Posts

Showing posts with the label Other

এ যুগের একটি অবক্ষয়ের আখ্যান- রক্তের ঋণ ও একটি নীল তৃষ্ণা-বাস্তব ঘটনার ছায়ায় রচিত

Image
এ যুগের একটি অবক্ষয়ের আখ্যান- রক্তের ঋণ ও একটি নীল তৃষ্ণা-বাস্তব ঘটনার ছায়ায় রচিত সুমন মানুষটা ছিলেন খটখটে শুকনো কাঠের মতো। পুলিশের হেড কনস্টেবল, খাকি উর্দির ভেতরে একটা পুরনো আমলের নীতিবোধকে সবসময় ইস্ত্রি করে রাখতেন। কিন্তু সেই উর্দির তলায় যে একটা নরম পিতা লুকিয়ে ছিল, সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। মেয়ে শিউলি যখন কমলের প্রেমে পড়ল, সুমনবাবু সেটাকে স্রেফ একটা অবাধ্যতা হিসেবে দেখেননি, দেখেছিলেন তাঁর এতদিনের গড়ে তোলা সংসারের শৃঙ্খলায় একটা বড়সড় ফাটল হিসেবে। আজকালকার মেয়েদের মন বোঝা বড় দায়। তাদের কাছে আবেগ আর অধিকারের সীমানাটা বড় দ্রুত বদলে যায়। শিউলির  চোখে তখন কমল মানেই মুক্তি, আর বাবা মানে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। সেই দেয়াল টপকানোর চেয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়াটাই তার কাছে সহজ মনে হয়েছিল। বিষের নীল নকশা মদতদাতা হিসেবে শিউলি বেছে নিল নিজেরই ভাই চেতনকে। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা—একটা মানুষের জীবনের দাম কি আজকের দিনে এতটাই সস্তা? সেই টাকায় কেনা হলো বিষ। শিউলির  হাত কাঁপেনি। যে হাতে ছোটবেলায় বাবার আঙুল ধরে মেলায় যেত, সেই হাতেই সে তৈরি করল এক গ্লাস মিল্কশেক। উপরে ঘন ফেনা, ভেতরে মৃত্যু। "বাবা, ডিউটিতে যাওয়ার...

মরীচিকার দুই পিঠ: সামাজিক খাঁচা ও আমাদের না-বলা দীর্ঘশ্বাস

Image
এই গল্পটি কেবল দুই নারীর না, বরং আমাদের সমাজের সেই অদৃশ্য দেওয়ালগুলোর গল্প যা সাফল্যের সংজ্ঞা আর সম্পর্কের সমীকরণ নির্ধারণ করে দেয়।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দেওয়ালে আমরা সবাই নিখুঁত। পাঁচ মিনিট স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে সুখী দম্পতি, দামি ছুটি আর চকচকে ক্যারিয়ারের কোলাজ। আমরা ভাবি, সবাই জিতে গেছে, শুধু আমিই বুঝি পিছিয়ে রইলাম। কিন্তু পর্দার আড়ালের গল্পটা সামাজিক সংস্কার আর গ্লানির চাদরে ঢাকা। ১. সানার ‘অসম্পূর্ণ’ সাফল্য সানার বয়স চৌত্রিশ। পেশাগত জীবনে সে সাফল্যের শিখরে। সানা সেই আধুনিক নারী যাকে নিয়ে সমাজ গর্ব করে, কিন্তু আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কারণ? সে একা। তার বিশাল বেতন আর কাঁচঘেরা অফিস সমাজের চোখে তখনি সার্থক হতো, যদি তার হাতে শাঁখা-পলা বা কপালে সিঁদুর থাকত। কয়েক বছর আগে সানার জীবন এমন ছিল না। ছাব্বিশ বছর বয়সে সে এক অন্য জাতের ছেলের প্রেমে পড়েছিল। কিন্তু আমাদের সমাজ আজও ‘জাত-পাত’ আর ‘রক্তের শুদ্ধতা’ নিয়ে এতটাই আচ্ছন্ন যে, তার পরিবার তাকে বেছে নিতে বাধ্য করেছিল— হয় পরিবার ও আভিজাত্য, না হয় প্রেম। সানা নিজেকে বেছে নিয়েছিল। সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু পাড়া-প্রতিবেশীর বাঁকা চাহ...

এক মানসী, যে হয়তো কোনোদিন ছিলই না—অথচ যাকে মুছে ফেলার সাধ্য নেই কারো।

Image
এক মানসী, যে হয়তো কোনোদিন ছিলই না—অথচ যাকে মুছে ফেলার সাধ্য নেই কারো। ইতিহাসের ধুলো ঝাড়লে অনেক সময় এমন কিছু নাম উঠে আসে, যাদের অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় থাকলেও বাঙালির বা ভারতবাসীর আবেগে তাদের স্থান প্রশ্নাতীত। আনারকলি তেমনই এক নাম। কোনো সম্রাট বা দিগ্বিজয়ীর নাম নয়, এ এক এমন কিশোরীর গল্প, যার অপরাধ ছিল শুধু ভালোবাসা। অন্ধকার গলি আর ডালিমের ফুল তার আসল নাম কী ছিল, কেউ জানে না। কিন্তু ইতিহাসে সে পরিচিত ‘আনারকলি’ নামে—যার অর্থ ডালিম ফুল। সে ছিল তরুণী, লাবণ্যময়ী আর বুদ্ধিমতী। মুঘল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল আগ্রার প্রাসাদে সে হেঁটে বেড়াত এক সহজাত আভিজাত্যে। আকবরের দরবার মানেই তখন একদিকে অঢেল সম্পদ, অন্যদিকে পদে পদে বিপদ। কবি, শিল্পী আর গুপ্তচরের ভিড়ে সেখানে প্রতিটা চাহনির আড়ালে লুকিয়ে থাকত এক একটা সমীকরণ। আনারকলি এসবই জানত, যতদিন না সে অসতর্ক হয়ে পড়ল। আর সেই অসতর্কতার নাম—শেহজাদা সেলিম। আকবরের পুত্র সেলিম ছিলেন ঠিক যেমনটা একজন মুঘল রাজপুত্রের হওয়া উচিত—উদ্দাম, চঞ্চল এবং জীবনের প্রতি এক তীব্র তৃষ্ণায় ভরপুর। একদিন সেলিমের চোখ গিয়ে পড়ল আনারকলির ওপর। সেই যে দৃষ্টি বিনিময় হলো, তা আর সরলো না। রাজপুত্রের...