নবমভাগ- উদ্যোগপর্ব বিদুর নীতি পঞ্চম অধ্যায় "অন্ধ রাজার নির্ঘুম রাত" বিদুরের নরকের ঠিকানা-
শুনুন রাজেন্দ্র, বিচিত্রবীর্যের পুত্র! স্বয়ং মনু একদিন বলে গিয়েছিলেন, যমরাজের দূতেরা পাশ হাতে ঠিক সতেরো রকমের মানুষকে টেনে নিয়ে যায় নরকের দিকে। কারা তারা?
যে আকাশে ঘুষি ছুঁড়তে চায়। যে রামধনুকে জোর করে বাঁকাতে চায়, অথচ জানে তা বাঁকানো যায় না। যে রোদ্দুরকে মুঠোয় ধরে বেঁধে রাখতে চায়। যাকে শাসন করা অসম্ভব, তাকেই শাসন করতে যায়। যে অন্যায় করেও ভেতরে ভেতরে তৃপ্তি পায়। যে শত্রুর দাসত্ব করে, আবার মেয়েদের পাহারা দিয়ে সংসার চালায়। যার চাওয়াটাই অন্যায্য, অথচ সে হাত পাতে, আর নিজের ঢাক নিজেই পেটায়। যে উঁচু বংশে জন্মেও ছোটলোকের মতো আচরণ করে। যে নিজে দুর্বল, তবু গায়ের জোর দেখানো বলবান শত্রুর সঙ্গে আগ বাড়িয়ে শত্রুতা করতে যায়। যে অশ্রদ্ধেয়, অযোগ্য মানুষকে উপদেশ দিতে ছোটে। যা পাওয়া অসম্ভব, তার জন্য যে আকুল হয়ে ওঠে। যে শ্বশুর হয়েও পুত্রবধূর সঙ্গে ঠাট্টা-ইয়ার্কি করে, বা পুত্রবধূর সাহায্যে বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েও তার কাছেই ফুটানি দেখায়। যে পরস্ত্রীতে আসক্ত। যে অকারণে নিজের স্ত্রীর নিন্দা করে বেড়ায়। যে কারো কাছ থেকে উপকার পেয়েও 'মনে নেই' বলে চেপে যেতে চায়। আর যে কাউকে কিছু দিয়ে সেই দানের জন্য অহংকার করে, কিংবা জ্যান্ত মিথ্যাকে সত্যি বলে চালিয়ে দিতে চায়—এরাই সেই সতেরোজন।
আর নীতি তো একটাই, রাজন—যে যেমন ব্যবহার করবে, তার সঙ্গে ঠিক তেমনই ব্যবহার করা উচিত। ছলাকলা যে দেখায়, তার সঙ্গে চালাকিই ধর্ম; আর যে সহজ-সরল, তার সঙ্গে সাধুতাই একমাত্র পথ। তবে এটাও মনে রাখবেন, এই সংসারে বার্ধক্য এসে রূপ কেড়ে নেয়, অহেতুক প্রত্যাশা ধৈর্য কেড়ে নেয়, মৃত্যু কেড়ে নেয় প্রাণ, হিংসায় ধুলোয় মিশে যায় ধর্ম, কামনায় ঢাকা পড়ে লজ্জা, নীচ মানুষের দাসত্বে নষ্ট হয় চরিত্র, এক মুহূর্তের রাগ উড়িয়ে দেয় সব লক্ষ্মী, আর ফোলা অহংকার একদিন মানুষের সর্বস্ব ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
ধৃতরাষ্ট্র তখন উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করলেন—বিদুর, বেদ তো বলে মানুষের আয়ু একশো বছর। তবে কেন সবাই মাঝপথে ঝরে পড়ে? কেন সবাই সেই পুরো আয়ু পায় না?
বিদুর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—রাজন, আপনার মঙ্গল হোক। মানুষকে মারতে যমরাজকে আলাদা করে আসতেই হয় না। ছটা ধারালো তরবারি এই মানুষেরই ভেতরে রক্তচক্ষু নিয়ে বসে আছে—অহংকার, বাচালতা, ত্যাগের অভাব, তীব্র ক্রোধ, শুধু নিজের উদরপূর্তির চিন্তা, আর বন্ধুর বুকে ছুরি বসানো। এই ছয় দোষের বিষেই মানুষ তার নির্ধারিত আয়ুর আগেই ঝরে পড়ে।
যে বিশ্বাসীর স্ত্রীর সঙ্গে শোয়, গুরুর স্ত্রীকে কুনজরে দেখে, শূদ্রার সঙ্গ করে, মদ্যপান করে, নিজের চেয়ে বড়দের হুকুম করে, অন্যের পেটে লাথি মারে, শরণাগতের সর্বনাশ করে—এরা ব্রহ্মহত্যার সমান পাপ বহন করে। বেদ স্পষ্ট বলে দিয়েছে, এদের ছায়া মাড়ানোও পাপ।
আর যে বড়দের কথা শোনে, নীতি বোঝে, মুক্তহাতে দান করে, অহিংস, সত্যবাদী, নরম স্বভাবের—স্বর্গ তাদেরই জন্য অপেক্ষা করে থাকে।
রাজন, মিষ্টি কথা বলা মানুষের কোনো অভাব নেই বাজারে—খুঁজলে হাজারটা পাবেন। কিন্তু যে কথা শুনতে তেতো লাগলেও শেষমেশ হিতকর, সেই অপ্রিয় সত্যি বলার মানুষ আর তা সহ্য করে শোনার মানুষ—দুটোই আজ বড় দুর্লভ। যে রাজা বা প্রজা কারো মুখের দিকে না তাকিয়ে শুধু ধর্মের দিকে চেয়ে সেই তেতো সত্যিটা বলতে পারে, প্রকৃত বন্ধু আসলে সে-ই।
মনে রাখবেন—বংশ বাঁচাতে যদি একজন মানুষকে বিসর্জন দিতে হয়, তবে তা-ই করুন। গ্রাম বাঁচাতে একটা পরিবারকে, দেশ বাঁচাতে একটা গ্রামকে, আর নিজের আত্মার কল্যাণের জন্য যদি পুরো পৃথিবীটাকেও ছাড়তে হয়, তবে তা-ই সই। বিপদের দিনের জন্য টাকা জমান, সেই টাকা দিয়ে স্ত্রীকে সামলান, আর টাকা আর স্ত্রী—দুটোকেই বাজি রেখে শেষ পর্যন্ত নিজেকে বাঁচান।
আমি সেই প্রথম দিনই আপনাকে বলেছিলাম—জুয়া খেলা বন্ধ করুন। ওখান থেকেই বিষবৃক্ষের জন্ম। বুদ্ধিমান মানুষ ঠাট্টা করেও পাশা খেলে না। কিন্তু মুমূর্ষু রোগী যেমন তেতো ওষুধ ছুঁড়ে ফেলে দেয়, আমার সেই বারণও আপনার কানে ঢোকেনি। নরেন্দ্র, আপনি কাকের মতো একঝাঁক কুরুপুত্রকে দিয়ে ময়ূরের মতো রূপবান, গুণবান পাণ্ডবদের ধ্বংস করতে চাইছেন! শিয়ালকে কোলে তুলে নিয়ে সিংহকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন! এর মূল্য আপনাকেই একদিন গুনতে হবে, অনুতাপের আগুনে পুড়ে পুড়ে।
যে প্রভু সেবকের ভালো চান, অকারণে তার ওপর চেঁচান না, ভৃত্যরা তাঁকে প্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করে। কিন্তু কর্মচারীদের পেটে লাথি মেরে অন্যের সম্পত্তি হাতাতে যাবেন না—তাহলে প্রিয় মন্ত্রীরাও একদিন শত্রুর শিবিরে গিয়ে নাম লেখাবেন। আগে নিজের আয়-ব্যয় বুঝে নিয়ে ভালো লোক নিয়োগ করুন। যে কর্মচারী মালিকের চোখের ভাষা বোঝে, অলসতা করে না, ভালো কথা বলে, বিশ্বাসযোগ্য—তাকে আপন করে নিন। আর যে নির্দেশ শুনেও মুখ বাঁকায়, বিদ্যার গরম দেখায়, অপ্রিয় কথা বলে—তাকে ঘাড় ধরে বিদায় করুন।
দূত করবেন তাকেই, যে অহংকারশূন্য, নির্ভীক, কাজ দ্রুত সারে, চুকলিবাজদের কথায় কান দেয় না, আর যার কথা স্পষ্ট, পরিষ্কার।
সাবধানী মানুষ কখনো সন্ধ্যার পর চেনা শত্রুর ঘরে যায় না, রাতের বেলা মোড়ের মাথায় ওত পেতে দাঁড়ায় না, রাজার পছন্দের নারীর দিকে চোখ তুলেও তাকায় না। আর হ্যাঁ—রাজা যখন অনেক মন্ত্রণাদাতার মধ্যে বসেন, তখন তাঁর ভুল ধরাতে যাবেন না। 'তোমাকে বিশ্বাস করি না'—এ কথা মুখে না বলে, একটা ভদ্র অজুহাত দেখিয়ে সভা থেকে উঠে আসাই ভালো।
আর এই আটজনের সঙ্গে কখনো দেনা-পাওনার হিসাব করবেন না—অতিরিক্ত দয়ালু রাজা, কুলটা নারী, রাজার তোষামুদে কর্মচারী, অবুঝ সন্তান, ভাই, অল্প বয়সে বিধবা হওয়া পুত্রবধূর মা, ক্ষ্যাপা সৈনিক, আর যার অধিকার জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
মানুষের প্রকৃত রূপ ফুটে ওঠে তার বুদ্ধিতে, বংশমর্যাদায়, জ্ঞানে, আত্মসংযমে, সাহসে, কম কথা বলার ক্ষমতায়, সাধ্যমতো দানে আর কৃতজ্ঞতায়। কিন্তু এই সব গুণকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে পারে শুধু একটা জিনিস—রাজার অনুগ্রহ। রাজা যদি কাউকে সম্মান দেন, তাহলে তার সব খামতি এক মুহূর্তে ঢাকা পড়ে যায়।
নিয়ম করে রোজ স্নান করলে গায়ের জোর, রূপ, গলার সুর, গায়ের রং আর পবিত্রতা—সবই খুলে ওঠে। আর যে পরিমিত আহার করে, সে শুধু সুস্থ আর দীর্ঘায়ুই পায় না, তার সন্তানও হয় সুন্দর, আর কেউ তাকে লোভী বলে খোঁচাও দিতে পারে না।
কিন্তু অলস, পেটুক, সবার সঙ্গে ঝগড়া বাধানো মানুষ, কুটিল, অকারণে পোশাক নোংরা রাখা মানুষদের কখনো নিজের ঘরে ঠাঁই দেবেন না। যতই বিপদে পড়ুন, কৃপণ, ধূর্ত, মুখখারাপ করা মানুষ কিংবা অকৃতজ্ঞের কাছে কখনো হাত পাতবেন না।
টাকা আর ভালো সঙ্গী—এই দুটো একে অপরকে খোঁজে, একটা ছাড়া অন্যটা অচল। সন্তানের জন্ম দিয়ে তাকে ঋণমুক্ত করে দিন, তার রুটিরুজির ব্যবস্থা করে দিন, তারপর মেয়েদের ভালো পাত্রে বিয়ে দিয়ে চুপচাপ বনে চলে যান—এটাই নিয়ম। যা সবার ভালো করে আর নিজের মনেও শান্তি আনে, তা ঈশ্বরের হাতে সঁপে দিয়েই করে যান—এটাই সিদ্ধির আসল চাবিকাঠি।
রাজন, পাণ্ডবদের সঙ্গে শত্রুতা করার পরিণাম ভেবে দেখেছেন? দেবতাদের ডেকে আনলেও এই সংহার থামানো যাবে না। ঘরের মধ্যে শত্রুতা, সারাক্ষণ উদ্বেগ, কুলের গায়ে কালি, আর শত্রুদের মুখে হাসি—এই তো আপনার লাভ! আকাশে বাঁকা ধূমকেতু উঠলে যেমন পৃথিবী জুড়ে হাহাকার পড়ে যায়, তেমনই ভীষ্ম, দ্রোণ, আপনি আর যুধিষ্ঠিরের ক্রোধ যদি একবার এক বিন্দুতে মেলে, তাহলে পুরো পৃথিবী পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
আপনার একশো ছেলে আর এই পাঁচ পাণ্ডব যদি একসঙ্গে থাকতেন, তবে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এই পৃথিবী তাঁরা একছত্র শাসন করতে পারতেন। ভেবে দেখুন—আপনার ছেলেরা একটা জঙ্গল, আর পাণ্ডবরা সেই জঙ্গলের বাঘ। বাঘ না থাকলে মানুষ জঙ্গল কেটে সাফ করে দেয়, আর জঙ্গল না থাকলে বাঘও বাঁচে না। বাঘ আর জঙ্গল একে অপরকে আগলে রাখে, রাজন।
যার মন পাপে ভরা, সে শুধু অন্যের খুঁত খুঁজতেই ব্যস্ত থাকে, কারো ভালো গুণ তার চোখে পড়ে না। কিন্তু যে জীবনের প্রকৃত সার্থকতা চায়, সে আগে ধর্মের পথ ধরে হাঁটে। স্বর্গের সঙ্গে যেমন অমৃত জড়িয়ে থাকে, ধর্মের সঙ্গেও তেমনই জড়িয়ে থাকে অর্থ আর কাম। যে সময় বুঝে এই তিনটির সাধনা করে, সে ইহলোক আর পরলোক—দুই জায়গাতেই সুখী হয়।
আর মনে রাখবেন, মানুষের আসল শক্তি তার বাহুবলে নেই—সেটা তো সবচেয়ে নীচু স্তরের বল। মন্ত্রণাশক্তি দ্বিতীয় বল, ধনসম্পদ তৃতীয়, কুলমর্যাদা চতুর্থ। কিন্তু এসবের ওপরে যে প্রধান শক্তি বিরাজ করে, তা হলো মানুষের বুদ্ধিবল।
যে আপনার বড় ক্ষতি করতে পারে, তাকে দূরে আছে ভেবে নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন না। নারী, রাজা, সাপ, শাস্ত্রের ফাঁকফোকর, শক্তিশালী শত্রু আর এই উড়নচণ্ডী আয়ু—এদের কেউ কি কখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পেরেছে? যার বুদ্ধি একবার ভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তাকে কোনো ডাক্তার, কবিরাজ, যজ্ঞ বা জড়িবুটি বাঁচাতে পারে না।
সাপ, আগুন, সিংহ আর নিজের বংশের তেজস্বী মানুষকে কখনো অবহেলা করবেন না। শুকনো কাঠের ভেতরে আগুন যেমন চুপ করে ঘুমিয়ে থাকে, বাইরে থেকে বোঝা যায় না—পাণ্ডবরাও ঠিক তেমনই শান্ত হয়ে বসে আছেন। কিন্তু একবার সেই আগুনে হাওয়া লাগলে গোটা বনটাই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
আপনি আর আপনার ছেলেরা লতার মতো, আর পাণ্ডবরা বিশাল শালগাছ। শালগাছকে জড়িয়ে না ধরলে লতা যেমন ওপরে উঠতে পারে না, আপনার ছেলেরাও পাণ্ডবদের আশ্রয় ছাড়া বেড়ে উঠতে পারবে না।
জঙ্গল থেকে বাঘ তাড়িয়ে জঙ্গল ধ্বংস করবেন না, রাজন। সিংহ ছাড়া বন বাঁচে না, আর বন ছাড়াও সিংহ বাঁচতে পারে না।
বি:দ্র: পাঠকদের সুবিধার্থে উপরিউক্ত অংশটি মহাভারতের 'উদ্যোগ পর্ব'-এর অন্তর্গত বিখ্যাত বিদুর নীতি-র পঞ্চম অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ। নিচে মূল বিষয়গুলোকে সহজ ও প্রাঞ্জল ভাবে তুলে ধরা হলো:
১. যমরাজের নরকের ১৭টি পাত্র (যে কাজগুলো মানবের পতন ডেকে আনে):
- অসম্ভবকে জোর করে সম্ভব করার মূর্খতা (আকাশে ঘুষি মারা, রোদ্দুর ধরা, না-বাঁকানো রামধনু মোচড়ানো)।
- অন্যায়ে তৃপ্তি পাওয়া, শত্রুর গোলামি করা এবং অযোগ্য ও অশ্রদ্ধেয় মানুষকে উপদেশ দেওয়া।
- নিজের অহংকার প্রকাশ করা, অকারণে স্ত্রীর কুৎসা গাওয়া, উপকারের কথা অস্বীকার করা এবং দান করে তা নিয়ে গর্ভ করা।
- দুর্বল হয়েও বলবান শত্রুর সাথে আগ বাড়িয়ে শত্রুতা করা এবং জ্যান্ত মিথ্যাকে সত্য বলে চালানো।
২. জীবন ও আচরণের স্বর্ণসূত্র:
- ব্যবহারের নীতি: যে যেমন, তার সাথে তেমন আচরণই শ্রেয়—কপটতার জবাব চাতুরীতে, আর সরলতার জবাব সাধুতায়।
- বিনাশকারী শক্তি: বার্ধক্য রূপকে, প্রত্যাশা ধৈর্যকে, হিংসা ধর্মকে, কাম লজ্জা ও রাগ লক্ষ্মীকে বিনাশ করে। তবে সর্বস্ব ধ্বংস করে দেয় মানুষের অহংকার।
৩. মানুষের পরমায়ু ক্ষয়ের ৬টি অভ্যন্তরীণ শত্রু: বেদ অনুযায়ী মানুষের আয়ু ১০০ বছর হলেও মানুষ তার পূর্ণ আয়ু পায় না এই ৬টি ভেতরের তরবারির কারণে—অহংকার, বাচালতা (অতিরিক্ত কথা বলা), ত্যাগের অভাব, তীব্র ক্রোধ, কেবল নিজের স্বার্থচিন্তা এবং বন্ধুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।
৪. ত্যাগ ও সুরক্ষার পরম সত্য:
- বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগ: কুল বা বংশের জন্য একজনকে, গ্রামের জন্য কুলকে, দেশের জন্য গ্রামকে এবং নিজের আত্মার কল্যাণের জন্য এই পুরো পৃথিবীটাকেও ত্যাগ করা উচিত।
- সুরক্ষার ক্রম: বিপদের জন্য অর্থ, অর্থ দিয়ে পরিবার/স্ত্রী এবং সবকিছুর বিনিময়ে সর্বাগ্রে নিজের আত্মরক্ষা করা উচিত।
৫. শাসনের নীতি ও সেবক নির্বাচন:
- প্রভুর আচরণ: প্রকৃত প্রভু অকারণে ভৃত্য বা কর্মচারীর ওপর ক্রোধ প্রকাশ করেন না।
- সঠিক সেবক: যে মালিকের মনের ভাব বোঝে, অলস নয় এবং হিতবাদী, তাকে আপন করে নেওয়া উচিত। পক্ষান্তরে অহংকারী, অলস ও অবাধ্য সেবককে শীঘ্র দূর করা দরকার।
- দূতের গুণাবলী: নির্ভীক, অহংকারহীন, দ্রুত কার্যসম্পাদনকারী, স্পষ্টভাষী এবং অন্যের কথায় কান না দেওয়া মানুষই দূতের যোগ্য।
৬. বন্ধু ও উপদেষ্টার গুরুত্ব:
- তোষামোদকারী বা মিষ্টি কথা বলা মানুষের অভাব নেই, কিন্তু অপ্রিয় হলেও শেষমেশ হিতকর কথা যিনি বলেন, তিনিই প্রকৃত বন্ধু।
৭. শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও আত্মসংযম:
- পাঁচ প্রকার বল: বাহুবল (সবচেয়ে নিম্ন), মন্ত্রণাবল, ধনবল, কুলবল—কিন্তু এই সব বলের ওপরে শ্রেষ্ঠ হলো বুদ্ধিবল।
- কাউকে অবহেলা নয়: আগুন, সাপ, সিংহ এবং নিজ বংশের তেজস্বী মানুষকে কখনো অবহেলা করা উচিত নয়; কারণ আপাতশান্ত কাঠের ভেতর যেমন আগুন লুকিয়ে থাকে, তেজস্বী মানুষও সময় এলে পুরো ধ্বংস ডেকে আনতে পারে।
- পরস্পর নির্ভরতা: জঙ্গল ও বাঘ যেমন একে অপরকে ছাড়া বাঁচতে পারে না (বাঘ বনকে আর বন বাঘকে রক্ষা করে), তেমনি একতাবদ্ধতাই শক্তির আসল ভিত্তি।

Comments
Post a Comment