শ্রীমদভগবদ্গীতা: (ভূমিকা)
শ্রীমদভগবদ্গীতা: (ভূমিকা)
বারো বছরের বনবাস আর এক বছরের অজ্ঞাতবাস কাটানোর পর পাণ্ডবরা দুর্যোধনের কাছে নিজেদের প্রাপ্য অর্ধেক রাজ্য ফেরত চাইলেন। কিন্তু অহংকারী দুর্যোধন সাফ জানিয়ে দিলেন, যুদ্ধ ছাড়া তিনি সূচের ডগায় যতটুকু মাটি ধরে, ততটুকু জমিও পাণ্ডবদের দেবেন না। উপায়ান্তর না দেখে মাতা কুন্তীর অনুমতি নিয়ে পাণ্ডবরা যুদ্ধের পথই বেছে নিলেন। ফলে কৌরব ও পাণ্ডব—দুই পক্ষই যুদ্ধের জোড়দার প্রস্তুতি শুরু করে দিল।
হস্তিনাপুরের জন্মঅন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রের ওপর মহর্ষি বেদব্যাসের ভীষণ স্নেহ ছিল। তাই তিনি ধৃতরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিলেন, "এই মহাভারতে ক্ষত্রিয়দের বিনাশ এখন অবধারিত। তুমি যদি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে চাও, তবে আমি তোমাকে দিব্যদৃষ্টি দিতে পারি। তুমি প্রাসাদে বসেই সব দেখতে পাবে।"
ধৃতরাষ্ট্র উত্তর দিলেন, "সারা জীবন তো অন্ধ হয়েই কাটালাম, এখন আর চোখে দেখে নিজের স্বজনদের রক্তপাত দেখতে চাই না। তবে যুদ্ধের সমস্ত খবর আমি শুনতে চাই।"
তখন মহর্ষি ব্যাসদেব বললেন, "বেশ! তবে তোমার মন্ত্রী সঞ্জয়কেই আমি এই দিব্যদৃষ্টি দিচ্ছি। সে কেবল রণক্ষেত্রের ঘটনাই নয়, বরং যোদ্ধাদের মনের ভাব ও চিন্তাভাবনাও দূর থেকে দেখতে, শুনতে ও বুঝতে পারবে এবং তোমাকে এসে সব জানাবে।" এই বলে ব্যাসদেব সঞ্জয়কে অলৌকিক দিব্যদৃষ্টি দান করলেন।
কুরুক্ষেত্রে মহাভারতের যুদ্ধ শুরু হলো। সঞ্জয় টানা দশ দিন সেখানে উপস্থিত থেকে সমস্ত যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করলেন। দশম দিনে যখন পিতামহ ভীষ্ম বাণবিদ্ধ হয়ে রথ থেকে ধরাধামে পড়লেন, তখন সঞ্জয় হস্তিনাপুরে ফিরে এসে ধৃতরাষ্ট্রকে সেই দুঃসংবাদ দিলেন। প্রিয় পিতামহের পতনের কথা শুনে ধৃতরাষ্ট্র গভীর শোকে ভেঙে পড়লেন। কান্নাকাটি করার পর তিনি সঞ্জয়কে একদম প্রথম থেকে যুদ্ধের সমস্ত বিবরণ বিস্তারিতভাবে বলতে অনুরোধ করলেন।
সংক্ষিপ্ত তথ্য: মহাভারতের আঠারোটি পর্বের মধ্যে 'ভীষ্ম পর্ব'-এর অন্তর্গত একটি বিশেষ অংশ হলো এই 'শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা'। ভীষ্ম পর্বের ২৫ নম্বর অধ্যায় থেকে ৪২ নম্বর অধ্যায় পর্যন্ত মোট ১৮টি অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের এই পরম কথোপকথনটি বর্ণিত হয়েছে। আর যিনি ধৃতরাষ্ট্রকে এই বিবরণ দিচ্ছেন, সেই গবল্গনের পুত্র সঞ্জয় ছিলেন পরম জ্ঞানী, ধার্মিক এবং ধৃতরাষ্ট্রের অত্যন্ত বিশ্বস্ত মন্ত্রী।

Comments
Post a Comment