Posts

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৭ম  শ্লোক  বিষাদযোগ

Image
B শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৭ম  শ্লোক  বিষাদযোগ अस्माकं तु विशिष्टा ये तान्निबोध द्विजोत्तम । नायका मम सैन्यस्य संज्ञार्थं तान्ब्रवीमि ते ॥ ७ ॥ অস্মাকং তু বিশিষ্টা যে তান্নিবোধ দ্বিজোত্তম। নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থং তানব্রবীমি তে ॥ ৭ ॥ হে দ্বিজশ্রেষ্ঠ (ব্রাহ্মণ), আমার সেনাবাহিনীর প্রধান যোদ্ধাদের ও সেনাপতিদের কথাও জেনে নিন; আপনার অবগতির জন্য আমি তাঁদের নাম উল্লেখ করছি।  'অস্মাকং তু বিশিষ্টা যে তান্নিবোধ দ্বিজোত্তম'—দুর্যোধন দ্রোণাচার্যকে বলছেন, "হে দ্বিজশ্রেষ্ঠ, আপনি জেনে রাখুন যে আমাদের সেনাবাহিনীতেও এমন সব মহান রথী যোদ্ধা রয়েছেন যাঁরা কোনো অংশেই কম বীরত্বপূর্ণ বা কম রণকুশলী নন; বরং তাঁরা অধিকতর বীর এবং যুদ্ধবিদ্যায় আরও বেশি পারদর্শী।" তৃতীয় শ্লোকে 'পশ্য' (দেখুন) এবং এখানে 'নিবোধ' (জানুন) ক্রিয়াপদ দুটি ব্যবহৃত হয়েছে। পাণ্ডবদের সেনাবাহিনী তাঁদের চোখের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে, তাই দুর্যোধন 'পশ্য' ক্রিয়াপদটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু কৌরবদের সেনাবাহিনী দ্রোণাচার্যের চোখের সামনে নেই, বরং তা তাঁর পিছনের দিকে অবস্থিত। তাই দুর্যোধন 'নিবোধ' ক্র...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ শ্লোক বিষাদযোগ

Image
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ  শ্লোক  বিষাদযোগ  अत्र शूरा महेष्वासा भीमार्जुनसमा युधि । युयुधानो विराटश्च द्रुपदश्च महारथः ॥ ४॥ অত্র শূরা মহেষাসা ভীমার্জুনসমা যুধি। যুযুধানো বিরাটশ্চ দ্রুপদশ্চ মহারথঃ ।॥ 8 ॥ धृष्टकेतुश्चेकितानः काशिराजश्च वीर्यवान् । पुरुजित्कुन्तिभोजश्च शैब्यश्च नरपुङ्गवः ॥ ५॥ ধৃষ্টকেতুশ্চেকিতানঃ কাশিরাজশ্চ বীর্যবান্। পুরুজিৎ কুন্তিভোজশ্চ শৈব্যশ্চ নরপুঙ্গবঃ ॥ ৫ ॥  युधामन्युश्च विक्रान्त उत्तमौजाश्च वीर्यवान् । सौभद्रो द्रौपदेयाश्च सर्व एव महारथाः ॥ ६॥ যুধামন্যুশ্চ বিক্রান্ত উত্তমৌজাশ্চ বীর্যবান্। সৌভদ্রো দ্রৌপদেয়াশ সর্ব এব মহারথাঃ ॥ ৬ ॥ মহান রথীগণ এখানে রয়েছেন বীর ও শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধরগণ, যারা যুদ্ধে ভীম ও অর্জুনের সমতুল্য—যেমন যুযুধান (সাত্যকি), বিরাট, দ্রুপদ, ধৃষ্টকেতু, চেকিতান এবং কাশীর পরাক্রমশালী রাজা। পুরুষিৎ, কুন্তিভোজ ও শৈব্য—এঁরা সকলেই ছিলেন নরশ্রেষ্ঠ। পরাক্রমশালী যুধামন্যু ও বীর উত্তমৌজা; সুভদ্রাপুত্র (অভিমন্যু) এবং দ্রৌপদীর পুত্রগণ—এঁরা সকলেই ছিলেন মহান রথী।  এখানে (পাণ্ডব-সেনাদলে) রয়েছেন পরাক্রমশালী ধনুর্ধরগণ, যারা যুদ্ধে ব...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৩য় শ্লোক বিষাদযোগ

Image
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: ১ম অধ্যায়- ৩য় শ্লোক  বিষাদযোগ पश्यैतां पाण्डुपुत्राणामाचार्य महतीं चमूम् । व्यूढां द्रुपदपुत्रेण तव शिष्येण धीमता ।। 3।। পশ্যৈতাং পাণ্ডুপুত্রাণামাচার্য মহতীং চমূম্। ব্যুঢ়াং দ্রুপদপুত্রেণ তব শিষ্যেণ ধীমতা ৷৷ ৩ ॥ কুরুক্ষেত্র প্রান্তরে দুর্যোধনের কূটনীতি ও দ্রোণাচার্যের উদারতা: একটি পর্যালোচনা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার প্রথম অধ্যায়ে কুরুক্ষেত্রের ধর্মক্ষেত্রে অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের মহাসংগ্রামের সূচনাপর্বে কৌরবরাজ দুর্যোধনের কূটকৌশল ও গুরু দ্রোণাচার্যের প্রতি তাঁর সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক চাপের এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য উন্মোচিত হয়েছে। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সূচনাতেই দুর্যোধন আচার্য দ্রোণের সম্মুখে পাণ্ডবদের সুবিশাল সৈন্যবাহিনী দেখে গভীর সংশয়ে নিপতিত হন এবং শ্লোকাকারে স্বীয় আচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন— পশ্যৈতাং পাণ্ডুপুত্রাণামাচার্য মহতীং চমূম্। ব্যূঢ়াং দ্রুপদপুত্রেণ তব শিষ্যেণ ধীমতা ॥ শব্দার্থ পশ্য – দেখুন। এতাম – এই। পাণ্ডু-পুত্রাণাম – পাণ্ডুপুত্রদের। আচার্য – হে গুরুদেব। মহতীম – বিশাল। চমূম – সৈন্যবাহিনীকে। ব্যূঢ়াম – ব্যূহ আকারে সাজানো। দ্রুপদ-পুত্রেণ – দ্রুপদপুত্রের (ধৃষ্টদ্য...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: প্রথম অধ্যায় (অর্জুনবিষাদযোগ)-২য় শ্লোক

Image
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: প্রথম অধ্যায় (অর্জুনবিষাদযোগ)-২য় শ্লোক সঞ্জয় উবাচ दृष्ट्वा तु पाण्डवानीकं व्यूढं दुर्योधनस्तदा। आचार्यमुपसंगम्य राजा वचनमब्रवीत्॥ ২ ॥ দৃষ্টা তু পাণ্ডবানীকং ব্যুঢ়ং দুর্যোধনস্তদা। আচার্যমুপসঙ্গম্য রাজা বচনমব্রবীৎ ॥ ২॥ সঞ্জয় বললেন-হে রাজন। পাণ্ডবদের বিশাল ও সুসজ্জিত বাহিনী দর্শন করে রাজা দুর্যোধন পরম শঙ্কিতচিত্তে পরম গুরু ও সেনাপতি দ্রোণাচার্যের নিকটে গিয়ে নিবেদন করলেন ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন প্রজ্ঞা ও পারমার্থিক তত্ত্বদর্শনহীন ভাবাসক্ত এক অন্ধ পিতা। তিনি বিলক্ষণ জানতেন যে, তাঁর পুত্র অধর্মের পথে পরিচালিত এবং পরম ধর্মপ্রাণ পাণ্ডবদের সাথে কোনো শুভ ও ন্যায়সঙ্গত আপসে তারা রাজি হবে না। তথাপি, কুরুক্ষেত্রের মতো পবিত্র ও মহা-ধর্মক্ষেত্রের অপ্রাকৃত প্রভাব নিয়ে তাঁর মন সংশয়ে দোলাচ্ছিল—ভাবছিলেন, এই তীর্থভূমির প্রভাবে কি অধর্মের বিনাশ ও ধর্মাত্মাদের জয় সুনিশ্চিত হবে? ধৃতরাষ্ট্রের এই গভীর উদ্বেগ বুঝতে পেরে চতুর সঞ্জয় তাঁকে সত্যের আভাস দিলেন যে, এই ধর্মক্ষেত্রের কৃপায় অধর্মের পরাজয় সুনিশ্চিত। পাণ্ডবদের মহতী সৈন্যসজ্জা ছিল বস্তুত ঈশ্বরমুখী ধর্ম ও ন্যায়ের প্রতীক। তা দর্শনমাত্রই রাজসিংহাসনে উ...

ভগবদ্গীতার প্রথম শ্লোক

Image
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা: প্রথম অধ্যায় (অর্জুনবিষাদযোগ) ভগবদ্গীতার প্রথম শ্লোক মহাভারতের 'ভীষ্ম পর্বের' পঁচিশতম অধ্যায়ে এসে অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্র সঞ্জয়কে প্রথম প্রশ্নটি করলেন, যা ভগবদ্গীতার প্রথম শ্লোক নামে পরিচিত: धृतराष्ट्र उवाच । धर्मक्षेत्रे कुरुक्षेत्रे समवेता युयुत्सवः । मामकाः पाण्डवाश्चैव किमकुर्वत सञ्जय ॥ ধৃতরাষ্ট্র উবাচ। "ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ। মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়" ॥ ১ ॥ ধৃতরাষ্ট্র জিজ্ঞাসা করিলেন, "হে সঞ্জয়! ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধকামনায় সমবেত হইয়া আমার পুত্রগণ এবং পাণ্ডুর পুত্রগণ অতঃপর কী করিল?" শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পরম তত্ত্বজ্ঞানের এক অমৃতময় মহাসাগর, যাহার অপার মহিমা স্বয়ং ‘গীতা-মাহাত্ম্য’-এ বর্ণিত হইয়াছে। এই পরম শাস্ত্রের প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করিতে হইলে পরমেশ্বর ভগবানের তত্ত্বদর্শী একনিষ্ঠ ভক্তের শ্রীচরণাশ্রয়ে তত্ত্বজ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। ব্যক্তিগত অহংকার বা মনগড়া দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা গীতার অর্থ বিশ্লেষণ করা ঘোর অপরাধ। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখপদ্ম হইতে অর্জুন যেভাবে সরাসরি এই গীতোপদেশ গ্রহণ করিয়াছ...

শ্রীমদভগবদ্গীতা: (ভূমিকা)

Image
  শ্রীমদভগবদ্গীতা:  (ভূমিকা) বারো বছরের বনবাস আর এক বছরের অজ্ঞাতবাস কাটানোর পর পাণ্ডবরা দুর্যোধনের কাছে নিজেদের প্রাপ্য অর্ধেক রাজ্য ফেরত চাইলেন। কিন্তু অহংকারী দুর্যোধন সাফ জানিয়ে দিলেন, যুদ্ধ ছাড়া তিনি সূচের ডগায় যতটুকু মাটি ধরে, ততটুকু জমিও পাণ্ডবদের দেবেন না। উপায়ান্তর না দেখে মাতা কুন্তীর অনুমতি নিয়ে পাণ্ডবরা যুদ্ধের পথই বেছে নিলেন। ফলে কৌরব ও পাণ্ডব—দুই পক্ষই যুদ্ধের জোড়দার প্রস্তুতি শুরু করে দিল। হস্তিনাপুরের জন্মঅন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রের ওপর মহর্ষি বেদব্যাসের ভীষণ স্নেহ ছিল। তাই তিনি ধৃতরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিলেন, "এই মহাভারতে ক্ষত্রিয়দের বিনাশ এখন অবধারিত। তুমি যদি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে চাও, তবে আমি তোমাকে দিব্যদৃষ্টি দিতে পারি। তুমি প্রাসাদে বসেই সব দেখতে পাবে।" ধৃতরাষ্ট্র উত্তর দিলেন, "সারা জীবন তো অন্ধ হয়েই কাটালাম, এখন আর চোখে দেখে নিজের স্বজনদের রক্তপাত দেখতে চাই না। তবে যুদ্ধের সমস্ত খবর আমি শুনতে চাই।" তখন মহর্ষি ব্যাসদেব বললেন, "বেশ! তবে তোমার মন্ত্রী সঞ্জয়কেই আমি এই দিব্যদৃষ্টি দিচ্ছি। সে কেবল রণক্ষেত্রের ঘটনাই নয়, বরং যোদ্ধাদের মনের ভাব ও চিন্...

দ্বিতীয় ভাগ মহাভারতের ভীষ্মপর্ব-কুরুক্ষেত্রের রণপ্রান্তরে: সংহারের আগে আবাহন

Image
দ্বিতীয়  ভাগ মহাভারতের ভীষ্মপর্ব-কুরুক্ষেত্রের রণপ্রান্তরে: সংহারের আগে আবাহন কুরুক্ষেত্রের ধূসর ধূলিরাশি তখন বাতাসে উড়ছে। ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধ চোখের আলো সঞ্জয় একে একে ফুটিয়ে তুলছেন তাঁর দিব্যদৃষ্টির ক্যানভাসে। সঞ্জয় বলতে শুরু করলেন— মহারাজ! পিতামহ ভীষ্মের নির্মিত সেই দুর্ভেদ্য, লৌহকঠিন ব্যূহ দেখে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের হৃদয় ক্ষণেকের জন্য কেঁপে উঠেছিল। বিমর্ষ মুখে তিনি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অর্জুনের দিকে চেয়ে বললেন, "ধনঞ্জয়! যার সেনাপতি খোদ পিতামহ ভীষ্ম, সেই কৌরবদের আমরা থামাব কীভাবে? এই ব্যূহ তো শাস্ত্রীয় বিধিতে গড়া এক অভেদ্য প্রাচীর! আমাদের পুরো সৈন্যদল আজ এক পরম সংকটের মুখে। কীভাবে রক্ষা পাব আমরা?" তীরক্ষ্ণ দৃষ্টি অর্জুনের। তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। বিষাদগ্রস্ত জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাকে ধীর কণ্ঠে তিনি মনে করিয়ে দিলেন চিরন্তন সত্য— "রাজন! শত্রুর সংখ্যা বা শারীরিক বলই যে সবসময় জয়ের শেষ কথা বলে না, তা তো আপনার অজানা নয়। বহুপূর্বে দেবাসুর যুদ্ধের পর স্বয়ং ব্রহ্মা ইন্দ্রাণীসহ দেবগণকে বলেছিলেন— শুধুমাত্র পেশিশক্তি আর বাহুবলে জয় আসে না; জয় আসে সত্য, দয়া, ধর্ম এবং উদ্যমের শক্তিতে। যেখানে ধর্ম,...