Posts

Showing posts from 2026

৪১তম বনপর্ব-কৃষ্ণ- মার্কণ্ডেয় সংবাদ ও কর্মফলের গূঢ় রহস্য

Image
৪১তম বনপর্ব- কৃষ্ণ- মার্কণ্ডেয় সংবাদ ও কর্মফলের গূঢ় রহস্য সরস্বতী নদীর তীরে তখন হেমন্তের মৃদু হাওয়া। কার্তিকী পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে আকাশ জুড়ে এক মায়াবী আলোর উৎসব চলিতেছিল। নদীর পবিত্র স্রোতে স্নান সারিয়া, বহু সাধু-তপস্বীর সান্নিধ্যে পাণ্ডব ভ্রাতারা তাঁহাদের নিত্যকর্ম সমাপন করিলেন। কিন্তু নিয়তির চাকা তো এক স্থানে স্থির থাকে না। কৃষ্ণপক্ষ আরম্ভ হইতেই ধৌম্য মুনিকে অগ্রবর্তী করিয়া, অনুচর ও সারথি সহ তাঁহারা পাণ্ডবদের চিরপরিচিত আশ্রয়ের মায়া ত্যাগ করিলেন। গন্তব্য— নিবিড় ও রহস্যময় কাম্যক বন। বনভূমির প্রবেশদ্বারে মুনি-ঋষিরা তাঁহাদিগকে সাদর অভ্যর্থনা জানাইলেন। দ্রৌপদীকে সঙ্গে লইয়া পঞ্চপাণ্ডব আবার এক নতুন প্রবাস জীবনের পটভূমি রচনা করিলেন। অরণ্যের দিনগুলি কাটিতেছিল এক বুক চাপা প্রতীক্ষায়। একদিন অর্জুনের পরম সুহৃদ এক ব্রাহ্মণ আশ্রমে আসিয়া এক আনন্দের সংবাদ বহন করিয়া আনিলেন। তিনি কহিলেন, "হে ধর্মরাজ, আপনার প্রিয় সখা, মহাবাহু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অতি শীঘ্রই এই বনভূমিতে পদার্পণ করিবেন। পাণ্ডবেরা কাম্যক বনে আসিয়াছেন শুনিয়া তাঁহার চিত্ত চঞ্চল হইয়া উঠিয়াছে। তিনি সর্বদা আপনাদের কুশল চিন্তায় মগ্ন থাকেন। আ...

৪০তম বনপর্ব-মহাশূন্যের হিরণ্যপুরী এবং অর্জুনের অলৌকিক অস্ত্র প্রদর্শণ

Image
৪০তম বনপর্ব-মহাশূন্যের হিরণ্যপুরী এবং অর্জুনের অলৌকিক অস্ত্র  প্রদর্শণ ফিরে আসার পথটা ছিল অদ্ভুত রকমের নির্জন। মেঘেদের ওপর দিয়ে যখন রথ ছুটে যাচ্ছিল, হঠাতই চোখে পড়ল সেই মায়াপুরী। সে এক আশ্চর্য দৃশ্য! যেন মহাকাশের বুকে ভাসমান এক টুকরো তপ্ত কাঞ্চন, যার নিজস্ব এক অলৌকিক জ্যোতি রয়েছে। অগ্নি আর সূর্যের মিলিত আভায় ঝলমল করছে চারদিক। সবচেয়ে বড় কথা, সেই নগরী স্থির নয়; সে যেন এক জীবন্ত যান, যেখানে ইচ্ছা তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। আমি কৌতূহলী হয়ে সারথি মাতলিকে জিজ্ঞেস করলাম, "মাতলি, কার এই বিচিত্র পুরী? কার এত ক্ষমতা যে আকাশের বুকে এমন বৈভব বিস্তার করে বাস করে?" মাতলি আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। সেই হাসির গভীরে ছিল এক প্রাচীন বিষাদ ও বিস্ময়। তিনি বললেন, "অর্জুন, এ বড় দুর্ভেদ্য ইতিহাস। সৃষ্টির আদিকালে পুলোমা আর কালিকা নামে দুই দানবী ছিল। তারা কঠোর, অতি কঠোর তপস্যায় মগ্ন হয়েছিল দীর্ঘ সহস্র বছর। তাদের সেই তিতিক্ষায় স্বয়ং পিতামহ ব্রহ্মা সন্তুষ্ট হয়ে যখন বর দিতে চাইলেন, দানবীরা কোনো ঐশ্বর্য চায়নি, চেয়েছিল মাতৃত্বের চরম নিরাপত্তা। তারা বলেছিল, তাদের সন্তানদের যেন কোনো ব্যাধি বা শোক স্প...

সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata) 

Image
  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয়  পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত   মহাভারতের বিষয়সূচি-প্রথম পাতা (Index of Brief Mahabharata)  ৩১তম বনপর্ব-গন্ধমাদনের ঝঞ্ঝা ও এক মায়াবী ডানার আশ্রয় ৩২তম বন পর্ব, গন্ধমাদনে দুই ভায়ের মিলন: ভীম যেদিন হনুমানের লেজ নাড়াতে পারেননি ৩৩তম বন পর্ব- গন্ধমাদনের পদ্ম আর ভীমসেনের দর্প ৩৪তম বন পর্ব -জটাসুর-বধ: ভীমসেনের বজ্রনির্ঘোষ ৩৫ তম বন পর্ব-গন্ধমাদনের ছায়ায় পাঁচ বছর: অর্জুনের প্রতীক্ষায় পাণ্ডব ৩৬তম বনপর্ব- গন্ধমাদনে ভীমের রণহুংকার ৩৭তম বন পর্ব-আলোকের তীরে অর্জুন: এক মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন ৩৮তম বন পর্ব-অর্জুনের স্বর্গ-প্রত্যাবর্তন: পাশুপত অস্ত্রলাভের রোমাঞ্চকর উপাখ্যান ৩৯তম বনপর্ব-অমরাবতীর রাজপথ ও অর্জুনের নিবাতকবচ যুদ্ধ ৪০তম বন পর্ব-মহাশূন্যের হিরণ্যপুরী এবং অর্জুনের অলৌকিক অস্ত্র  ৪১তম বনপর্ব- কৃষ্ণ- মার্কণ্ডেয় সংবাদ ও কর্মফলের গূঢ় রহস্য

৩৯তম বনপর্ব-অমরাবতীর রাজপথ ও অর্জুনের নিবাতকবচ যুদ্ধ

Image
৩৯তম বনপর্ব-অমরাবতীর রাজপথ ও অর্জুনের নিবাতকবচ যুদ্ধ কীরকম ছিল সেই অভিজ্ঞতা? অর্জুন যখন যুধিষ্ঠিরের সামনে এসে দাঁড়ালেন, তাঁর চোখে তখনো স্বর্গের সেই আশ্চর্য আলোর রেশ লেগে আছে। কিন্তু গলার স্বর অতি শান্ত। ঠিক যেভাবে একজন পরিব্রাজক তাঁর দীর্ঘ ভ্রমণের গল্প শোনান, অর্জুনও সেভাবেই শুরু করলেন। "মহারাজ, শুনুন তবে। আমাদের এই মাটির পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে যখন দেবরাজের রথ এসে দাঁড়াল, আমার মনে কোনো দ্বিধা ছিল না। মাতলি এলেন ইন্দ্রের সেই দিব্য রথ নিয়ে। অশ্বদের গা থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে এক মায়াবী আলো। আমি আরোহণ করার আগে হিমালয় পর্বতকে মনে মনে প্রণাম জানালাম, চেয়ে নিলাম বিদায়ের অনুমতি। তারপর রথ ছুটল। বাতাস আর মন— এই দুইয়ের গতিকে হার মানিয়ে যখন রথ ছুটে চলেছে মহাশূন্যের বুক চিরে, মাতলি হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হলেন। তাঁর ঠোঁটের কোণে খেলা করে গেল মৃদু বিস্ময়। বললেন, 'ভারী অদ্ভুত তো! দেবরাজ ইন্দ্র স্বয়ং যখন এই রথে বসেন, তাঁর আসনও মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠে। আর তুমি এমন স্থির, যেন কোনো এক অচেনা পাথরের মূর্তি! হে অর্জুন, তোমার এই মানসিক স্থৈর্য দেবরাজকেও টেক্কা দিতে পারে।' আমি হাসলাম। মাতলি আমাকে একে ...

৩৮তম বন পর্ব-অর্জুনের স্বর্গ-প্রত্যাবর্তন

Image
  ৩৮তম বন পর্ব-অর্জুনের স্বর্গ-প্রত্যাবর্তন: পাশুপত অস্ত্রলাভের রোমাঞ্চকর উপাখ্যান দেবরাজ ইন্দ্রের সেই দীপ্তিময় সুবর্ণ রথ যখন গন্ধমাদন পর্বতের সেই নির্জন, তুষারশুভ্র শিখরে এসে থামল, তখন চারপাশ যেন এক অলৌকিক নিস্তব্ধতায় ভরে গেল। মহাবীর অর্জুন রথ থেকে অবতীর্ণ হলেন— সে এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য, যেন নীল মেঘের কোল চিরে এক ঝলক তীব্র বিদ্যুৎ নেমে এল ধরিত্রীর বুকে। তাঁর অবয়বে দেবলোকের অমিত তেজ, চোখে জয়ের প্রশান্তি। ভূমিতে পা রেখেই তিনি প্রথম প্রণতি জানালেন কুলপুরোহিত ধৌম্যকে। তারপর পরম ভক্তিতে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মহারাজ যুধিষ্ঠির এবং মহাবলী ভীমসেনের চরণ স্পর্শ করলেন। নকুল ও সহদেব পরম সমাদরে এগিয়ে এসে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাকে অভিবাদন জানালেন। প্রিয়তমা কৃষ্ণার সঙ্গে সেই বহুপ্রতীক্ষিত ক্ষণিক নীরব সাক্ষাতের পর, অর্জুন অত্যন্ত বিনম্র ভঙ্গিতে জ্যেষ্ঠতাত যুধিষ্ঠিরের পাশে এসে দাঁড়ালেন, যেন সেই মহাশক্তিশালী বীর এক পরম বাধ্য অনুজ মাত্র। অতুলনীয় প্রভাবশালী ও দেবতাপ্রতিম অর্জুনকে সুদীর্ঘকাল পর অক্ষত শরীরে ফিরে পেয়ে পাণ্ডবদের হৃদয় আনন্দের উদ্বেল তরঙ্গে উপচে পড়ল। অর্জুনও তাঁর প্রিয় ভ্রাতাদের ও কৃষ্ণাকে দেখে...

মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি-প্রথম পাতা

Image
     সংক্ষিপ্ত   মহাভারতের বিষয়সূচি-প্রথম পাতা (Index of Brief Mahabharata)  . সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন মহাভারতের আদি পর্বের  সংক্ষিপ্ত অংশ বিশেষ পুরু বংশের বর্ণনা -মহাভারতের আদিপর্বে বর্ণিত চন্দ্রবংশের অন্যতম গৌরবময় শাখা হলো পুরু রাজবংশ বা পৌরব রাজবংশ ।  উর্বশী- ঊরুসম্ভবা: স্বর্গের দর্পচূর্ণ ও এক চিরন্তন রূপকথা কালীয়দমন: কালিন্দীর বুকে এক মায়াবী নর্তক দেবতাদের অজেয় শত্রু: নিবাতকবচদের বিরুদ্ধে অর্জুনের মহাযুদ্ধ কামনার স্বর্গ ও মাতৃত্বের পুণ্য: উর্বশী-অর্জুনের সেই অনির্বাণ উপাখ্যান রাজা দুষ্যন্ত ও শকুন্তলার.গন্ধর্ব প্রথায়  বিবাহ শকুন্তলার পুত্র ভরতের জন্ম এবং রাজা দুষ্যন্ত কর্তৃক তাকে নিজের পুত্র হিসেবে গ্রহণ। দেবতা আর অসুরের লড়াই আর কচ ও দেবযানীর প্রেম।দেবতা আর অসুরের লড়াই তখন তুঙ্গে দেবযানী ও শর্মিষ্ঠা: দম্ভ এবং প্রতিশোধের উপাখ্যান।সব বড় অনর্থের মূলে থাকে খুব তুচ্ছ কোনো ঘটনা। যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠা: এক রাজার দুই নারী ও এক পুত্রের ত্যাগ। শুক্ৰাচার্যের আশ্রমের চারদিকের বনটা বড় ঘন, বড় রহস...

মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা

Image
 সংক্ষিপ্ত  মহাভারতের  বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয়  পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি-প্রথম পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন (Index of Brief Mahabharata)  মহাভারতের বন পর্বের অংশ বিশেষ। ১৬তম ভাগ- বন পর্ব - কাম্যকবনের অশ্রুজল ও তীর্থরাজের মহিমা ১৭তম ভাগ-বন পর্ব-কাম্যক বনের শূন্যতা ও পুণ্যতীর্থের আহ্বান অষ্টাদশ বনপর্ব-দেবরাজের বার্তা ও এক পুণ্যযাত্রার সূচনা ১৯তম বনপর্ব -তীর্থের পুণ্য ও এক রাজকন্যার ত্যাগ: অগস্ত্য-লোপামুদ্রার উপাখ্যান ২০তম বনপর্ব- পরশুরামের দর্পচূর্ণ: অযোধ্যাপথে এক মহাবিস্ময়ের ইতিহাস ২১তম বন পর্ব- সমুদ্র শোষক অগস্ত্যমুনি: এক মহাবৈপ্লবিক আখ্যান। ২২তম বনপর্ব- আকাশছোঁয়া অহংকার এবং এক ঋষির সামান্য চাতুরী: বিন্ধ্যের দর্পচূর্ণ ২৩তম বনপর্ব- স্বর্গাদপি গরীয়সী: ভগীরথের তপস্যা ও গঙ্গাবতরণের গাথা ২৪তম বনপর্ব অরণ্যের ঋষি, আকাশের মেঘ: ঋষ্যশৃঙ্গের উপাখ্যান ২৫তম বনপর্ব- তরঙ্গের গর্ভে ইতিহাস: মহেন্দ্র পর্বতে পরশুরামের মহাবিস্ময় ২৬তম বনপর্ব-প্রভাস তীর্...

৩৭তম বন পর্ব-আলোকের তীরে অর্জুন: এক মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন

Image
৩৭তম বন পর্ব-আলোকের তীরে অর্জুন: এক মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন ভোরের কুয়াশা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। গন্ধমাদন পর্বতের চূড়ায় মায়াবী আলোর আলপনা। ঠিক তখনই মহর্ষি ধৌম্য তাঁর প্রাতঃস্নান আর জপ-আহ্নিক শেষ করে পাণ্ডবদের কুটিরের দিকে এগিয়ে গেলেন। সঙ্গে একদল তপস্বী, যাঁদের চোখে তপস্যার শান্ত দীপ্তি। যুধিষ্ঠির, ভীম আর দ্রৌপদী পরম শ্রদ্ধায় এগিয়ে এসে প্রণাম করলেন তাঁদের। ধৌম্য মৃদু হেসে যুধিষ্ঠিরের হাতটি নিজের হাতের মধ্যে নিলেন। এক অদ্ভুত স্নেহ আর গাম্ভীর্য ঝরে পড়ল তাঁর কণ্ঠে। তিনি পুব আকাশে আঙুল উঁচিয়ে বললেন, "দেখো যুধিষ্ঠির, ওই যে সুদূর প্রসারিত পর্বতমালা সমুদ্রের কোল ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ওর নাম মন্দরাচল। সবুজ বরণ অরণ্য আর রূপালি শৃঙ্গ নিয়ে কেমন রূপসী দেখাচ্ছে ওকে, তাই না? এই পূর্ব দিকটাই হলো দেবরাজ ইন্দ্র আর ধনকুবেরের আবাস। এখানেই ঋষি, গন্ধর্ব আর দেবতারা উদীয়মান সূর্যকে বন্দনা জানান।" ধৌম্য একে একে দিকচক্রবালের রহস্য উন্মোচন করতে লাগলেন, যেন এক প্রাচীন ভূগোলের গল্প বলছেন। তিনি দক্ষিণ দিকে ইশারা করে বললেন, "ওই দিকে থাকেন ধর্মের দেবতা, যমরাজ। তাঁর নগরী সংযমনী বড় বিচিত্র, বড় সমৃদ্ধ। আর প...

৩৬তম বনপর্ব- গন্ধমাদনে ভীমের রণহুংকার

Image
৩৬তম বনপর্ব- গন্ধমাদনে ভীমের রণহুংকার — মণিমানের পতনে অগস্ত্যের অভিশাপ সমাপ্ত গন্ধমাদন পর্বতের নির্জন এক প্রান্তে, যেখানে মেঘেরা নেমে আসে পাহাড়ের কাঁধে মাথা রাখতে, সেখানে একদিন শান্ত হয়ে বসেছিলেন মহাবাহু ভীম। বাতাসে তখন বন্য পুষ্পের গন্ধ, দূরে কোথাও ঝর্নার জলধ্বনি। এমন সময় দ্রৌপদী তাঁর কাছে এসে বললেন, "মহাবাহু, যদি এই পর্বতের রাক্ষসেরা তোমার ভয়ে পলায়ন করে, তবে আমাদের বন্ধুরা নিশ্চিন্তে এর পুষ্পশোভিত শিখরগুলি উপভোগ করতে পারবে। বহুদিন ধরে আমি এই ইচ্ছা পোষণ করে আসছি।" দ্রৌপদীর এই কথা শুনে ভীমের রক্তে যেন আগুন জ্বলে উঠল। তিনি ধনুক, তরবারি, তূণীর ও গদা— এই চতুরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পর্বত আরোহণ শুরু করলেন। দ্রৌপদী আনন্দে উদ্ভাসিত হলেন। ভীমের হৃদয়ে ভয় নেই, দ্বিধা নেই, ক্লান্তির লেশমাত্র নেই। শিখরে পৌঁছে তিনি দেখলেন কুবেরের প্রাসাদ— স্বর্ণ ও স্ফটিকে উজ্জ্বল, স্বর্ণপ্রাচীরে বেষ্টিত, চারিদিকে দীপ্তিমান উদ্যান। ভীম তাঁর শঙ্খে ফুঁ দিলেন। সেই শব্দ পর্বতের গায়ে গায়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে গেল, তারপর তিনি ধনুকের ছিলা টংকার দিলেন। সেই ভয়ংকর আওয়াজে যক্ষ, রাক্ষস ও গন্ধর্বরা কম্পিত হয়ে অস্...

৩৫ তম বন পর্ব-গন্ধমাদনের ছায়ায় পাঁচ বছর: অর্জুনের প্রতীক্ষায় পাণ্ডব

Image
৩৫ তম বন পর্ব-গন্ধমাদনের ছায়ায় পাঁচ বছর: অর্জুনের প্রতীক্ষায় পাণ্ডব জটাসুর বধের পর রক্তাক্ত অধ্যায়টা শেষ হলো। যুধিষ্ঠির তাঁর ভাইদের আর দ্রৌপদীকে নিয়ে আবার ফিরে এলেন নর-নারায়ণের সেই শান্ত তপোবনে। কিন্তু মনের ভেতর যে একটা কাঁটা খচখচ করছে প্রতিনিয়ত। অর্জুনের অনুপস্থিতি যেন এই হিমালয়ের চেয়েও ভারী। যুধিষ্ঠির একদিন সবার দিকে তাকিয়ে চেনা শান্ত গলায় বললেন, "অর্জুন বিদায় নেওয়ার সময় বলেছিল, স্বর্গে পাঁচটা বছর ও অস্ত্রশিক্ষা করবে। তারপর ফিরে আসবে আমাদের কাছে। সময় তো বয়ে যাচ্ছে, এবার আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। ওকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের এগোতে হবে।" কথাটা মনে ধরল সবার। পাণ্ডবেরা আবার পথ চলতে শুরু করলেন। সঙ্গে সেই নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণেরা আর অনুচরেরা। পথ কখনো মসৃণ, কখনো দুর্গম। যখন শরীর আর চলে না, তখন রাক্ষসেরা তাদের কাঁধে তুলে নেয়, অবলীলায় পার করে দেয় পাহাড়ি চড়াই-উতরাই। চোখের সামনে দিয়ে কেটে গেল কৈলাস, মৈনাক আর গন্ধমাদনের নিচুদিকের উপত্যকাগুলো। কত নাম না-জানা পবিত্র নদীর জল ছুঁয়ে সপ্তম দিনে তাঁরা পৌঁছালেন এক আশ্চর্য জায়গায়—রাজর্ষি বৃষপর্বার আশ্রম। চারদিকে তখন ফুলের গন্ধ, গাছে গাছে বসন্তের মে...