দেবতাদের হারিয়ে মর্ত্যের প্রেম: নল-দময়ন্তীর অমর উপাখ্যান


দেবতাদের হারিয়ে মর্ত্যের প্রেম: নল-দময়ন্তীর অমর উপাখ্যান

যুধিষ্ঠির মহর্ষি বৃহদশ্বের কাছ থেকে এমন এক রাজার গল্প শুনতে চেয়েছিলেন, যিনি রাজা যুধিষ্ঠিরের মতোই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যপীড়িত ছিলেন। তাই বৃহদশ্ব গল্পটি শুরু করেছিলেন।

 ১. অনন্য এক রাজা ও এক না-দেখা রাজকুমারী

বৃহদশ্ব একটু থামলেন। তারপর যুধিষ্ঠিরের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন, "অনেকদিন আগের কথা, ধর্মরাজ। নিষধ দেশে এক রাজা ছিলেন, নাম তাঁর নল। বীরসেনের ছেলে নল ছিলেন সর্বগুণসম্পন্ন। এমন রূপ, এমন পুরুষালি চেহারা খুব একটা দেখা যায় না। ঘোড়া ছোটানো আর তাদের বশ করার বিদ্যায় তাঁর জুড়ি ছিল না, বেদেও ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য। আর যুদ্ধে? যুদ্ধে তিনি ছিলেন একাই এক সিংহের মতো পরাক্রমশালী। তবে হ্যাঁ, একটা দুর্বলতা ছিল তাঁর। পাশা খেলার প্রতি তাঁর এক অমোঘ টান ছিল। যৌবনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে একাকিত্ব বোধ করছিলেন নল, মনে মনে একজন যোগ্য জীবনসঙ্গিনী খুঁজছিলেন। তরুণ রাজার মনে এমন ইচ্ছে জাগা তো কোনো অন্যায় বা লজ্জার কথা নয়।

ঠিক সেই সময়েই বিদর্ভ রাজ্যে রাজত্ব করতেন রাজা ভীমক। হে ধর্মরাজ, ইনি কিন্তু তোমাদের সেই চেনা ভীম নন, ইনি অন্য একজন মানুষ, শুধু নামটুকুই যা এক। সন্তানসুখ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন ভীমক। অবশেষে পরম তপস্যা আর দমন নামের এক ঋষির আশীর্বাদে তাঁর কোল আলো করে এলো তিন ছেলে—দম, দান্ত ও দমন, আর এক অপরূপা কন্যা। মেয়ের নাম রাখা হলো দময়ন্তী। দময়ন্তী যত বড় হতে লাগলেন, তাঁর রূপের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে, রাজসভা থেকে সরাইখানায়, পর্যটক আর চারণকবিদের মুখে মুখে ফিরতে লাগলো সেই রূপের মহিমা। নিষধ দেশের তরুণ রাজা নলের কানেও পৌঁছাল সেই নাম।

আশ্চর্য কী জানেন, বিদর্ভের রাজপ্রাসাদে বসে দময়ন্তীও ঠিক একইভাবে নলের কথা শুনছিলেন। নলের বীরত্ব, তাঁর ব্যক্তিত্ব আর অসাধারণ দক্ষতার গল্প শুনতে শুনতে অবিন্যস্ত হয়ে উঠছিল দময়ন্তীর দিনরাত্রি। দুজনে দুজনকে কোনোদিন চোখেও দেখেননি, অথচ কেবল কথার পিঠে কথা সাজিয়ে তৈরি হওয়া এক মায়াবী অবয়বকে ভালোবেসে ফেললেন তাঁরা। একে অপরের চিন্তায় বিভোর হয়ে রইলেন রাতদিন।"

২. সোনার হাসের দূতালী

"একদিন দুপুরের দিকে নল প্রাসাদের সংলগ্ন বাগানে একা একা হাঁটছিলেন। হঠাৎ দেখলেন, একটা দীঘির পাড়ে একঝাঁক সোনার ডানার রাজহাঁস জিরোচ্ছে। মনের চপলতায় নল পা টিপে টিপে এগিয়ে গিয়ে একটা হাঁসকে হাত দিয়ে ধরে ফেললেন। পাখিটি চমকে উঠলেও একটুও আঘাত পেল না। অলৌকিক ব্যাপার হলো, পাখিটি মানুষের গলায় কথা বলে উঠলো!

সে বললো, 'হে রাজা নল, আমাকে মেরো না। আমার প্রাণ ভিক্ষা দাও, আমি তোমার এক মস্ত উপকার করবো। আমি এখনই উড়ে যাব বিদর্ভ দেশে, রাজা ভীমকের প্রাসাদে। সেখানে গিয়ে দময়ন্তীর কাছে তোমার কথা এমনভাবে বলবো যে, সে সারাজীবনে তুমি ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের কথা ভাবতেই পারবে না।'

নল তো অবাক! একটা পাখি এমন গভীর কথা বলছে! তিনি আলতো করে হাতটা খুলে পাখিটিকে ছেড়ে দিলেন। হাঁসটি তার দেওয়া কথা রাখলো। দলবল নিয়ে সে সোজা উড়ে গেল বিদর্ভ দেশে। দময়ন্তী তখন সখীদের নিয়ে বাগানে বেড়াচ্ছিলেন। সোনার হাঁসটি টুপ করে সেখানে নেমে এলো এবং দময়ন্তীর কানে কানে নলের রূপ, গুণ আর রাজকীয় মর্যাদার কথা এমনভাবে বুনে দিল যে, রাজকুমারীর মন সেই না-দেখা পুরুষের কাছে বাঁধা পড়ে গেল।

গল্পের শেষে হাঁসটি দময়ন্তীকে বললো, 'যদি তুমি এমন কাউকে মনে স্থান দিতে চাও যে সত্যি তোমার যোগ্য, তবে জেনে রেখো, নিষধ দেশে এক রাজা আছেন, যাঁর নাম নল।' এইটুকু বলেই হাঁসের দল আকাশে ডানা মেললো। আর দময়ন্তীর বুকে রেখে গেল এক অদ্ভুত ছটফটানি আর তীব্র আকুলতা, ঠিক যেমনটা নল ভোগ করছিলেন নিষধ দেশে বসে।"

৩. স্বয়ংবরের ডাক ও দেবতাদের চাতুরী

"সেই দিনের পর থেকে দময়ন্তীর রাতের ঘুম উবে গেল। খাওয়া-দাওয়ায় মন নেই, সখীদের সাথে খেলায় আনন্দ নেই। দিন দিন সে ফ্যাকাশে আর রোগা হয়ে যেতে লাগলো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুপচাপ বসে থাকে, মনটা পড়ে থাকে সুদূরের এক অচেনা রাজ্যে। মেয়ের এই পরিবর্তন সখীদের চোখ এড়ালো না, খবর গেল স্বয়ং রাজা ভীমকের কানে।

ভীমক মেয়ের এই দশা দেখে ভেতরের কারণটা আন্দাজ করতে পারলেন। তিনি বুঝলেন, মেয়ের বিয়ের সময় হয়েছে। আর দেরি না করে তিনি সব রাজ্যে বার্তা পাঠিয়ে দিলেন—দময়ন্তীর স্বয়ংবর সভা বসবে। চারপাশের দেশের রাজা আর রাজপুত্ররা আসবেন, আর দময়ন্তী নিজের হাতে বরমাল্য তুলে দেবেন তাঁর পছন্দের মানুষের গলায়। তখনকার দিনে রাজকন্যাদের নিজের পথ বেছে নেওয়ার এটাই ছিল দস্তুর, ধর্মরাজ।

এই স্বয়ংবরের খবর বাতাসের আগে ছুটলো। স্বর্গের চার প্রধান দেবতা—ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ আর যম—তখন কোনো এক স্বর্গীয় কাজে নিষধ দেশের ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। খবরটা তাঁদের কানেও গেল। আর খবর পেলেন নল নিজে। তিনি কালবিলম্ব না করে বিদর্ভের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন, মনে মনে তখন শুধু দময়ন্তীরই নাম।

পথের মধ্যেই নলের সাথে দেখা হয়ে গেল সেই চার দেবতার। নল অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাঁদের প্রণাম জানালেন। দেবরাজ ইন্দ্র নলের দিকে তাকিয়ে প্রথম কথা বললেন।

ইন্দ্র বললেন, 'রাজা নল, আমরা জানি তুমি কোথায় যাচ্ছো। তবে আমাদেরও একটা উদ্দেশ্য আছে। আমরা এই চার দেবতাও দময়ন্তীকে বিবাহ করতে চাই। আমরা চাই, তুমি আমাদের দূত হয়ে আগে প্রাসাদে যাও। দময়ন্তীকে বলো যে ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ আর যম—এই চার দেবতার মধ্যে যেকোনো একজনকে সে যেন স্বামী হিসেবে বরণ করে নেয়। তাকে রাজি করানোর দায়িত্ব তোমার।'

নলের বুকটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। তিনি নিজেও তো দময়ন্তীকে ভালোবাসেন, তাকেই নিজের রানী করার স্বপ্ন বুকে নিয়ে পথ চলছিলেন। কিন্তু দেবতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তখন আর পিছিয়ে আসার পথ নেই। ক্ষত্রিয়ের মুখ থেকে বের হওয়া কথা তো হেলাফেলা করার নয়। বুক ফেটে গেলেও নল বললেন, 'আমি আপনাদের অনুরোধ ফেলবো না। কিন্তু দেবতাদের দূত হয়ে আমি কী করে এক সুরক্ষিত রাজপ্রাসাদের অন্দরমহলে পাহারাদারদের চোখ এড়িয়ে ঢুকবো?'

ইন্দ্র হাসলেন, 'যাও নল, পথ তুমি পেয়ে যাবে।' দেবতাদের মায়া বলে কথা! নল সত্যি সত্যিই রাজপ্রাসাদের দেয়াল আর প্রহরীদের অদৃশ্য হয়ে পার করে গেলেন। গিয়ে দাঁড়ালেন দময়ন্তীর খাসকামরায়, যেখানে সে সখীদের মাঝে বসে ছিল।"

৪. প্রেমের দায় ও এক কঠিন শর্ত

"হঠাৎ এক অচেনা, সুদর্শন পুরুষকে ঘরের মাঝখানে শূন্য থেকে প্রকট হতে দেখে সখীরা চিৎকার করে উঠলো। কিন্তু দময়ন্তী? দময়ন্তীর বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠলো। এক অদ্ভুত চেনা অনুভূতি। সে সখীদের শান্ত হতে বলে নলের দিকে তাকিয়ে শুধালো, 'কে আপনি? কী করে এখানে এলেন, যেখানে কোনো পুরুষের প্রবেশাধিকার নেই?'

নল শান্ত স্বরে বললেন, 'আমি নিষধ দেশের রাজা নল। আমি এখানে নিজের কোনো কামনায় আসিনি, এসেছি দেবতাদের দূত হয়ে। ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ আর যম—এই চার মহিমান্বিত দেবতা আপনাকে বিয়ে করতে চান। আমি তাঁদের বার্তা নিয়ে এসেছি যাতে আপনি তাঁদের কাউকে বেছে নেন।'

দময়ন্তী শান্ত হয়ে সব শুনলো। তারপর ম্লান হেসে বললো, 'আমি দেবতাদের সম্মান করি। কিন্তু যেদিন থেকে সেই সোনার হাঁস আপনার নাম আমার কানে দিয়ে গেছে, সেদিন থেকে আমি আপনাকেই স্বামী বলে মনে মনে বরণ করেছি। এই স্বয়ংবরের আয়োজনও শুধু আপনার জন্যই। আপনি যদি আমাকে গ্রহণ না করেন, তবে আমি নিজের জীবন শেষ করে দেব, তবু অন্য কারও হবো না।'

নলের চোখ ভিজে এলো এই কথা শুনে। কিন্তু তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞায় অটল। তিনি বললেন, 'আমি অন্যের নুন খেয়েছি, দেবতাদের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দূত হয়ে এসে আমি কী করে নিজের স্বার্থ দেখি? দেবতাদের মহিমার কাছে আমি তো এক ছার মানব মাত্র। আপনি দেবতাদেরই বেছে নিন।'

কিন্তু দময়ন্তী দমবার পাত্রী নন। প্রেম মানুষকে এক অদম্য জেদ দেয়। সে বললো, 'একটা উপায় আছে। স্বয়ংবর সভা যেমন বসার তেমনই বসুক। দেবতারাও আপনার রূপ ধরে আপনার পাশে এসে দাঁড়ান। আমি ভরা সভায় সবার সামনে আপনাকেই বেছে নেব। এতে আপনার ওপর কোনো দোষ আসবে না, কারণ পছন্দটা সম্পূর্ণ আমার নিজের।' নল অনন্যোপায় হয়ে দেবতাদের কাছে ফিরে গেলেন এবং হুবহু সব কথা খুলে বললেন।"

 ৫. দময়ন্তীর বুদ্ধি ও দেবতাদের বরদান

"অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এলো। বিদর্ভ রাজপ্রাসাদের বিশাল সভাঘর দেশ-বিদেশের রাজা আর রাজপুত্রদের উপস্থিতিতে গমগম করছে। দময়ন্তী যখন হাতে বরমাল্য নিয়ে ধীর পায়ে সভায় প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর চোখ চড়কগাছ! সামনে একটা নল নয়, সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন পাঁচ-পাঁচজন নল! দেবতারা তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য প্রত্যেকেই নলের রূপ ধারণ করে বসে আছেন। দেখতে হুবহু এক, তফাত করার কোনো জো নেই।

দময়ন্তী থমকে দাঁড়ালেন। তাঁর মনের ভেতরটা কেঁপে উঠলো। কিন্তু দময়ন্তী শুধু রূপসীই ছিলেন না, বুদ্ধিমতীও ছিলেন। তিনি ছোটবেলায় প্রাচীনদের মুখে শুনেছিলেন, দেবতাদের কিছু লক্ষণ থাকে—তাঁদের পা কখনো মাটি ছোঁয় না, তাঁদের চোখে পলক পড়ে না, গায়ে ঘাম হয় না, ছায়া পড়ে না আর তাঁদের গলার মালা কখনো শুকোয় না।

দময়ন্তী তীক্ষ্ণ চোখে পাঁচজন নলের দিকে তাকালেন। দেখলেন, চারজন পুরুষ মাটির থেকে সামান্য ওপরে ভেসে আছেন, তাঁদের গায়ে কোনো ধুলো নেই, আলো-ঝলমলে সভায় তাঁদের কোনো ছায়া পড়ছে না, চোখের পলক স্থির আর গলার মালা একদম টাটকা। আর ঠিক তাঁদের মাঝখানে একজন দাঁড়িয়ে আছেন, যাঁর পা মাটিতে শক্ত করে পোঁতা, কপালে হালকা ঘামের বিন্দু, পাশে একটা দীর্ঘ ছায়া পড়েছে আর গলার ফুলের মালাটা রোদের তাপে সামান্য ম্লান হতে শুরু করেছে।

আর কোনো দ্বিধা রইল না। দময়ন্তী এগিয়ে গিয়ে সেই সত্যিকারের মানুষটির গলায় বরমাল্য পরিয়ে দিলেন। দেবতাদের চাতুরিকে এক নিমেষে হারিয়ে দিল এক সাধারণ নারীর প্রেমের বুদ্ধি। গোটা সভাগৃহে এক আনন্দের গুঞ্জন মেতে উঠলো।

রাজা নল তখন আনন্দে আত্মহারা। তিনি দময়ন্তীর দিকে তাকিয়ে আবেগমথিত গলায় বললেন, 'প্রিয়তমা আমার! স্বর্গের দেবতারা সামনে থাকা সত্ত্বেও তুমি এক সাধারণ মানুষকে বেছে নিলে। আমাকে তোমার স্বামী বলে স্বীকার করলে। আমি কথা দিচ্ছি, যতদিন এই শরীরে প্রাণ থাকবে, আমি তোমার প্রতিটি কথা শুনবো। তোমাকে ভালোবাসবো। এটা আমার প্রতিজ্ঞা।'

দুজনে মিলে দেবতাদের চরণে প্রণাম জানালেন। দেবতারাও এই পবিত্র প্রেমে প্রীত হয়ে আশীর্বাদ করলেন।

 ইন্দ্র বললেন:'নল, তুমি যখনই যজ্ঞ করবে, আমাকে তোমার পাশে দেখতে পাবে।'

 অগ্নি বললেন: 'তুমি যখনই মনে মনে কামনা করবে, আমি তোমার সামনে প্রকট হবো।'

 যম বললেন: 'তোমার হাতের রান্না সবসময় অমৃতের মতো সুস্বাদু হবে আর তুমি কখনো ধর্ম থেকে বিচ্যুত হবে না।'

 বরুণ বললেন: 'তুমি যেখানেই চাইবে, সেখানেই জলের ধারা বয়ে যাবে। আর তোমাদের বরমাল্য কখনো সুবাস হারাবে না।'

দেবতারা তাঁদের বর দিয়ে স্বর্গে ফিরে গেলেন। আমন্ত্রিত রাজারাও বিদায় নিলেন। নল আরও কিছুদিন শ্বশুরবাড়ি কুণ্ডিনপুরে কাটালেন। তারপর শ্বশুরমশাই রাজা ভীমকের অনুমতি নিয়ে দময়ন্তীকে সাথে করে নিজের রাজ্য নিষধে ফিরে এলেন। অত্যন্ত ধর্মপরায়ণভাবে রাজ্য শাসন করতে লাগলেন নল। তিনি অশ্বমেধ যজ্ঞসহ অনেক বড় বড় যজ্ঞ সম্পন্ন করলেন। সময়ের নিয়মে তাঁদের কোল আলো করে এলো এক পুত্র আর এক কন্যা—ইন্দ্রসেন আর ইন্দ্রসেনা।"

বৃহদশ্ব এইখানে এসে একটু থামলেন। তাঁর চোখে এক অদ্ভুত বিষাদের ছায়া। তিনি যুধিষ্ঠিরের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বললেন, "কিন্তু হে ধর্মরাজ, এটা তো রাজা নলের কাহিনীর কেবল শুরু। সামনে আরও অনেক পথ বাকি। আর আমি তোমাকে আজ বলছি, নলের জীবনে এরপর যে দুঃখ নেমে এসেছিল, তা তোমাদের এই বনবাসের দুঃখের চেয়েও অনেক, অনেক গুণ বেশি বেদনাদায়ক ছিল।"

বি: দ্র: আমি মহাভারতের আদি পর্ব সংক্ষেপে ৭১টি  ভাগে এবং সভা পর্ব ১৬টি ভাগে সম্পন্ন করেছি। এখন চলছে বনপর্বের ১৫ পর্বের সংক্ষিপ্ত আলোচনা  এবং এটি এগিয়ে চলবে।এই পর্বটি নল ও দময়ন্তী ৩টি ভাগে চলবে। এখন চলছে নল ও দময়ন্তীর ১ম ভাগ।

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত অংশ এই ব্লগেই পাওয়া যাবে।


Go to all publications for full reading as per index

আপনার যদি কোনো জিজ্ঞাসা, প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন,অথবা নিচের comment boxএ comment করুন:

WhatsApp করুন


Comments

Popular posts from this blog

সত্যবতীর সন্তান ও হস্তিনাপুরের নিয়তি- বিচিত্রবীর্যের অকাল প্রয়াণ

লক্ষ্যভেদের পর: কুন্তীর সেই অমোঘ বাক্য ও নিয়তির খেলা

হস্তিনাপুরের অলিন্দে ষড়যন্ত্রের ছায়া