেন, তখন বিবাদ তো বাড়বেই। বি:দ্র: এখানে এগিয়ে যাওয়ার আগে সঞ্জয় সম্পর্কে সংক্ষেপে আমাদের যা জানা দরকার তা তুলে ধরা হলো যা জানতে এখানে ক্লিক করুন  তুমি জানো, আমার দ্বারা বা যুধিষ্ঠিরের দ্বারা ধর্মলোপ হতে পারে না। তাহলে যে মানুষ সবসময় নিষ্ঠার সাথে ধর্ম পালন করে, তার ধর্মলোপের ভয় তুমি কেন পাচ্ছ? যুধিষ্ঠির তো শুরু থেকেই শাস্ত্রমতে কুটুম্বদের সঙ্গে চলেছেন। নিজের রাজ্যের অংশ ফিরে পাওয়ার চেষ্টাকে তুমি ধর্মলোপ বলছ কীভাবে? সংসারে থেকেও তো এই বিধান আছে—শুধু ব্রাহ্মণরাই সব ত্...

তৃতীয়ভাগ উদ্যোগপর্ব- শান্তির প্রস্তাব, আর যুদ্ধের ছায়া: কুরুক্ষেত্রের আগে শেষ কথোপকথন

Image
তৃতীয়ভাগ উদ্যোগপর্ব- শান্তির প্রস্তাব, আর যুদ্ধের ছায়া: কুরুক্ষেত্রের আগে শেষ কথোপকথন শল্য তাঁর কথা শেষ করলেন এভাবে—"যুধিষ্ঠির, ইন্দ্রকেও তো স্ত্রীসহ কষ্ট পেতে হয়েছিল, শত্রু বধের জন্য তাঁকেও লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। তাই দ্রৌপদী আর ভাইদের নিয়ে তোমাকে যে বনে কষ্ট সইতে হয়েছে, তাতে মন খারাপ কোরো না। বৃত্রাসুরকে মেরে ইন্দ্র যেমন রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন, তেমনই তুমিও ফিরে পাবে। অগস্ত্যের অভিশাপে নহুষের যেমন পতন হয়েছিল, তেমনই দুর্যোধন-কর্ণেরও পতন হবে।" বি:দ্র :ইন্দ্র,ইন্দ্রানী ও বৃত্রাসুরের কাহিনি ঝালিয়ে নিতে এখানে ক্লিক করুন  এই কথায় সান্ত্বনা পেয়ে যুধিষ্ঠির যথাযথ সম্মানে শল্যকে আপ্যায়ন করলেন। তারপর মদ্ররাজ বিদায় নিয়ে সেনাসহ চলে গেলেন দুর্যোধনের কাছে। এদিকে একে একে আসতে লাগলেন আরও সব যোদ্ধা। যাদব মহারথী সাত্যকি এলেন বিশাল চতুরঙ্গিণী সেনা নিয়ে—নানা দেশের বীরে সাজানো, অস্ত্রশস্ত্রে ঝলমলে সেই বাহিনী। চেদিরাজ ধৃষ্টকেতু এলেন এক অক্ষৌহিণী নিয়ে, জরাসন্ধপুত্র জয়ৎসেন এলেন আরেক অক্ষৌহিণী নিয়ে, আর পাণ্ড্যরাজও নিয়ে এলেন সমুদ্রতীরের বীরদের। একে একে দ্রুপদের সেনা, বিরাটের পার্বত্য ম...

দ্বিতীয়ভাগ উদ্যোগপর্ব ছলনার মিষ্টি ফাঁদ: শল্যকে যেভাবে হারালেন যুধিষ্ঠির

Image
দ্বিতীয়ভাগ উদ্যোগপর্ব ছলনার মিষ্টি ফাঁদ: শল্যকে যেভাবে হারালেন যুধিষ্ঠির দূত মারফত পাণ্ডবদের আহ্বান পেয়ে রাজা শল্য দেরি করলেন না। বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে, নিজের মহারথী ছেলেকে সঙ্গে করে তিনি রওনা হলেন পাণ্ডবদের সাহায্যে। তাঁর সৈন্যের এমনই আয়তন যে শিবির পড়ত দুই ক্রোশ জুড়ে—এক অক্ষৌহিণী সেনার অধিপতি তিনি, হাজার হাজার ক্ষত্রিয় সেনাপতি তাঁর অধীনে। এত বড় বাহিনী নিয়ে তাড়াহুড়ো করার তো প্রশ্নই নেই, তাই তিনি বিশ্রাম নিতে নিতে, ধীরে-সুস্থে এগোতে লাগলেন। খবরটা দুর্যোধনের কানেও পৌঁছাল—শল্য আসছেন, তবে পাণ্ডবদের পক্ষে। এ খবরে দুর্যোধন মোটেই হতাশ হলেন না, বরং উল্টো একটা বুদ্ধি খেলে গেল মাথায়। তিনি নিজে গিয়ে দাঁড়ালেন শল্যের অভ্যর্থনার আয়োজনে। পথের ধারে ধারে তৈরি হলো রত্নখচিত, চোখধাঁধানো সব সভাভবন, ভেতরে হাজারো বিনোদনের ব্যবস্থা। শল্য যেখানেই থামলেন, সেখানেই যেন স্বর্গের আপ্যায়ন—মন্ত্রীরা তাঁকে সম্মান জানাল দেবতার মতো করে। একের পর এক জায়গায় এমন আয়োজন দেখে শল্য তো মুগ্ধ। খুশি হয়ে একদিন এক সেবককে জিজ্ঞেস করে বসলেন—"বলো তো, যুধিষ্ঠিরের কোন শিল্পীরা এমন চমৎকার সভাগৃহ বানিয়েছে? তাদের আ...

প্রথমভাগ উদ্যোগপর্ব -বিরাটসভায় এক অস্থির সন্ধ্যা: যুদ্ধের আগে শেষ কথার গল্প:

Image
প্রথমভাগ উদ্যোগপর্ব -বিরাটসভায় এক অস্থির সন্ধ্যা: যুদ্ধের আগে শেষ কথার গল্প: নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরোত্তমম্। দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ।। এটি মহাভারতের বিখ্যাত মঙ্গলাচরণ শ্লোক। শব্দে-শব্দে অর্থ নিচে দেওয়া হলো — **পদ-বিশ্লেষণ ও অর্থ:** - **নারায়ণম্** — নারায়ণ (ভগবান বিষ্ণু)-কে - **নমস্কৃত্য** — নমস্কার করে / প্রণাম জানিয়ে - **নরম্** — নর (ঋষি নর, নারায়ণের সহচর)-কে - **চ এব** — এবং, তথা (জোর দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত) - **নরোত্তমম্** — নরশ্রেষ্ঠ, মানবশ্রেষ্ঠ (এখানে নর ঋষির প্রতি বিশেষণ, অথবা কারও কারও মতে অর্জুনকেও বোঝানো হয়) - **দেবীম্** — দেবী(কে) - **সরস্বতীম্** — সরস্বতী (বিদ্যা ও বাক্‌-দেবী)-কে - **ব্যাসম্** — মহর্ষি বেদব্যাস (মহাভারতের রচয়িতা)-কে - **ততঃ** — তারপর - **জয়ম্** — "জয়" (মহাভারতের আদি নাম "জয়") - **উদীরয়েৎ** — উচ্চারণ করা উচিত / পাঠ করা উচিত **সামগ্রিক অর্থ:** নারায়ণকে প্রণাম করে, নর ও নরোত্তম-কে (ঋষি নর ও তাঁর সহচরকে), দেবী সরস্বতী ও মহর্ষি ব্যাসকে স্মরণ করে, তারপর "জয়" (অর্থাৎ মহাভারত) গ্রন্থ পাঠ আরম্ভ করা উচিত।...

১১তম বিরাট পর্ব- বিরাটসভায় পাণ্ডবদের মহাপরিচয় ও উত্তরা–অভিমন্যুর শুভবিবাহ

Image
১১তম বিরাট পর্ব- বিরাটসভায় পাণ্ডবদের মহাপরিচয় ও উত্তরা–অভিমন্যুর শুভবিবাহ ত্রয়োদশ বর্ষের দীর্ঘ অজ্ঞাতবাস শেষ হয়েছে। যেন বহুদিনের মেঘ সরে গিয়ে আবার সূর্যের মুখ দেখা দিয়েছে। সেদিন ভোরে স্নান সেরে পাঁচ পাণ্ডব শ্বেতবস্ত্র পরলেন, অলংকারে সজ্জিত হলেন। আর কোনো ছদ্মবেশ নয়—আজ তাঁরা নিজেদের প্রকৃত পরিচয়ে ফিরে এসেছেন। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে সামনে রেখে তাঁরা ধীর পায়ে প্রবেশ করলেন মৎস্যরাজ বিরাটের সভাভবনে এবং রাজার আসনেই গিয়ে বসলেন। কিছুক্ষণ পর রাজা বিরাট সভায় এলেন। চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে তিনি বিস্মিত, তারপর ক্রুদ্ধ। যে কঙ্ককে তিনি পাশা খেলার সঙ্গী হিসেবে রেখেছিলেন, সে আজ রাজসিংহাসনে! ঠোঁটে হালকা বিদ্রূপের হাসি এনে তিনি বললেন, —কঙ্ক, তোমাকে তো আমি পাশা খেলার জন্য রেখেছিলাম। আজ এত রাজসিক সাজে সিংহাসনে বসে আছ কেন? রাজা তখনও জানতেন না, তাঁর সামনে বসে আছেন হস্তিনাপুরের প্রকৃত অধিকারী। রাজা বিরাটের কথা শেষ হতে না হতেই অর্জুন মৃদু হেসে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল না কোনো অহংকার, ছিল সত্যের দীপ্তি। —মহারাজ, আপনার এই সিংহাসন তো দূরের কথা, ইন্দ্রের অর্ধেক সিংহাসনেও বসার যোগ্যতা রয়েছে এই মহা...

দশম ভাগ বিরাট পর্ব- পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সমাপ্তি

Image
 দশম ভাগ বিরাট পর্ব- পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সমাপ্তি যুদ্ধ থেমে গেলে একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে রণক্ষেত্রে— যেন এতক্ষণ যে ঝড় বয়ে গেল, তার রেশ কাটতে আরেকটু সময় লাগে সবারই। কৌরবরা তখন পালিয়ে গেছেন, আর সেই এলোমেলো ভিড়ের মধ্যে থেকে যারা এদিক-ওদিক লুকিয়ে ছিল, সেই সব সাধারণ সৈনিক, তারা একে একে ভয়ে ভয়ে বেরিয়ে এল অর্জুনের সামনে। ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত, পিপাসার্ত, পরের দেশে এসে যুদ্ধ করার সেই অসহায়তা তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট। তারা মাথা নত করে বলল— কুন্তীনন্দন, আমরা আপনার আদেশ মেনে চলব। অর্জুন তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন— তোমাদের মঙ্গল হোক। ভয় পেয়ো না, নিজেদের দেশে ফিরে যাও। যারা বিপদে পড়ে, আমি তাদের মারি না। বিশ্বাস রাখো। এই কথায় কী যে স্বস্তি নেমে এল তাদের মধ্যে! তারা আয়ু, কীর্তি, যশ কামনা করে আশীর্বাদ জানাল অর্জুনকে, তারপর ফিরে গেল যে যার পথে। তারপর অর্জুন উত্তরকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন— পুত্র, তুমি এখন জেনে গেছ, তোমার বাবার কাছেই আমরা এতদিন লুকিয়ে ছিলাম। কিন্তু নগরে ঢুকে এই কথা প্রকাশ কোরো না, তাহলে তোমার বাবা ভয়েই হয়তো প্রাণ হারাবেন। উত্তর তখনও পুরোপুরি ...

নবমভাগ বিরাটপর্ব বিজয়ী অর্জুন এবং এক বিষণ্ণ অপরাহ্ন

Image
  নবমভাগ বিরাটপর্ব বিজয়ী অর্জুন এবং এক বিষণ্ণ অপরাহ্ন অর্জুনের একক বিজয় এরপর অশ্বত্থামা এসে আক্রমণ করলেন অর্জুনকে। মেঘ যেমন অঝোরে জল ঢালে, তেমনি তাঁর ধনুক থেকে বাণ ঝরতে লাগল। বাণের বেগ ছিল ঝড়ের মতো, তবু অর্জুন সেগুলো ঠেকিয়ে দিয়ে অশ্বত্থামার ঘোড়াগুলোকে আহত করলেন। অশ্বত্থামাও কম যান না, একটুখানি সুযোগ পেয়েই বাণ দিয়ে অর্জুনের ধনুকের ছিলা কেটে দিলেন। এই কাজ দেখে দেবতারা পর্যন্ত প্রশংসা করলেন, ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, কৃপাচার্য সবাই তারিফ করলেন অশ্বত্থামার। তারপর আবার তিনি অর্জুনকে লক্ষ্য করে বাণ ছুঁড়লেন, আর দুজনের মধ্যে জমে উঠল রোমাঞ্চকর লড়াই। দুজনেই মহাবীর, দুজনেই একে অপরের ওপর ক্রমাগত বাণ ছুঁড়ে চললেন। অর্জুনের কাছে ছিল দিব্য তূণীর— তাতে বাণ কখনো ফুরাত না, তাই তিনি লড়ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল হয়ে। কিন্তু অশ্বত্থামার বাণ ফুরিয়ে এল একসময়, তাই লড়াইয়ে অর্জুন এগিয়ে গেলেন। বি:দ্র: অশ্বথামার জন্ম কাহিনি ঝালিয়ে নিতে এখানে ক্লিক করুন  ঠিক তখনই কর্ণ তাঁর ধনুকে টঙ্কার দিলেন। সেই শব্দ শুনে অর্জুন ফিরে তাকালেন, আর কর্ণকে দেখামাত্র তাঁর চোখে জ্বলে উঠল পুরনো রাগ। অশ্বত্থামাকে ছেড়ে ত...

অষ্টমভাগ-বিরাটপর্ব- গাণ্ডীবের টঙ্কার আর সেই প্রথম কুরুক্ষেত্রের আগে প্রথম যুদ্ধ

Image
অষ্টমভাগ-বিরাটপর্ব- গাণ্ডীবের টঙ্কার আর সেই প্রথম কুরুক্ষেত্রের আগে প্রথম যুদ্ধ কৌরব সেনার ব্যূহ সবে তৈরি শেষ হয়েছে, অমনি দিগন্ত চিরে ধেয়ে এল এক উথালপাথাল ঘর্ঘর শব্দ— অর্জুনের রথ আসছে! সবার আগে চমকে উঠলেন আচার্য দ্রোণ। দূর-দিগন্তে ওই রথের কপিধ্বজা আর আকাশ কাঁপানো হনুমানের গর্জন চিনে নিতে তাঁর এক মুহূর্তও দেরি হয়নি। গাঢ় স্বরে দ্রোণ বলে উঠলেন, “চোখ মেলে দেখো বীরগণ, অর্জুন আসছে! শুনছ গাণ্ডীবের ওই টঙ্কার? ঠিক যেন বাজ পড়ছে!” কথা শেষ হতে না হতেই দু'টি বাণ এসে বসল দ্রোণের চরণে, আর দু'টি ছিটকে গেল তাঁর কানের পাশ দিয়ে। কতকালের বনবাস আর নির্বাসন সয়ে এসে প্রিয় শিষ্য আজ এইভাবেই গুরুকে প্রণাম জানাল, কুশল শুধাল। গুরুর বুকে তখন স্নেহ আর গর্বের এক তোলপাড় ঝাপটা— মুহূর্তের জন্য যেন যুদ্ধের নিষ্ঠুরতাই থমকে গেল। কিন্তু অর্জুনের দৃষ্টি তখন জ্বলছে অন্য আগুনে। রথ একটু এগিয়ে নিতে বলে তিনি খুঁজলেন দুর্যোধনকে। না, কুরুকুলের সেই অধম কোথাও নেই! অর্জুন বুঝলেন, প্রাণের ভয়ে গোধন নিয়ে সে দক্ষিণ দিকে চম্পট দিয়েছে। উত্তরকে রথের মুখ ঘোরাতে বলেই শুরু হলো অর্জুনের প্রলয়নাচন। গাণ্ডীবের গুণ থেকে ঠিকরে বেরোতে লাগল...

সপ্তমভাগ বিরাটপর্ব -বিরাট রাজার রাজপুত্র উত্তর আর বৃহন্নলা অর্জুন: এক আত্মআবিষ্কারের গল্প

Image
সপ্তমভাগ বিরাটপর্ব -বিরাট রাজার রাজপুত্র উত্তর আর বৃহন্নলা অর্জুন: এক আত্মআবিষ্কারের গল্প বিরাট রাজার নগরে তখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। ত্রিগর্ত সেনার পিছু নিয়ে রাজা স্বয়ংশে সৈন্যদলের একটা বড় অংশ নিয়ে বেরিয়েছেন গোধন উদ্ধার করতে। আর ঠিক সেই অরক্ষিত মুহূর্তটারই তো অপেক্ষায় ছিলেন হস্তিনাপুরের দুর্যোধন। এমন সুযোগ বারবার আসে না— রাজা নগরের বাইরে, রাজধানীর প্রতিরক্ষা দুর্বল, আর সামনে পড়ে আছে হাজার হাজার অরক্ষিত গবাদিপশু। দুর্যোধন তাই আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করলেন না। মন্ত্রী ও প্রধান প্রধান বীরদের সঙ্গে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বিরাটনগরের ওপর। ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, কৃপাচার্য, অশ্বত্থামা, শকুনি, দুঃশাসন, বিকর্ণ, চিত্রসেন— কে নেই সেই তালিকায়! প্রায় ষাট হাজার গোধন রথের বেড়া দিয়ে ঘিরে তাঁরা তাড়িয়ে নিয়ে চললেন হস্তিনাপুরের দিকে। গোপালগণ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বটে, কিন্তু ঐ কালান্তক মহারথীদের সামনে তাদের সেই প্রচেষ্টা ছিল নিতান্তই করুণ ও নিরুপায়। কৌরব সেনাদের হাতে মার খেয়ে, রক্তাক্ত হয়ে তারা আর্তনাদ করতে করতে ছুটল। তাদের সর্দার কোনোমতে একটা রথ জোগাড় করে ফিরে এল নগরে। সোজা গিয়ে ঢুকল রা...