Posts

Showing posts from March, 2026

৷কুরুবংশের সেই অভিশপ্ত জন্মলগ্ন ব্যাসদেবের বর এবং একটি গোপন ভয়

Image
প্রথমে কুরু বংশের জটিল রহস্যটা ছোট করে বুঝে নেওয়া যাক: রক্তের টান আর কুরু নামের মায়া।ইতিহাস বড় বিচিত্র। আমরা যাদের 'কৌরব' বলে জানি, সেই ধৃতরাষ্ট্র আর গান্ধারীর সন্তানদের কেন 'কুরু বংশ' বলা হয়—তার উত্তরটা লুকিয়ে আছে বংশের আদি শিকড়ে। ১. সেই আদি পুরুষ: এই বংশের নাম এসেছিল মহাপ্রতাপশালী রাজা কুরু-র নাম থেকে। তিনি ছিলেন ভরত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। তাঁর নামেই সেই বিখ্যাত কুরুক্ষেত্র। ধৃতরাষ্ট্র আর তাঁর একশ ছেলে যেহেতু সেই বংশের সিংহাসনে বসেছিলেন, তাই তাঁরাই হয়ে উঠলেন কুরুদের আসল প্রতিনিধি বা 'কৌরব'। ২. নামের রাজনীতি: মজার ব্যাপার হলো, পাণ্ডবরাও কিন্তু একই বংশের ছেলে। কিন্তু গল্পে দুই পক্ষকে আলাদা করার জন্য পাণ্ডুর ছেলেদের বলা হলো 'পাণ্ডব', আর ধৃতরাষ্ট্রের ছেলেদের ওপর সেঁটে দেওয়া হলো আদি পুরুষের নাম—'কৌরব'। ৩. এক আশ্চর্য ধন্দ: এখানেও সেই পরাশর-সত্যবতীর গল্পের একটা অদ্ভুত মোচড় আছে। শান্তনুর বংশের আসল রক্তধারা কিন্তু মাঝপথেই থমকে গিয়েছিল। ব্যাসদেবের সেই 'নিয়োগ' প্রথার মাধ্যমেই জন্ম নিলেন ধৃতরাষ্ট্র আর পাণ্ডু। অর্থাৎ, শরীরে মুনি-ঋষির রক্ত বইলেও তাঁরা ...

পরাশর: মহাভারতের সেই নেপথ্য কারিগর

Image
  পরাশর: মহাভারতের সেই নেপথ্য কারিগর ইতিহাসের ধুলো ঝাড়লে এমন কিছু মানুষের দেখা পাওয়া যায়, যাঁরা মঞ্চের সামনে থাকেন না ঠিকই, কিন্তু পর্দার আড়াল থেকে পুরো নাটকের মোড় ঘুরিয়ে দেন। মহর্ষি পরাশর মানুষটি ঠিক তেমনই। আজ যদি আমরা কুরুবংশের সেই বিশাল মহীরুহটার দিকে তাকাই, তবে মনে প্রশ্ন জাগে—পরাশর না থাকলে কি এর জন্ম হতো? উত্তরটা খুব সহজ—না। কুরু-পাণ্ডবদের সেই দীর্ঘ রক্তধারার আদি উৎস খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে যমুনার তীরের এক কুয়াশাচ্ছন্ন নৌকায়। যমুনার সেই মায়াবী কুয়াশা গল্পটা শুরু হয় এক মায়াবী পরিবেশে। তপোবন ছেড়ে কোনো এক প্রয়োজনে যমুনা নদী পার হচ্ছেন মহাতপা পরাশর। খেয়া বাইছে এক ধীবর কন্যা—নাম তার মৎস্যগন্ধা। পরাশর সাধারণ ঋষি ছিলেন না, তিনি ছিলেন কালদ্রষ্টা। দিব্যচক্ষু দিয়ে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, সামনেই এক ঘোর অন্ধকার সময় আসছে—যাকে আমরা বলি কলিযুগ। সেই যুগে বেদের পবিত্র জ্ঞানকে রক্ষা করার জন্য এক মহাপ্রাণের পৃথিবীতে আসা খুব প্রয়োজন। আর সেই জন্মের শ্রেষ্ঠ আধার হিসেবে তিনি বেছে নিলেন এই কিশোরী কন্যাকে। পরাশর মৎস্যগন্ধার কাছে তাঁর ইচ্ছের কথা জানালেন। কুমারী কন্যাটি লোকলজ্জার ভয়ে কুঁকড়ে যে...

সত্যবতী ও ব্যাসদেব

Image
  Watch More সত্যবতী ও ব্যাসদেব বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পর হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদে যে শূন্যতা নেমে এসেছিল, তা কেবল একটি সিংহাসনের শূন্যতা ছিল না। ছিল বংশের শূন্যতা, রক্তের শূন্যতা। অম্বিকা আর অম্বালিকা — দুই তরুণী রানি — বিধবার সাদা বস্ত্রে ঢেকে গেছেন। তাঁদের কোলে কোনো সন্তান নেই। কুরুবংশের প্রদীপ নিভে আসছে। সত্যবতী তখন বৃদ্ধা। কিন্তু তাঁর মন বৃদ্ধ হয়নি। রাজমাতার মনে একটাই চিন্তা — এই বংশ টিকিয়ে রাখতে হবে। সেই মুহূর্তে তিনি মনে করলেন তাঁর সেই প্রথম পুত্রের কথা। অনেক অনেক আগের কথা। তখন সত্যবতী রানি নন, কোনো প্রাসাদও তাঁর জীবনে নেই। তিনি কেবল একটি নৌকার মাঝি। যমুনার বুকে প্রতিদিন যাত্রী পারাপার করেন। তাঁর শরীর থেকে মাছের গন্ধ আসে, তাই লোকে তাঁকে বলে মৎস্যগন্ধা। একদিন এক ঋষি এলেন নৌকায়। নাম পরাশর। সত্যবতী দাঁড় বাইছেন। পরাশর তাকিয়ে আছেন। শুধু তাকিয়ে নন — তাঁর ভেতরে জ্বলে উঠছে এক অদ্ভুত অনুভূতি। এই মেয়ে সাধারণ নয়। ঋষির দৃষ্টি অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পায়। তিনি দেখলেন — এই নারীর গর্ভে জন্ম নেবে এক মহাপুরুষ, যিনি যুগযুগান্ত ধরে মানুষের পথ দেখাবেন। পরাশর বললেন তাঁর মনের কথা। ...

কুন্তিভোজের রাজ্য, কুন্তীর কথা এবং পাণ্ডুর দিগ্বিজয়

Image
কুন্তিভোজের রাজ্য, কুন্তীর কথা এবং পাণ্ডুর দিগ্বিজয় কিছু কিছু গল্প আছে যেগুলো শুনতে শুনতে মনে হয় — এটা শুধু একটা পরিবারের গল্প নয়, এটা আসলে একটা গোটা যুগের গল্প। কুন্তিভোজের রাজ্যের কথা সেই রকম। চম্বল নদীর তীরে, মালব অঞ্চলের উর্বর মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই ছোট্ট রাজ্যটা হয়তো মানচিত্রে বড় জায়গা নেয় না। কিন্তু মহাভারতের ইতিহাসে এই রাজ্যের অবদান অপরিসীম। কারণ এখানেই একটি মেয়ে বড় হয়েছিলেন, Watch More যাঁর পাঁচ পুত্র একদিন পুরো ভারতবর্ষ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। **এক** কুন্তিভোজ ছিলেন যদুবংশীয় শূরসেনের ভাই। শূরসেন — যাঁর নাতি ছিলেন স্বয়ং কৃষ্ণ।কুন্তিভোজের রাজ্য ছিল, সেনা ছিল, ঐশ্বর্য ছিল। শুধু ছিল না একটাই জিনিস — সন্তান। দীর্ঘদিন কেটে গেছে, কিন্তু রাজপ্রাসাদের অন্দরমহলে শিশুর কান্না শোনা যায়নি।এদিকে শূরসেনের প্রথম সন্তান জন্মাল — একটি মেয়ে। নাম রাখা হলো পৃথা। শূরসেন একসময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভাইকে — প্রথম সন্তান তাঁকে দেবেন। প্রতিশ্রুতির কথা মনে রইল। পৃথাকে কোলে তুলে দিলেন কুন্তিভোজের হাতে।কুন্তিভোজ মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। সেদিন থেকে পৃথা আর পৃথা রইল না। সে হয়ে গেল কু...

কুরুবংশের নবজন্ম ও গান্ধারীর মহত্যাগ

Image
  Wat Watch More ch কুরুবংশের নবজন্ম ও গান্ধারীর মহা ত্যাগ সে এক অদ্ভুত সময়। কুরুরাজ্যে তখন কেবলই বসন্তের সমীরণ। হস্তিনাপুরের প্রতিটি অলিতে-গলিতে যেন উৎসবের রোশনাই। মহারাজ বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তাকে পূর্ণ করতেই যেন মর্ত্যে এলেন ধৃতরাষ্ট্র, পাণ্ডু আর বিদুর। প্রজারা সুখে আছে, ঘরে ঘরে ধনের অভাব নেই, এমনকি রাজধানীর রাজপথে কোনো চোর-ছ্যাঁচোড়ের উপদ্রবও নেই। এক কথায়, কুরুরাজ্য তখন এক পুষ্পিত উদ্যান। ভীষ্মের কড়া শাসনে আর স্নেহের ছায়ায় বেড়ে উঠছে তিন ভাই। তিনজনেরই তিন রূপ। ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ হলেও তাঁর শরীরে যেন সহস্র হস্তীর বল। লৌহদণ্ড অবলীলায় দুমড়ে দিতে পারেন তিনি। পাণ্ডু আবার ধনুর্ধর হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তীরের ফলায় তিনি আকাশ ছুঁতে চান। আর বিদুর? তাঁর মধ্যে বাস করেন সাক্ষাৎ ধর্ম। শান্ত, ধীর আর অসীম প্রজ্ঞার অধিকারী সেই মানুষটি। কিন্তু নিয়তির লিখন বড় অদ্ভুত। বিদুর পরম জ্ঞানী হলেও তিনি দাসীপুত্র, তাই সিংহাসনের উত্তরাধিকার তাঁর নেই। বড় ভাই ধৃতরাষ্ট্রের প্রাপ্য ছিল রাজমুকুট, কিন্তু তাঁর চোখের অন্ধকার সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল। শাস্ত্র আর আচারের দোহাই দিয়ে কনিষ...

মহাভারতের আদিপর্বের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কাহিনী হলো মহাত্মা বিদুরের জন্মবৃত্তান্ত।

Image
Watch More মহাভারতের আদিপর্বের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কাহিনী হলো মহাত্মা বিদুরের জন্মবৃত্তান্ত। অত্যন্ত ধর্মনিষ্ঠ এবং জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও কেন বিদুরকে একজন শূদ্রাণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল, তার নেপথ্যে রয়েছে মহর্ষি মাণ্ডব্যের এক অভিশাপ। সেই কাহিনীটি নিচে বর্ণনা করা হলো: অণিমাণ্ডব্যের উপাখ্যান ও বিদুরের জন্মকথা মহর্ষি মাণ্ডব্যের কঠোর তপস্যা প্রাচীনকালে মাণ্ডব্য নামে এক প্রখ্যাত ব্রাহ্মণ ঋষি ছিলেন। তিনি ছিলেন অসীম ধৈর্যের অধিকারী, পরম বিদ্বান এবং সত্যনিষ্ঠ। নিজের কুটিরের সামনে একটি বৃক্ষতলে ঊর্ধ্ববাহু হয়ে তিনি কঠোর মৌনব্রত পালন করছিলেন। দীর্ঘকাল ধ্যানে মগ্ন থাকার কারণে তিনি বাহ্যিক জগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিস্মৃত ছিলেন। চৌর্যপ্রবাদ ও রাজার দণ্ড একদিন একদল দস্যু রাজকোষ লুণ্ঠন করে পালাবার সময় মাণ্ডব্যের আশ্রমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। রক্ষীবাহিনীর তাড়া খেয়ে দস্যুরা ভীত হয়ে ঋষির কুটিরে লুণ্ঠিত দ্রব্যসহ লুকিয়ে পড়ে। রাজা সৈন্যরা আশ্রমে এসে মৌনব্রতী ঋষিকে দস্যুদের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু ব্রতভঙ্গের ভয়ে ঋষি কোনো উত্তর দিলেন না। সৈন্যরা তল্লাশি চালিয়ে কুটির থেকে চারজন দস্য...

ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা এবং কুরুবংশের উত্তরাধিকার

Image
Watch More ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা এবং কুরুবংশের উত্তরাধিকার মহারাজ শান্তনুর সাথে সত্যবতীর বিবাহ সম্পন্ন করার জন্য দেবব্রত (ভীষ্ম) কঠোর প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কেবল রাজ্যই ত্যাগ করেননি, আজীবন ব্রহ্মচর্যের শপথও নিয়েছিলেন। ভীষ্মের এই ত্যাগ দেখে প্রসন্ন হয়ে পিতা শান্তনু তাঁকে স্বেচ্ছামৃত্যুর বর প্রদান করেন। শান্তনু-পরবর্তী যুগ এবং বিপর্যয় শান্তনু ও সত্যবতীর সংসারে দুই পুত্র জন্মগ্রহণ করেন— চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য। শান্তনুর মৃত্যুর পর জ্যেষ্ঠ পুত্র চিত্রাঙ্গদ সিংহাসনে বসেন, কিন্তু বিদর্ভরাজের সাথে যুদ্ধে তিনি অকালে প্রাণ হারান। সেই সময় বিচিত্রবীর্য নাবালক হওয়ায় সত্যবতীর অনুরোধে ভীষ্ম তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য শাসন করতে থাকেন। কাশীরাজের কন্যাদের হরণ বিচিত্রবীর্য প্রাপ্তবয়স্ক হলে ভীষ্ম জানতে পারেন যে কাশীরাজ তাঁর তিন কন্যা— অম্বা, অম্বিকা ও অম্বালিকার জন্য স্বয়ম্বর সভার আয়োজন করেছেন। ভ্রাতার বিয়ের উদ্দেশ্যে ভীষ্ম একাকী সেই সভায় উপস্থিত হন এবং উপস্থিত সকল রাজন্যবর্গকে যুদ্ধে পরাস্ত করে তিন কন্যাকে বলপূর্বক অপহরণ করে হস্তিনাপুরে নিয়ে আসেন। রাজপ্রাসাদে ফেরার পর জ্যেষ্ঠা কন্যা অম্বা...

দেবব্রতর মহান ত্যাগ ও ভীষ্মের জন্ম

Image
Watch More দেবব্রতর মহান ত্যাগ ও ভীষ্মের জন্ম দেবব্রতকে ফিরে পাওয়ার পর মহারাজ শান্তনু তাঁকে হস্তিনাপুরের যুবরাজ হিসেবে ঘোষণা করেন। দেবব্রত ছিলেন অসামান্য বীর এবং প্রজাবৎসল, তাই তাঁকে উত্তরাধিকারী হিসেবে পেয়ে শান্তনু অত্যন্ত সুখী ছিলেন। সত্যবতীর সাথে শান্তনুর সাক্ষাৎ   একদিন মহারাজ শান্তনু যমুনার তীরে বনে শিকার করতে গিয়ে এক অপূর্ব সুগন্ধ অনুভব করেন। সেই সুগন্ধ অনুসরণ করে তিনি এক পরমাসুন্দরী কন্যাকে দেখতে পান। এই কন্যার নাম ছিল সত্যবতী। যদিও তিনি এক জেলের কন্যা হিসেবে বড় হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর জন্ম ছিল অলৌকিক। এক বিশাল মাছের পেট থেকে তাঁকে পাওয়া গিয়েছিল এবং দাসরাজ নামের এক ধীবর তাঁকে নিজের মেয়ের মতো লালন-পালন করেন। শান্তনু সত্যবতীর প্রেমে পড়েন এবং দাসের কাছে গিয়ে সত্যবতীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সত্যবতীর পিতা দাসরাজ একটি কঠিন শর্ত আরোপ করেন। তিনি বলেন:  "মহারাজ, আমি আমার কন্যাকে আপনার হাতে তুলে দিতে পারি, যদি আপনি কথা দেন যে— সত্যবতীর গর্ভজাত সন্তানই হবে হস্তিনাপুরের পরবর্তী রাজা।" শান্তনুর দ্বিধা ও দেবব্রতর সংকল্প শান্তনু দেবব্রতকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। নিজের প্রিয় পুত্...

অষ্টবসু ও শাপমুক্তির কাহিনি

Image
  Watch More অষ্টবসু ও শাপমুক্তির কাহিনি সেই সুদূর অতীতের কথা। মহর্ষি বশিষ্ঠের আশ্রমে ছিল এক অলৌকিক গাভী — নাম তার নন্দিনী। যে কোনো ইচ্ছা পূরণ করতে পারত সে। একদিন স্বর্গের আট ভাই, যাদের বলা হয় অষ্টবসু, তাঁদের স্ত্রীদের নিয়ে সেই বনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ভাইদের মধ্যে দ্যু তাঁর স্ত্রীর পীড়াপিড়িতে আর বাকি ভাইদের মদদে সেই নন্দিনী ও তার বাছুরটিকে চুরি করে নিলেন। ধ্যানের মধ্যে বশিষ্ঠ সব বুঝতে পারলেন। রাগে তাঁর মন জ্বলে উঠল। তিনি অভিশাপ দিলেন — অষ্টবসুকে মানুষ হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নিতে হবে। বসুরা পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইলে মুনি কিছুটা নরম হলেন। বললেন, সাতজন জন্মের পরপরই মুক্তি পাবে, স্বর্গে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু যে চুরি করেছে, সেই দ্যুকে দীর্ঘকাল মাটির পৃথিবীতে কাটাতে হবে — তবে সে হবে মহান, অতুলনীয় বীর। এরপর অষ্টবসুরা গেলেন দেবী গঙ্গার কাছে। অনুরোধ করলেন, মর্ত্যে তিনি যেন তাঁদের মা হন। গঙ্গা রাজি হলেন। এদিকে হস্তিনাপুরের রাজা প্রতীপের ছেলে শান্তনু একদিন গঙ্গার তীরে শিকারে বেরিয়ে এক অপরূপ নারীকে দেখলেন। তিনিই দেবী গঙ্গা। শান্তনু বিয়ের প্রস্তাব দিলে গঙ্গা একটাই শর্ত রাখলেন — "আমি ...

প্রেমের জন্য যুদ্ধ — রুক্মিণীর সাহস ও কৃষ্ণের রথ

Image
  Watch More প্রেমের জন্য যুদ্ধ — রুক্মিণীর সাহস ও কৃষ্ণের রথ বিদর্ভের রাজপ্রাসাদে একটি মেয়ে বড় হচ্ছিল। নাম রুক্মিণী। রাজকন্যা, তবু তার মনে কোনো অহংকার নেই — শুধু একটা নাম, বারবার ফিরে আসে। কৃষ্ণ। দ্বারকার সেই মানুষটার কথা সে শুনেছে, কতটুকু শুনেছে তা সে নিজেও জানে না। কিন্তু যতটুকু শুনেছে, তাতেই মন দিয়ে বসেছে। এই হলো প্রেম — কোনো যুক্তি নেই, কোনো ব্যাখ্যা নেই। কিন্তু দাদা রুক্মী সব জানে, সব বোঝে — শুধু বোনের মনটা বোঝে না। সে ঠিক করে দিয়েছে, রুক্মিণীর বিয়ে হবে শিশুপালের সঙ্গে। চেদির রাজা। ক্ষমতাবান, প্রতাপশালী। কিন্তু রুক্মিণীর কাছে সে শুধুই একটা অপরিচিত মুখ — যাকে সে চায় না, কোনোদিন চায়নি।মেয়েরা সেকালে কাঁদত, মেনে নিত। রুক্মিণী সেই দলে নয়। সে বসে পড়ল, ভাবল। তারপর একটা সিদ্ধান্ত নিল — এমন সিদ্ধান্ত, যা নিতে বুকের পাটা লাগে।একজন বিশ্বস্ত ব্রাহ্মণকে ডাকল। হাতে তুলে দিল একটি পত্র। বলল — এটি পৌঁছে দাও দ্বারকায়, কৃষ্ণের হাতে। সেই চিঠিতে কোনো লুকোচুরি নেই, কোনো আবেগের বাড়াবাড়ি নেই। সরাসরি কথা — "হে কৃষ্ণ, আমি আপনাকেই আমার মনের স্বামী বলে বেছে নিয়েছি। আপনি ছাড়া আর কাউ...

উত্তরার কোলে মৃত শিশু আর কৃষ্ণের সেই রাত

Image
Watch More   উত্তরার কোলে মৃত শিশু আর কৃষ্ণের সেই রাত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষ হয়েছে। কিন্তু শেষ হওয়া মানে কি সত্যিই শেষ হওয়া? যুদ্ধ শেষ হয় রণাঙ্গনে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে চলতে থাকে। মায়ের বুকে, স্ত্রীর চোখে, সন্তানের স্বপ্নে। সেই যুদ্ধ কোনোদিন শেষ হয় না। উত্তরা জানত এটা।অভিমন্যু মারা যাওয়ার পর উত্তরা কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল।হঠাৎ নয়। আস্তে আস্তে। প্রথমে কম কথা বলত। তারপর আরও কম। তারপর একদিন সকালে উঠে দেখা গেল — সে শুধু তাকিয়ে আছে। কোনোদিকে। শূন্যের দিকে। যেখানে কিছু নেই, সেদিকে।কুন্তী এসে বসতেন পাশে। কিছু বলতেন না। শুধু হাত রাখতেন মাথায়।সুভদ্রা আসতেন। চোখে তাঁরও জল। ছেলে গেছে তাঁরও। কিন্তু পুত্রশোক আর স্বামীশোক আলাদা জিনিস। সুভদ্রা সেটা বুঝতেন। উত্তরা বসে থাকত।বিরাট রাজার মেয়ে সে।মৎস্য দেশের রাজকুমারী। ছোটবেলায় নাচতে ভালোবাসত। গান গাইত। হাসত প্রাণ খুলে।কবে যে সেই মেয়েটা চলে গেল, কেউ বলতে পারে না। অভিমন্যু যেদিন গেল, সেদিন উত্তরার ভেতর থেকে কেউ একজন চলে গেল চুপি চুপি। হাসিটা গেল। গানটা গেল। রঙটা গেল।রইল শুধু একটা শরীর। যার ভেতরে আরেকটা প্রাণ বড় হচ্ছে। অভিমন্যুর স...

মোমল আর মহেন্দ্র রাজস্থানের বালিতে লেখা এক প্রেমের গল্প

Image
Watch More মোমল আর মহেন্দ্র রাজস্থানের বালিতে লেখা এক প্রেমের গল্প থর মরুভূমির কথা একটু বলা দরকার।এই মরুভূমি অন্য মরুভূমির মতো নয়। সাহারা শুধু বালি, গোবি শুধু পাথর। কিন্তু থর — থর হল একটা ভয়ানক জিনিস। দিনে আগুন, রাতে বরফ। দিনের বেলা সূর্য এমনভাবে নামে যেন আকাশটাকে পুড়িয়ে দেবে। আর রাতে চাঁদ উঠলে মনে হয় পুরো মরুভূমি রুপো দিয়ে মোড়া। এই মরুভূমির মাঝখানে একটা জায়গা আছে — লোদ্রবা।সেখানে একটা প্রাসাদ ছিল। প্রাসাদে  মোমল নামে একটা মেয়ে ছিল। মোমল কেমন ছিল সেটা বলা কঠিন।কারণ যে মানুষকে ভাষায় ধরা যায়, সে সাধারণ মানুষ। মোমল সাধারণ ছিল না। তার চোখের রং ছিল মরুভূমির সন্ধ্যার মতো — একটু লাল, একটু সোনালি, একটু রহস্যময়। চুল ছিল কালো এবং এলোমেলো, যেন বাতাস সারাদিন খেলা করেছে। হাঁটার মধ্যে একটা গর্ব ছিল — রাজপুত মেয়ের গর্ব। না মাথা নোয়ানোর, না সরে যাওয়ার। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হল — মোমল ছিল তীক্ষ্ণ।বুদ্ধিতে, চোখে, কথায়।রাজস্থানের রাজকুমাররা আসত তাকে দেখতে। ফিরে যেত মাথা নত করে। কারণ মোমল কোনো বোকার সাথে কথা বলত না। তার প্রেম পেতে হলে আগে তার মন জিততে হত। আর মোমলের মন জেতা সহজ ছিল...

আম্রপালি যে মেয়ে একজন সাধারণ ভিক্ষুকের মধ্যে অসাধারণ কিছু দেখেছিল

Image
  Watch More আম্রপালি যে মেয়ে একজন সাধারণ ভিক্ষুকের মধ্যে অসাধারণ কিছু দেখেছিল বৈশালী শহরটা তখন ভারতবর্ষের সবচেয়ে প্রানবন্ত  শহরগুলোর একটা। লিচ্ছবি রাজাদের রাজধানী। গঙ্গার কাছে, সবুজে ঘেরা। বাজারে বিদেশি বণিক, রাজপথে হাতির মিছিল, সন্ধ্যায় প্রদীপের আলোয় ঝলমল করত পুরো নগর।আর এই নগরের সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল একটি মেয়ের। সে কোথা থেকে এসেছিল কেউ ঠিকমতো জানত না। কেউ বলত রাজবংশের রক্ত আছে তার। কেউ বলত একটা আমবাগানে শিশু অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তাই নাম আম্রপালি।সত্যিটা যাই হোক — একটা জিনিস সত্যি ছিল।সে ছিল অপরিসীম সুন্দরী। আর বৈশালীর নিয়মে সেই সৌন্দর্যই তার ভাগ্য লিখে দিয়েছিল। নগরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে হবে নগরবধূ। কোনো একজনের নয়, সকলের। রাজা আসবেন, মন্ত্রী আসবেন, বণিক আসবেন — সবার আতিথেয়তা করবে সে।এই নিয়মটা কে বানিয়েছিল, কেন বানিয়েছিল — সেটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করেনি। আম্রপালিকেও করতে দেওয়া হয়নি।বছরের পর বছর কেটে গেল।বৈশালীর সবচেয়ে বড় প্রাসাদ তার। সবচেয়ে সুন্দর বাগান তার। সোনার গহনা, রেশমের পোশাক, দাসদাসী। রাজারা তার দরজায় আসতেন। মগধের রাজা বিম্বিসার পর্যন্ত তার...

"পতন একদিনে হয় না, উত্থানও একদিনে হয় না — কিন্তু সেই একটা মুহূর্তের সিদ্ধান্তই সব ঠিক করে দেয়।"

Image
Watch More "পতন একদিনে হয় না, উত্থানও একদিনে হয় না — কিন্তু সেই একটা মুহূর্তের সিদ্ধান্তই সব ঠিক করে দেয়।" কনৌজ শহরে একটা ছেলে ছিল।নাম অজামিল। বাবা-মা যখন নাম রেখেছিলেন, তখন নিশ্চয়ই ভেবেছিলেন ছেলেটা বড় হয়ে কিছু একটা হবে। হলও। ব্রাহ্মণের ঘরে জন্ম, ছোটবেলা থেকেই বেদ শেখা শুরু। ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ — একে একে সব। গুরুর কাছে বসে শ্লোক মুখস্থ করত, সন্ধ্যায় সন্ধ্যাবন্দনা করত, ভোরে উঠে স্নান সেরে পূজায় বসত। পাড়ার লোকে বলত — অজামিল একটা আলাদা ছেলে। ওর চোখে একটা শান্তি আছে। ওর গলায় বেদমন্ত্র শুনলে মনে হয় স্বয়ং ঈশ্বর কথা বলছেন। Ne ws এইরকম একটা ছেলে। বয়স তখন কতই বা হবে। বিশ-বাইশ। গুরুর আদেশে একদিন জঙ্গলে গেল কাঠকুটো আনতে। যজ্ঞের জন্য সমিধ চাই। সূর্য তখন মাথার উপরে। জ্যৈষ্ঠের দুপুর। বনের ভেতরটা গরমে ঝিমঝিম করছে। পাখি ডাকছে না, বাতাস নেই, শুধু ঝিঁঝিঁর একটানা শব্দ। অজামিল হাঁটছিল।হঠাৎ থেমে গেল।একটু সামনে, গাছের আড়ালে  এখানে একটু থামা দরকার। মানুষের জীবনে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে যেগুলো পরে মনে হয় — ওই একটা মুহূর্তই সব বদলে দিয়েছিল। একটা সিদ্ধান্ত, একটা দৃশ্য, একটা কথ...