অক্ষয়পাত্রের উপাখ্যান -বনের প্রথম সকাল
৩য় ভাগ- মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বন পর্ব: অক্ষয়পাত্রের উপাখ্যান -বনের প্রথম সকাল শৌনকের কথা শেষ হওয়ার পর বনের বাতাসে কিছুক্ষণ একটা নিটোল নিস্তব্ধতা জমে রইল। বনের পাতা চুইয়ে যে সকালের আলো নেমে আসছিল, তার দিকে তাকিয়ে যুধিষ্ঠির চুপ করে বসে রইলেন। কথাগুলো ভালো, গভীর। মানুষের চরম বিপদে মনের ভারসাম্য কীভাবে ধরে রাখতে হয়, শৌনক যেন তারই একটা সহজ পাঠ দিলেন। কিন্তু দর্শন দিয়ে তো আর রক্তমাংসের পেটের খিদে মেটানো যায় না! এই মুহূর্তে যুধিষ্ঠিরের সামনে যে সমস্যাটা পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে, তা অত্যন্ত বাস্তব, রুক্ষ। তাকে শুধু তত্ত্বকথা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যুধিষ্ঠির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন ধৌম্যর সন্ধানে। ধৌম্য পাণ্ডবদের কুলপুরোহিত। শুধু শাস্ত্রজ্ঞ নন, তাঁর চরিত্রের মধ্যে একটা আশ্চর্য স্থিরতা আছে। কোনো রাজকীয় জাঁকজমক নয়, তাঁর ভেতরের খাঁটি জ্ঞানই তাঁকে একটা নিজস্ব মর্যাদা দিয়েছে। যুধিষ্ঠির তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। কোনো ভূমিকা করলেন না, কোনো রাজকীয় ভণিতার আশ্রয় নিলেন না। একেবারে সোজাসুজি, মনের ভেতরকার ক্ষতটা মেলে ধরলেন। "আচার্য," যুধিষ্ঠির বললেন, ...