চতুর্থ ভাগ -বিরাট পর্ব-কীচকের দ্রৌপদীর প্রতি আসক্তি এবং দ্রৌপদীকে অপমান

 


চতুর্থ ভাগ -বিরাট পর্ব-কীচকের দ্রৌপদীর প্রতি আসক্তি এবং দ্রৌপদীকে অপমান

পাণ্ডবদের মৎস্যনরেশের রাজধানীতে দশমাস কেটে গেল। যজ্ঞসেনী দ্রৌপদী, যিনি স্বয়ং রানির মতো সেবা পাবার যোগ্য, তিনি রানি সুদেষ্ণার সেবা করে বড় কষ্টে দিন যাপন করছিলেন। একদিন রাজা বিরাটের সেনাপতি কীচকের দৃষ্টি দ্রৌপদীর ওপর পড়ল, যিনি রাজমহলে দেবকন্যার ন্যায় প্রতীত হচ্ছিলেন। কীচক ছিলেন মৎস্যনরেশের শ্যালক। তিনি সৈরন্ধ্রীকে দেখেই কামমোহিত হলেন। তিনি তাঁর ভগ্নী রানি সুদেষ্ণার কাছে গিয়ে হেসে বললেন- 'সুদেষ্ণা। 

(বি:দ্র:কিচক ছিলেন কেকয় রাজ্যের রাজপুত্র। তাঁর পিতা ছিলেন কেকয় রাজ এবং মাতা ম্যালবী। কিচকেরা বংশানুক্রমে 'সূত' কুলজাত ছিলেন। প্রাচীন ভারতে সূতদের রাজসভায় কবি, সারথি বা দূত হিসেবে দেখা গেলেও, কেকয় বংশের এই সূত শাখাটি ছিল অত্যন্ত বীরভোগ্যা এবং রাজক্ষমতাসম্পন্ন।

এবং

রাজা বিরাটের মহিষী সুদেষ্ণা ছিলেন এই কেকয়রাজের কন্যা এবং কিচকের জ্যেষ্ঠা ভগিনী। বোনের বিবাহের সুবাদেই কিচক মৎস্যদেশে আসেন এবং নিজের অসীম রণকৌশল ও বাহুবলে মৎস্যরাজ্যের প্রধান সেনাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন। বস্তুত, বিরাটরাজ সিংহাসনে বসে থাকলেও মৎস্যদেশের প্রকৃত শাসক ও শক্তির উৎস ছিলেন স্বয়ং কিচকই।)

কেকয়রাজপুত্র কিচক: রক্ত, বংশ পরিচয় বিষদ ভাবে জানতে এখানে ক্লিক করুন  

 এই সুন্দরী, যে তাঁর রূপে আমাকে উন্মত্ত করেছে, আগে তো তাঁকে কখনো এই মহলে দেখিনি! ইনি কে? কার স্ত্রী? কোথা থেকে আসছেন? ইনি আমার হৃদয় হরণ করেছেন, এখন ওঁকে না পেলে আমি হৃদয়ে শান্তিলাভ করব না। অত্যন্ত আশ্চর্যের কথা যে, ইনি তোমার কাছে দাসীর কাজ করছেন, এই কাজ এঁর যোগ্য নয়। আমি এঁকে আমার সর্বশ্বের অধিকারিণী করতে চাই।'

রানি সুদেষ্ণাকে এইসব কথা বলে কীচক রাজবধূ দ্রৌপদীর কাছে এসে বললেন- 'কল্যাণী! তুমি কে? কার কন্যা, কোথা থেকে এসেছ? তোমার এই সুন্দর রূপ দিব্যদেহ এবং সৌকুমার্য জগতে সব থেকে বড় সম্পদ। 

বি:দ্র:কেকয়রাজের বিস্মৃত উপাখ্যান-সিংহাসন, রক্তসূত্র ও নিয়তির পরিহাস জানতে এখানে ক্লিক করুন 

তোমার উজ্জ্বল মুখ এবং কমনীয় কান্তি চন্দ্রকেও লজ্জিত করছে। তোমার ন্যায় মনোহারিণী নারী আমি আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে দেখিনি। তুমি কমলবন বিহারিণী দেবী লক্ষ্মী নয় তো? এই স্থান তোমার উপযুক্ত নয়। আমি তোমাকে পৃথিবীর সর্বোত্তম সুখ প্রদান করতে চাই, তুমি তা স্বীকার করো। নচেৎ তোমার এই রূপ ও সৌন্দর্য ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। সুন্দরী! যদি তুমি অনুমতি দাও তাহলে আমি আমার প্রথম স্ত্রীকে ত্যাগ করব অথবা তোমার দাসী করে রাখব, আমি নিজেও তোমার সেবক হয়ে তোমার অধীন থাকব।'

দ্রৌপদী বললেন- 'আমি পরস্ত্রী, আমাকে এমন কথা বলা উচিত নয়। জগতের সকল প্রাণীই তার স্ত্রীকে ভালোবাসে, তুমিও তাই করো। অন্যের স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হওয়া উচিত নয়। সৎপুরুষদের নিয়ম হল, তাঁরা অনুচিত কর্ম সর্বদা ত্যাগ করেন।'

সৈরন্ধ্রীর কথা শুনে কীচক বললেন- 'সুন্দরী! তুমি আমার প্রার্থনা এইভাবে ফিরিয়ে দিও না, তোমার জন্য আমি অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছি; আমাকে অস্বীকার করলে তুমি অনুতাপ করবে। এই সম্পূর্ণ রাজ্য আমার শাসনাধীন, শারীরিক বলেও কেউ আমার সমকক্ষ নয়। আমি সমস্ত রাজ্য তোমাকে সমর্পণ করব। তুমি আমার পাটরানি হয়ে আমার সঙ্গে সর্বোত্তম সুখ ভোগ করো।'

বি: দ্র: আমি সংক্ষিপ্ত মহাভারতের আদি পর্ব ৭১তম  ভাগে, সভা পর্ব ১৬তম ভাগে এবং বনপর্ব ৬৫তম ভাগে সম্পন্ন করেছি। এখন চলছে  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিরাটপর্বের চতুর্থ  ভাগের  আলোচনা এবং বিরাট পর্বের পরবর্তী ভাগ চলবে।

বিরাটপর্বের ৩য় ভাগের সংক্ষিপ্ত আলোচনা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত ভাগ এই ব্লগে পেতে নিচের লিংকে  ক্লিক  করুন ।

সংক্ষিপ্ত  মহাভারতের বিষয়সূচি (Indexes of Brief Mahabharata ) 

আপনার যদি কোনো জিজ্ঞাসা, প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, তবে নিচের comment boxএ লিখুন :


Comments

Popular posts from this blog

মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি-প্রথম পাতা

মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা

সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)