Posts

সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি

Image
সংক্ষিপ্ত   মহাভারতের বিষয়সূচি-প্রথম পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- দ্বিতীয় পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের  বিষয়সূচি- তৃতীয়  পাতা (Index of Brief Mahabharata)  সংক্ষিপ্ত মহাভারতের বিষয়সূচি- চতুর্থ  পাতা (Index of Brief Mahabharata) 

৪৪তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব-অম্বার রক্ত শপথ ও কুরুক্ষেত্রের ছায়া

Image
৪৪তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব-অম্বার রক্ত শপথ ও কুরুক্ষেত্রের ছায়া মহাকাব্যের পাতায় কত যুদ্ধই তো লেখা আছে। কিন্তু কুরুক্ষেত্রের সেই মহামানবের সমুদ্র-মন্থনের বহু আগেই, অলক্ষ্যে আর একটি যুদ্ধের বীজ বোনা হয়ে গিয়েছিল। সে যুদ্ধ অসি আর ধনুকের নয়, সে যুদ্ধ অপমান, জেদ আর এক নারীর বুকভাঙা অভিশাপের। ভীষ্ম তখন তাঁর অপরাজেয় যৌবনের চূড়ায়। ভাই বিচিত্রবীর্যের জন্য কাশীরাজের স্বয়ংবর সভা থেকে তিন রাজকন্যা—অম্বা, অম্বিকা ও অম্বালিকাকে বলপূর্বক হরণ করে আনলেন হস্তিনাপুরে। বীরের দর্প, ক্ষাত্রধর্মের হুঙ্কার! কিন্তু অন্তপুরের দরজায় দাঁড়িয়ে জ্যেষ্ঠা কন্যা অম্বা যখন নিচু স্বরে বললেন, “ভীষ্ম, আপনি ধর্মের সূক্ষ্ম গতি জানেন। আমি মনে মনে শাল্বরাজকে বরণ করেছি। আমাকে ক্ষমা করুন।”—ভীষ্ম সেদিন তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ধর্মের মর্যাদায় অম্বাকে যেতে দেওয়া হলো শাল্বরাজের রাজ্যে। মহাকাব্যের পাতায় কত যুদ্ধই তো লেখা আছে। কিন্তু কুরুক্ষেত্রের সেই মহামানবের সমুদ্র-মন্থনের বহু আগেই, অলক্ষ্যে আর একটি যুদ্ধের বীজ বোনা হয়ে গিয়েছিল। সে যুদ্ধ অসি আর ধনুকের নয়, সে যুদ্ধ অপমান, জেদ আর এক নারীর বুকভাঙা অভিশাপের। ভীষ্ম তখন ত...

৪৩তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব-কুরুক্ষেত্রের মহাসমরে রথী-মহারথীর বিচার: ভীষ্ম, কর্ণ ও দুর্যোধনের দ্বন্দ্ব

Image
৪৩তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব-কুরুক্ষেত্রের মহাসমরে রথী-মহারথীর বিচার: ভীষ্ম, কর্ণ ও দুর্যোধনের দ্বন্দ্ব মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সূচনাপর্বে এক উৎকণ্ঠাপূর্ণ মুহূর্তে রাজা ধৃতরাষ্ট্র তাঁর সঞ্জয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, "অর্জুন যখন রণভূমিতে পিতামহ ভীষ্মকে বধের প্রতিজ্ঞা নিয়েছে, তখন আমার পুত্র দুর্যোধন কী সিদ্ধান্ত নিল? তাছাড়া সেনাপতি পদ গ্রহণ করে মহাপরাক্রমী ভীষ্মই বা কী করলেন?" সঞ্জয় তখন ধৃতরাষ্ট্রকে সেনাপতি ভীষ্ম ও দুর্যোধনের মধ্যকার আলোচনার বিবরণ দিতে শুরু করলেন। . মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সূচনাপর্বে এক উৎকণ্ঠাপূর্ণ মুহূর্তে রাজা ধৃতরাষ্ট্র তাঁর সঞ্জয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, "অর্জুন যখন রণভূমিতে পিতামহ ভীষ্মকে বধের প্রতিজ্ঞা নিয়েছে, তখন আমার পুত্র দুর্যোধন কী সিদ্ধান্ত নিল? তাছাড়া সেনাপতি পদ গ্রহণ করে মহাপরাক্রমী ভীষ্মই বা কী করলেন?" সঞ্জয় তখন ধৃতরাষ্ট্রকে সেনাপতি ভীষ্ম ও দুর্যোধনের মধ্যকার আলোচনার বিবরণ দিতে শুরু করলেন। সেনাধ্যক্ষের পদ গ্রহণ করে শান্তনুনন্দন ভীষ্ম ভগবান স্বামিকার্তিককে প্রণাম জানিয়ে দুর্যোধনকে আশ্বস্ত করলেন। তিনি বললেন যে ব্যূহরচনায় তি...

৪২তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব-কুরুক্ষেত্রের রক্তসংকেত

Image
৪২তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব কুরুক্ষেত্রের রক্তসংকেত হিরণ্যবতী নদীর ঘাটে তখন সন্ধ্যার বাতাস ভারী হয়ে নেমেছে। একপাশে মহাত্মা পাণ্ডবদের শিবির, অন্যপাশে নিয়ম মেনে সাজানো কৌরবদের সেনাক্যাম্প। যুদ্ধের রণদামামা বাজার ঠিক আগের মুহূর্তে রাজমহলের রাজনীতি কতটা কটু, কতটা বিষাক্ত হতে পারে—তা প্রমাণ করতেই যেন কৌরবপতি দুর্যোধন তাঁর অনুচর উলুককে ডেকে পাঠালেন। কর্ণ, শকুনি আর দুঃশাসনের সঙ্গে নিভৃত পরামর্শের পর দুর্যোধনের মুখে ফুটল এক হিংস্র হাসি। তিনি উলুককে বললেন, “যাও পাণ্ডবদের শিবিরে। শ্রীকৃষ্ণের সামনে দাঁড়িয়ে অর্জুনকে আমার বার্তা শোনাও। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে বোলো—তিনি তো বড় ধার্মিক, তবে আজ কেন এই অধর্মের পথ? তাঁর এই ধর্ম আসলে এক বিড়াল-তপস্বীর ছদ্মবেশ ছাড়া কিছু নয়!” হিরণ্যবতী নদীর ঘাটে তখন সন্ধ্যার বাতাস ভারী হয়ে নেমেছে। একপাশে মহাত্মা পাণ্ডবদের শিবির, অন্যপাশে নিয়ম মেনে সাজানো কৌরবদের সেনাক্যাম্প। যুদ্ধের রণদামামা বাজার ঠিক আগের মুহূর্তে রাজমহলের রাজনীতি কতটা কটু, কতটা বিষাক্ত হতে পারে—তা প্রমাণ করতেই যেন কৌরবপতি দুর্যোধন তাঁর অনুচর উলুককে ডেকে পাঠালেন। কর্ণ, শকুনি আর দুঃশাসনের সঙ্গে ন...

৪১তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব রক্তস্নানের প্রাক্কালে: দম্ভ, ত্যাগ আর অমোঘ নিয়তি

Image
৪১তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব রক্তস্নানের প্রাক্কালে: দম্ভ, ত্যাগ আর অমোঘ নিয়তি  কুরুক্ষেত্রের আকাশে তখন আসন্ন প্রলয়ের মেঘ। বার্তা এলো, কৌরবদের সেনাপতি পদে বরণ করা হয়েছে বৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্মকে। খবরটা শোনামাত্র শান্ত, স্থির ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির চমকে উঠলেন। অনুজদের আর কৃষ্ণকে কাছে ডেকে ব্যাকুল কণ্ঠে বললেন, "তোমরা অতি সাবধানে থেকো। আমাদের প্রথম লড়াইটাই তো সাক্ষাৎ পিতামহের বিরুদ্ধে! এখনই আমাদের বাহিনী সাজাতে হবে, সাতজন যোগ্য সেনাপতির কাঁধে দিতে হবে দায়িত্ব।" বাসুদেব কৃষ্ণ মৃদু হেসে সায় দিলেন, "রাজন, ঠিক সময় উপযোগি সিদ্ধান্তই নিয়েছেন আপনি। দ্রুত সেনানায়ক নির্বাচন শেষ করুন।". কুরুক্ষেত্রের আকাশে তখন আসন্ন প্রলয়ের মেঘ। বার্তা এলো, কৌরবদের সেনাপতি পদে বরণ করা হয়েছে বৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্মকে। খবরটা শোনামাত্র শান্ত, স্থির ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির চমকে উঠলেন। অনুজদের আর কৃষ্ণকে কাছে ডেকে ব্যাকুল কণ্ঠে বললেন, "তোমরা অতি সাবধানে থেকো। আমাদের প্রথম লড়াইটাই তো সাক্ষাৎ পিতামহের বিরুদ্ধে! এখনই আমাদের বাহিনী সাজাতে হবে, সাতজন যোগ্য সেনাপতির কাঁধে দিতে হবে দায়িত্ব।" বাসুদেব কৃ...
মহাকাব্যের পাতায় কত যুদ্ধই তো লেখা আছে। কিন্তু কুরুক্ষেত্রের সেই মহামানবের সমুদ্র-মন্থনের বহু আগেই, অলক্ষ্যে আর একটি যুদ্ধের বীজ বোনা হয়ে গিয়েছিল। সে যুদ্ধ অসি আর ধনুকের নয়, সে যুদ্ধ অপমান, জেদ আর এক নারীর বুকভাঙা অভিশাপের। ভীষ্ম তখন তাঁর অপরাজেয় যৌবনের চূড়ায়। ভাই বিচিত্রবীর্যের জন্য কাশীরাজের স্বয়ংবর সভা থেকে তিন রাজকন্যা—অম্বা, অম্বিকা ও অম্বালিকাকে বলপূর্বক হরণ করে আনলেন হস্তিনাপুরে। বীরের দর্প, ক্ষাত্রধর্মের হুঙ্কার! কিন্তু অন্তপুরের দরজায় দাঁড়িয়ে জ্যেষ্ঠা কন্যা অম্বা যখন নিচু স্বরে বললেন, “ভীষ্ম, আপনি ধর্মের সূক্ষ্ম গতি জানেন। আমি মনে মনে শাল্বরাজকে বরণ করেছি। আমাকে ক্ষমা করুন।”—ভীষ্ম সেদিন তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ধর্মের মর্যাদায় অম্বাকে যেতে দেওয়া হলো শাল্বরাজের রাজ্যে। কিন্তু পুরুষতন্ত্রের সমাজ বড় নির্মম। শাল্বরাজ অম্বাকে ফিরিয়ে দিলেন এক ঠান্ডা হাসিতে— “যে নারী পরপুরুষের রথে উঠেছে, অন্য হাত যাকে স্পর্শ করেছে, তাকে শাল্ব গ্রহণ করে না। ফিরে যাও হস্তিনাপুরে।” অম্বার মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ল। হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদ তাঁর...

৪০তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব-রণক্ষেত্রের আগুন ও কৃষ্ণের চাল: কুরুক্ষেত্রে সর্বাধিনায়ক নির্বাচনের রোমাঞ্চকর লড়াই

Image
৪০তমভাগ মহাভারতের উদ্যোগপর্ব-রণক্ষেত্রের আগুন ও কৃষ্ণের চাল: কুরুক্ষেত্রে সর্বাধিনায়ক নির্বাচনের রোমাঞ্চকর লড়াই কুরুক্ষেত্রের ধূসর প্রান্তর তখন অগ্নিগর্ভ। শান্তির শেষ বার্তা নিয়ে কৃষ্ণ ফিরে আসার পরেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল—শব্দ আর কূটনীতির দিন শেষ, এবার কথা বলবে অস্ত্র। পাণ্ডব আর কৌরব—দুই শিবিরেই শুরু হলো এক মহাঝড়ের প্রস্তুতি। হস্তিনাপুরের রাজসভা থেকে ফিরে শ্রীকৃষ্ণ যখন পাণ্ডব শিবিরে সব খুলে বললেন, ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেননি। ভাইদের ডেকে বললেন, "যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন আমাদের সাত অক্ষৌহিণী সৈন্যকে সুসংগঠিত করো। দ্রুপদ, বিরাট, ধৃষ্টদ্যুম্ন , শিখণ্ডী , সাত্যকি, চেকিতান আর ভীমসেন—এই সাতজন আমাদের সেনাধ্যক্ষ। কিন্তু এই বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কে হবেন? ভীষ্মরূপ অগ্নির সামনে দাঁড়ানোর সাহস কার আছে?" পাণ্ডব ভাইদের মধ্যে সেনাপতি নির্বাচন নিয়ে মতভেদ দেখা দিল। কনিষ্ঠ সহদেব প্রস্তাব দিলেন মৎস্যরাজ বিরাটের নাম। নকুল বেছে নিলেন প্রবীণ ও শাস্ত্রজ্ঞ রাজা দ্রুপদকে। কিন্তু অর্জুন অন্য পথ হাঁটলেন। তিনি বললেন, "যিনি ধনুক ও কবচ নিয়ে অগ্নিকুণ্ড থেকে জন্মেছেন, সেই ধৃষ্টদ্যুম্নই...