রামায়ণে মহাবলী পনসের ভূমিকা

 


রামায়ণে মহাবলী পনসের ভূমিকা

মহাকাব্য রামায়ণে সীতা উদ্ধার ও লঙ্কাজয় অভিযানে শ্রীরামচন্দ্রের পক্ষে যে অগণিত বানর সেনাপতি ও বীর যোদ্ধা সমবেত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে 'মহাবলী পনস' (Panasa) ছিলেন অন্যতম দুর্ধর্ষ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সুগ্রীবের অনুগত এই বানর যুথপতি কেবল তাঁর অতুলনীয় শারীরিক বলের জন্যই নয়, বরং অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা ও সেনাপতির যোগ্যতার কারণেও রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ডে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করেন।

রামায়ণের বর্ণনা অনুযায়ী, যখন শ্রীরামের কার্যসিদ্ধির জন্য বানররাজ সুগ্রীব পৃথিবীর নানা প্রান্তর থেকে বানর ও ভালুক সেনাদলকে আহ্বান করেন, তখন পনস বাহান্ন (৫২) কোটি তেজস্বী যোদ্ধার এক বিশাল সৈন্যদল নিয়ে সুগ্রীব ও রামচন্দ্রের সেবায় উপস্থিত হন। এত বড় একটি বাহিনীকে পরিচালনা করা এবং যুদ্ধের জন্য সুসংগঠিত রাখা তাঁর দক্ষ সেনাপতির পরিচায়ক।

দক্ষিণ অভিমুখে যাত্রা এবং মহাসমুদ্রের তীরে পৌঁছানোর সময় সমগ্র বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় পনস অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। নল, নীল, অঙ্গদ, ক্রাথ, মৈন্দ ও দ্বিবিদদের মতো প্রথম সারির বানর বীরদের পাশে থেকে তিনিও মহাসেনাবাহিনীর অগ্র ও পশ্চাৎভাগ সুরক্ষায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন।

লঙ্কার মূল যুদ্ধে প্রবেশ করার পর পনস তাঁর দৈহিক শক্তি ও পরাক্রমের পূর্ণ বিকাশ ঘটান। নগর প্রাকারের সুরক্ষিত তোরণ ভাঙা থেকে শুরু করে মায়াবী রাক্ষসবাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করতে তিনি শিলাখণ্ড ও প্রকাণ্ড বৃক্ষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে শত্রুসেনার মনে ত্রাসের সঞ্চার করেছিলেন। যুদ্ধের এক সংকটময় মুহূর্তে 'পটুশ' নামক ভয়াল রাক্ষস বীরের সাথে তাঁর এক মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে পনস নিজ বীরত্বে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করেন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, মহাবলী পনস ছিলেন শ্রীরামের বাহিনীর একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, রাজভক্ত ও বীর সেনাপতি। বিপুল সৈন্যবল এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর অদম্য সাহসিকতা লঙ্কাজয়ের মহাঅভিযানকে বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।


Comments

Popular posts from this blog

মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি-প্রথম পাতা

মহাভারতের সংক্ষিপ্ত বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা

সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)