রামায়ণে মহাবল গজ ও গবয়ের ভূমিকা
রামায়ণে মহাবল গজ ও গবয়ের ভূমিকা
মহাকাব্য রামায়ণে শ্রীরামচন্দ্রের লঙ্কাজয় এবং সীতা উদ্ধারের মহাকাব্যিক অভিযানে যেসব বানর বীর অসামান্য অবদানের স্বাক্ষর রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সুগ্রীবের অনুগত দুই সেনাপতি 'গজ' এবং 'গবয়' অন্যতম। কেবল বিপুল সৈন্যবলের অধিকারী হিসেবেই নয়, বরং রণক্ষেত্রে তাঁদের অদম্য সাহসিকতা এবং ঐশ্বরিক বলপ্রয়োগের ক্ষমতার জন্য তাঁরা রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ডে বিশেষভাবে ভাস্বর হয়ে আছেন।
পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, গজ ও গবয় সাধারণ বানর ছিলেন না; তাঁদের জন্ম হয়েছিল দেবতেজের প্রভাবে। প্রবাদ আছে, বানরবীর গজের উৎপত্তি হয়েছিল দেবরাজ ইন্দ্রের বাহন ঐরাবত হস্তীর শক্তি ও প্রভাব থেকে। অন্যদিকে, গবয় ছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা অথবা ধনের দেবতা কুবেরের অনুগ্রহজাত বীর। ঐশ্বরিক উৎসজাত হওয়ায় তাঁদের দৈহিক শক্তি ও অবয়ব ছিল এক প্রকাণ্ড পর্বতের মতো বিশাল ও সুদৃঢ়।
রামায়ণে তাঁদের মূল গুরুত্ব ফুটে ওঠে যখন সুগ্রীবের আহ্বানে সীতা উদ্ধারের জন্য পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মহাবলী বানরসেনারা সমবেত হতে শুরু করে। সেই সময় গজ এবং গবয় উভয়ই নিজ নিজ অধীনস্থ বিশাল ও দুর্ধর্ষ বানর বাহিনী নিয়ে শ্রীরামের সেবায় উপস্থিত হন। বিশাল শিলাখণ্ড উপড়ে ছুড়ে মারা এবং প্রকাণ্ড শালগাছকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করায় তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত নিপুণ।
লঙ্কাকাণ্ডে সমুদ্র অতিক্রম করে বানরবাহিনী যখন রাবণের দুর্ভেদ্য সুবর্ণলঙ্কায় প্রবেশ করে, তখন গজ ও গবয় লঙ্কার প্রাকার ও ফটক ভাঙার কাজে এবং রাক্ষস সৈন্যদের ব্যূহ ছত্রভঙ্গ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রণক্ষেত্রে তাঁদের গর্জন এবং অতুলনীয় প্রহার রাক্ষস সেনার মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, মহাবল গজ ও গবয় ছিলেন শ্রীরামের মহাসেনাবাহিনীর দুই অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ। রাজভক্তি, দেবপ্রদত্ত পরাক্রম এবং সেনাপতির যোগ্য নেতৃত্বে তাঁরা লঙ্কাজয়ে রামচন্দ্রকে বিজয়ের দ্বারে পৌঁছে দিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

Comments
Post a Comment