পরশুরামের গল্প: রক্তের সমুদ্র আর একলা এক মানুষ
পরশুরামের গল্প: রক্তের সমুদ্র আর একলা এক মানুষ
জমদগ্নি ঋষি আর রেণুকার ছোট ছেলে রাম। পরশু অর্থাৎ ধারাল কুঠার হাতে তুলে নিয়েছিলেন বলে সবাই তাঁকে পরশুরাম নামেই চেনে।
গল্পটা শুরু হয় এক মর্মান্তিক ঘটনা দিয়ে। সহস্রবাহু কার্তবীর্যার্জুন ক্ষমতার দেমাগে অন্ধ হয়ে জমদগ্নি ঋষির আশ্রমে চড়াও হয়। আশ্রমের দৈব গাভী কামধেনুকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায় আর বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধ ঋষি জমদগ্নিকে হত্যা করে।
রাম যখন আশ্রমে ফিরলেন, দেখলেন বাবার রক্তাক্ত দেহ আর মায়ের বাইশটি ক্ষতচিহ্ন। ঋষিপুত্রের চোখ ক্রোধে লাল হয়ে উঠল। শান্ত ব্রাহ্মণ হাত ছেড়ে তিনি তুলে নিলেন পশুপতির দেওয়া ভারী কুঠার। মহতী তপশ্চর্যা ছেড়ে তিনি নামলেন প্রতিশোধের রাস্তায়। একা হাতে কার্তবীর্যার্জুনের সহস্র হাত কেটে তাকে হত্যা করলেন।
কিন্তু যুদ্ধ সেখানেই থামল না। রাজাদের অন্যায় আর অত্যাচার মেটাতে পরশুরাম শপথ নিলেন—এই পৃথিবীকে তিনি ক্ষত্রিয়শূন্য করবেন। একে একে একুশ বার তিনি পৃথিবীর অত্যাচারী রাজাদের বিনাশ করলেন। তাঁদের রক্তে ভেসে গেল স্যমন্তপঞ্চক অঞ্চল, তৈরি হলো রক্তের হ্রদ।
সমস্ত অন্যায়ের বদলা নেওয়ার পরও কিন্তু পরশুরামের মনে শান্তিলাভ হলো না। একুশ বার রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে তিনি বুঝলেন, অহংকার আর অন্যায়ের যেমন শেষ থাকা দরকার, তেমনই অন্ধ হিংসা মানুষকে শুধুই এক গভীর শূন্যতার দিকে ঠেলে দেয়।
শেষে মহর্ষি কশ্যপের কথায় তিনি বুঝতে পারলেন, এই রক্তপাত এবার বন্ধ হওয়া দরকার। পরশুরাম তাঁর জয় করা সমস্ত পৃথিবী কশ্যপকে দান করে দিলেন। নিজের জন্য এক ইঞ্চি জমিও রাখলেন না।
অশ্বত্থামার মতো পরশুরামও চিরঞ্জীবী। তিনি এখনও বেঁচে আছেন মহেন্দ্র পর্বতের কোনো এক নিভৃত কোণে। একা, নিঃসঙ্গ। যিনি ক্ষমতার শিখরে পৌঁছেও সবকিছু ত্যাগ করে শান্তির খোঁজে একাকী জীবন বেছে নিয়েছিলেন।

Comments
Post a Comment